

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : কফি পান করতে ভালোবাসেন? তাহলে আপনার জন্য সুখবর। একটি নতুন গবেষণায় জানা গেছে, প্রতিদিন কফি পান করলে আপনার লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। এমনকি ডিক্যাফেইনেটেড কফি থেকেও এই সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
ইউনিভার্সিটি অফ সাউদাম্পটন এবং এডিনবার্গের বিজ্ঞানীরা পুরনো ২৬টি গবেষণার মেটা-অ্যানালাইসিস করেন। এসব গবেষণায় ২ মিলিয়নেরও বেশি অংশগ্রহণকারী ছিল। কফি পান এবং হেপাটোসেলুলার ক্যান্সার (HCC) এর মাঝে সংযোগ নিয়ে এসব গবেষণা হয়েছিল। প্রাইমারি লিভার ক্যান্সারগুলোর মাঝে সবচাইতে বেশি দেখা যায় HCC।
কফি পানের সাথে লিভারের সুস্থতার সংযোগ এর আগেও পাওয়া যায়। ২০১৬ সালে WHO এর একটি প্রতিবেদনে ১,০০০ টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয় এবং দেখা যায়, কফি পান কমাতে পারে লিভার এবং ইউটেরাইন দুই ধরণের ক্যান্সারের ঝুঁকি।
ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা HCC এবং কফি পানের মাঝে সংযোগ বের করার ক্ষেত্রে প্রথম। পৃথিবীতে সবচাইতে বেশি দেখা যাওয়া ক্যান্সারগুলোর মাঝে প্রাইমারি লিভার ক্যান্সার ষষ্ঠ। কিন্তু এটা সহজে শনাক্ত করা যায় না বলে তা ক্যান্সারে মৃত্যুর ক্ষেত্রে পৃথিবীতে দ্বিতীয়। ৯০ শতাংশ ক্রনিক লিভার ডিজিজ থেকে HCC হতে পারে। বয়স্ক মানুষ, যাদের ইতোমধ্যেই লিভার সিরোসিস আছে তাদের এটা বেশি হতে দেখা যায়। মাত্র ১০-৩৭ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার অপসারণ সম্ভব হয়।
গবেষণাটি বলে, প্রতিদিন এক কাপ কফি পান করলে HCC হবার সম্ভাবনা কমে ২০ শতাংশ। দুই কাপ পান করলে ঝুঁকি কমে ৩৫ শতাংশ। ডিক্যাফ কফিও এই ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছু অংশে কমিয়ে দিতে পারে।
“আমরা দেখাতে পেরেছি যে নিয়মিত ডোজ নিলে কফি কমিয়ে আনতে পারে সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সারের সম্ভাবনা,”, বলেন ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের অধ্যাপক পিটার হেইস। “আরও অনেক রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারে কফি। আমাদের গবেষণা থেকে বেশ প্রমাণ পাওয়া যায় যে, পরিমিত পরিমাণে পান করা হলে কফি একটি দারুন প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে।”
এই গবেষণা আরও বলে, লিভার ক্যান্সারের পরিমাণ বেড়ে চলেছে এতই দ্রুত, যে ২০৩০ সালের মাঝে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১.২ মিলিয়নে দাঁড়াতে পারে। তবে সারা বিশ্বে কফি পান করার পরিমাণ বাড়তে থাকলে হয়তো তা নিয়ে এত চিন্তার কিছু থাকবে না। সূত্র: আই এফ এল সায়েন্স
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১:২৩পিএম/৯/৬/২০১৭ইং)
আপনার মতামত লিখুন :