• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন

বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০১৭, ৫:৫৪ PM / ১৪৯
বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা

মোঃ ফজলে রাব্বি, বাগাতিপাড়া (নাটোর) : নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একদিকে চিকিৎসক সংকট অপরদিকে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা। চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে দূর্ভোগের চরম পর্যায়ে পৌচেছে রোগীরা। চিকিৎসক সংকট কাটাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগীরস্বজন ও স্থানীয়রা। অন্যদিকে সরকারী নিয়মের তোয়াক্কা না করে আবাসনসহ দাপ্তরিক বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারনে দেখা দিয়েছে আভ্যন্তরিন অসন্তোষ। আর এসব সংকট নিরসনে ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও যেন উদাসীন।
হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাগজে কলমে ৮ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ৪ জন এবং ইউনিয়ন সাব-সেন্টারগুলোতে ৫ জনের বিপরীতে ৩ জন চিকিৎসক পদায়ন থাকলেও বিভিন্ন কারনে এদের মধ্যেও কয়েকজন হাসপাতালের বাইরে রয়েছেন। এদের মধ্যে ২ জন চিকিৎসক প্রেষণে নাটোর সদরে, ২ জন চিকিৎসক দীর্ঘদিন থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে একজন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং অপর ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে হাসপাতালটির পুরো স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।

1
সুত্র আরো জানায়, চিকিৎসক সংকটের মধ্যেই চিকিৎসক হামিদুল মুলক এবং জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) চিকিৎসক সালমা আক্তার প্রেষণে (ডেপুটেশন) নাটোর সদর হাসপাতালে রয়েছেন। অন্যদিকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ইয়াসের আরাফাত প্রায় চার বছর ও মেডিকেল অফিসার মোফাজ্জল শরিফ প্রায় দুই বছর ধরে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান আছে।
সম্প্রতি আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আবুল হোসেনকে বদলী করায় বর্তমানে মেডিক্যাল অফিসার চিকিৎসক আশিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক আয়েশা সিদ্দিকা আশা এবং চিকিৎসক নুজহাত নওরিন প্রতিদিন সেবা নিতে আসা ৪শ’ থেকে ৫শ’ রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে বহির্বিভাগ ও জরুরী বিভাগের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে তাদের বেড়েছে চাপ। ফলে মাঝে মধ্যেই দিনে-রাতে চিকিৎসক শুন্য থাকছে হাসপাতালটি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে ১৭ নং কক্ষের সামনে বসে জ্বরে কাঁপতে দেখা গেলো ৭০ বছর বয়সের কাঞ্চন বেওয়াকে। ষাটোর্ধ নজিমুদ্দিন এসেছিলেন শারিরিক পরিক্ষার রিপোর্ট দেখাতে। এমন আরো অনেকে দাঁড়িয়ে-বসে অপেক্ষা করছেন ওই কক্ষের সামনে। কিন্ত চিকিৎসক না থাকায় রুমটিতে তালা ঝুলতে দেখা গেলো। অবশেষে ওইসব রোগীদের চিকিৎসা নিতে হয় এসএসিএমও (সাব এ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার)দের কাছে। এ চিত্র এখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতেই প্রায়শই দেখা মেলে।

2
স¦াস্থ্যসেবার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারনে প্রশাসনিক কাঠামোও নড়বড়ে হয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে দেখা দিয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মধ্যেও অসন্তোষ। আবাসন ব্যবস্থাসহ দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে পরিসংখ্যানবিদ আরশাদ আলীর বিরুদ্ধের পাওয়া গেছে এমন অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র জানায়, আরশাদ আলী প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রথম শ্রেণীর আবাসিক বাসা শ্যামলিতে বসবাস করেও সরকারী কোষাগারে ভাড়া পরিশোধ করেননা। স্থানীয়রা এ বিষয়ে ইউএনও এবং সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি। এছাড়াও তার জন্য নাম পদবি সম্বলিত লেখা নির্ধারিত চেয়ার-টেবিল বরাদ্দ থাকলেও দীর্ঘদিন ব্যবহার করছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসারের ৩নং কক্ষ। এছাড়াও অতিরিক্ত ডেক্সটপ ও ল্যাপটপ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তার রিরুদ্ধে। সূত্র আরো জানায়, আরশাদ আলী দীর্ঘদিন নিজ উপজেলায় কর্মরত থেকে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে সরকারী নিয়মকে অনিয়মে পরিণত করছেন। স্থানীয় হওয়াই কর্তৃপক্ষও ব্যবস্থা নিতে পারছেনা বলে জানিয়েছে ওই সুত্র। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আরশাদ আলী জানান, কর্মকর্তাদের বাড়ি ঘর রক্ষনাবেক্ষণের কারনে ওই বাসায় থাকেন। এছাড়াও এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট অব ইনফরমেশন সিসটেম) এর জন্য জায়গা সংকুলান না থাকায় অফিসারের কক্ষে তাঁকে বসতে হয়।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত চিকিৎসক সংকটসহ অব্যবস্থাপনা দূরীকরনে উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে।

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ রবিশঙ্কর মন্ডল মুঠফোনে বলেন, চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মুঠোফোনে নাটোর সিভিল সার্জন আজিজুল ইসলাম বলেন, সারাদেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। তবে বিষয়টি পরিচালক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। পরিসংখ্যানবিদের বাসায় থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৫:৪৮পিএম/১৫/২/২০১৭ইং)