• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

‘আমি এখন আমার মেয়েকে কোলে নিতে পারি’


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৭, ২০১৭, ৭:৩৭ PM / ১৪৮
‘আমি এখন আমার মেয়েকে কোলে নিতে পারি’

 

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ‘কখনো ভাবিনি যে, আমি আমার মেয়েকে আবার কোলে নিতে পারব; কিন্তু আমি এখন সেটা পারি। আমি এখন অনেক ভালো আছি, তাকে কোলে নিতে পারছি, তার সঙ্গে খেলা করতে পারছি।’ যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তাসংস্থা দ্যা টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশের বৃক্ষমানব হিসেবে পরিচিত আবুল বাজনদার।

প্রায় এক বছর আগে বিরল ‘এপিডারমোডিসপ্লেসিয়া ভেরুসিফরমোস’ রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন আবুল বাজনদার। তখন তার হাত ও পায়ে গাছের বাকলের মত শিকর ছিল। ১৬টি জটিল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা তার হাত ও পা থেকে প্রায় ৫ কেজি বাকল অপসারণ করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন দ্যা টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘বাজনদারের রোগমুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। আমরা তার হাত ও পায়ের বাকল অপসারণের জন্য ১৬ বার অস্ত্রোপচার করেছি। সে এখন খুব ভালো আছে। আশা করছি, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। তবে তার আগে বাজনদারের আরো কিছু ছোটখাটো অস্ত্রোপচার করা লাগবে।’

প্রায় এক বছর পরিবার নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে থাকছেন বাজনদার। এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ। এ কারণে বাড়ি ফেরার জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি।

দ্যা টেলিগ্রাফকে তিনি বলেন, ‘এক বছর ধরে এখানে কোনো ধরনের টাকা-পয়সা ছাড়াই চিকিৎসা নিচ্ছি। এখন বাড়ি যেতে চাচ্ছি। আমার অতীতের দিনগুলো যে কি অবর্ণনীয় ছিল তা আমি বলে বুঝাতে পারব না।’

বাজনদারের বিষয়ে ঢাকা মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুন নাহার বলেন, ‘তিনি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চিকিৎসা নেওয়া কোনো রোগী। তিনি এখানে আমাদের আপনজনের মতো হয়ে গেছেন। আমরা সবাই তাকে খুব ভালোবাসি।’

সারাবিশ্বে বিরল এপিডারমোডিসপ্লেসিয়া ভেরুসিফরমোস রোগে আক্রান্ত চারজনের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গত বছর ইন্দোনেশিয়াতে একজন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে জানান ডা. সামন্তলাল সেন।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে বাজনদারই সম্ভবত প্রথম ব্যক্তি যিনি জটিল এই রোগ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, বাজনদারের পক্ষে ভারী কোনো কাজ করা সম্ভব হবে না। তিনি যাতে ছোটখাটো কিছু ব্যবসা করে তার জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন সেজন্য সমাজের বিত্তবানরা তাকে কিছু সহযোগিতা করেছেন। আরো কিছু সহযোগিতা পেলে হয়তো তার পক্ষে জীবিকা নির্বাহ সহজ হবে বলে জানান চিকিৎসকরা।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৭:৩৫পিএম/৭/১/২০১৭ইং)