• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

“বাংলা ভাষা নিয়ে কিছু কথা”


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭, ৪:৪৮ PM / ১২৪
“বাংলা ভাষা নিয়ে কিছু কথা”

এ বি এম ফয়েজ উল্যাহ : প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ভারতকে স্বাধীনতা দেয়া হবে, এমন এক আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মহাত্মা গান্ধী শতাধিক ভাষার দেশ ভারতের রাষ্ট্রভাষা কি হওয়া উচিৎ তা জানতে চেয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথকে একখানা চিঠি লেখেন। তৎকালীন সময়ে ভারতে সবচেয়ে বেশি সাড়ে সাত কোটি বাঙালির বাংলাভাষার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে, তার উত্তরে বাংলাভাষার সর্বপ্রধান কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দির পক্ষ নিয়ে লিখে জানান,” The only possible national language for inter provincial intercourse is Hindi in India.” ( রবীন্দ্র বর্ষপঞ্জী –প্রভাত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়)
বাংলায় লিখে বিশ্বখ্যাত হওয়া রবীন্দ্রনাথের জন্য ‘ বাঙালির প্রাণের মাতৃভাষা বাংলা’ অবিভক্ত ভারতের রাষ্ট্রভাষা হওয়া থেকে বঞ্চিত হল। মাতৃভাষার প্রতি এতোবড় ‘ বেঈমানি’ পৃথিবীর ইতিহাসে আর নেই।
ভাষার এ প্রসংগ নিয়ে এবং হিন্দি ভাষার সমর্থনে ১৯১৮ খ্রীষ্টাব্দে বিশ্বভারতীতে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বভারতীয় বহু ভাষাবিদদের মধ্যে ডক্টর তারাপুর ওয়ালা, ভাষাবিদ বিধুশেখর শাস্ত্রী, অধ্যাপক হেমন্ত সরকার এবং মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ( পরে ডক্টর) উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ সহ পন্ডিতবর্গ ভারতের রাষ্ট্রভাষা হিন্দি করার পক্ষে অভিমত প্রকাশ করলে তরুণ শহীদুল্লাহ এর বিরোধিতা করে ভারতের রাষ্টভাষা বাংলা হওয়ার পক্ষে মত ও যুক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,” শুধু ভারতবর্ষে কেন, সমগ্র এশিয়া মহাদেশেই বাংলাভাষার স্থান হবে সর্বোচ্চে।”

১৯৪৭ সালের ৩ রা সেপ্টেম্বর ডক্টর শহীদুল্লাহ Comrade পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লেখেন,” To Surrender Bengali to Urdu or Hindi as the language of the court and University will be a shameful Surrender of Bengal to an outsider……..”

১৯৩৭ সালে মাদ্রাজের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী গোপালাচারী মাদ্রাজের স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটিতে হিন্দিভাষা চালু করার নির্দেশ দিলে ছাত্র- জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। হিন্দিভাষা বিরোধীতা ও তামিল ভাষার জন্য আন্দোলন কালে পুলিশের গুলিতে দুই জন পাণ হারান। বিশ্বে প্রথম ভাষা শহীদ ঐ তামিলেরা।

বাংলাভাষার উপর দ্বিতীয়বার আঘাত হানে পাকিস্তানি শাসকবর্গ।১৯৪৭ এ পাকিস্তান জন্ম নিলে পূর্ববাংলার ৫৬% জনসাধারণের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঢাকায় এসে ঘোষণা দেন,” Urdu only Urdu shall be the state language of Pakistan “. বাঙালিরা তা শুধু মানেনি,তার এবং নুরুল আমিন গং বেঈমানদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে ২১ শে ফেব্রুয়ারি বুলেটের আঘাতে বুকের তাজা রক্ত আর প্রাণ উৎসর্গ করে বাঙালির মাতৃভাষা ‘ বাংলা’ কে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে।
বাঙালির রক্তেকেনা বাংলাভাষা আজ স্বাধীন বাংলাদেশের ‘ মাতৃভাষা’।
অমর ২১ আজ ” আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”।
জিন্নার বেঈমানির কড়া জবাব দিয়ে বাঙালি তার মাতৃবুলি বাংলাকে শৃঙ্খল মুক্ত করতে পেরেছে।
রবীন্দ্রনাথের জন্মভূমি পশ্চিমবাংলার লোকেরা প্রাণ উৎসর্গ করে গুরুদেব !! রবীন্দ্রনাথের বেঈমানির জবাব দিতে সক্ষম হয়নি। তাদের ঘাড়ে এখনো ‘ হিন্দি’ র জোয়াল।
তাহলে ” হিন্দি” কে রাষ্টভাষা করার জন্য রবীন্দ্রনাথ যে ‘ বাঙালি ও বাংলা ভাষার প্রতি বেঈমানি করলেন,তাঁকে বাঙালি মাত্রই কি অভিধায় অভিধিত করবেন?

লেখক : এ বি এম ফয়েজ উল্যাহ
(ভাষা বৈরি রবীন্দ্রনাথ ও জিন্নাহ)
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৪:৪৫পিএম/২১/২/২০১৭ইং)