• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

বছরের পর বছর শেকলে বেঁধে নিরীহ জীবকে ধর্ষণ!


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৯, ২০১৮, ১২:০২ AM / ৮৯
বছরের পর বছর শেকলে বেঁধে নিরীহ জীবকে ধর্ষণ!

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : সভ্য যুগে বাস করেও অসভ্যতা আমাদের মাঝে মাঝে থমকে দেয়। কখনো কখনো সে অসভ্যতা আমাদের মানবজীবনকে প্রশ্নবিদ্ধও করে। তেমনই একটি ঘটনার কথা জানা গেল আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে। যেখানে উঠে এসেছে কীভাবে একটি নিরীহ জীবকে বছরের পর বছর নির্যাতিত হতে হয়ে ধর্ষণের মতো বিষয়ে।

আনন্দবাজারের ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের জঙ্গলে জন্ম হয়েছিল পনি নামের এক ওরাংওটাংয়ের। কিন্তু শিশু অবস্থাতেই মায়ের কোল থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় কিছু দুর্বৃত্ত। পরে তাকে পতিতালয়ে নিয়ে গিয়ে যৌনদাসীতে পরিণত করে। সেখানে তার গায়ের পশম কামিয়ে দেওয়া হতো রোজ। পরানো হতো গয়নাগাটি। গায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হতো পারফিউম। তারপর পাশের তেলের কারখানা থেকে আসা শ্রমিকদের টাকার বিনিময়ে তার কুঁড়েঘরে ঢুকিয়ে দিত দালালরা। শেকলে বেঁধে রেখে ইচ্ছেমতো তার ওপর নিজেদের যৌন লালসা মিটিয়ে যেত একের পর এক মানুষ। সেই অবস্থাতেই দিন কাটছিল তার।

সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে ১৫ বছর লেগে যায় তার। ব্রিটেনের ‘দ্য সান’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ১৯৯৪ সালে বাপ-মাহারা ওরাংওটাংদের উদ্ধারে নামেন পেশায় শিক্ষিকা মিশেল ডেসিলেটস। বোর্নিওতে ওরাংওটাংদের শুশ্রূষার একটি সংস্থায় ছিলেন তিনি। সেখানে ২০০৩ সালে পনিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় মারাত্মক অবস্থা ছিল পনির। রোজ পশম তুলে দেওয়ায় মশা-মাছি এবং পোকামাকড়ের কামড়ে তার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। শিকল বাঁধা অবস্থায় একের পর এক পাষণ্ডের লালসার শিকার হতে হতে মানুষের ওপর আস্থা হারিয়েছিল সে। তাই কোনো মানুষকে কাছে আসতে দেখলেই ভয়ে সিঁটিয়ে যেত সে।

পনিকে বন্দীদশা থেকে উদ্ধারের অভিযানটিও ছিল সাংঘর্ষিক। তাকে মুক্ত করতে ৩৫ জনের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। গ্রামবাসীরা পুলিশ বাহিনীকে প্রথমে তাদের এলাকায় ঢুকতেই দেননি, এ কারণে যে, পাছে তাদের আয়ের উৎসটি হাতছাড়া হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে রীতিমতো সংঘর্ষের পর পনিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তারপর থেকে তার চিকিৎসা এবং শুশ্রূষা চলছিল। এতদিনে সে স্বাভাবিক হতে পেরেছে।

অবাক করা মতো তথ্য হরো, পনিকে উদ্ধার করা গেলেও, তার মতো অসহায় জীবদের নিয়ে অনেক দেশেই দেহ ব্যবসা চালানো হয় রমরমিয়ে। ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমেও দরাদরি চলে। তাতে একেকটি জন্তুর দাম ওঠে লাখ লাখ টাকা।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১২:০৫এএম/২৯/১১/২০১৮ইং)