• ঢাকা
  • শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন

যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানালেন ডেইজী সারওয়ার


প্রকাশের সময় : জুলাই ৬, ২০২৩, ৪:১৬ PM / ৮৭২
যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানালেন ডেইজী সারওয়ার

রিপন শান : আজ ৬ জুলাই, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের ২১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। শুভ জন্মদিনে উৎফুল্ল বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ নেতাকর্মীরা। ২০০২ সালের ৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময়ের দাবীকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সংগঠনটি সৃষ্টি করেন।
শুভদিনে তাঁর প্রতি হাজারো শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রগাঢ় শ্রদ্ধার সাথে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কে স্মরণ করেন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের বর্তমান সভাপতি, বাংলাদেশের যুবরাজনীতি ও রাজপথের অগ্রসেনানী, সময়ের সাহসী নারীকণ্ঠ ডেইজী সারওয়ার।

তিনি বলেন- আন্দোলন, সংগ্রাম ও সাফল্যের সংগঠন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ। ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর খালেদা – নিজামী জোট সরকার ক্ষমতা দখলের পর হত্যা, খুন, গুম ছিল বিএনপির নিত্যদিনের বিষয়। এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতিতে-২০০২ সালের ৬ জুলাই
গণতন্ত্রের মানস কন্যা বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত জননেত্রী শেখ হাসিনা চার দলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে নারী সমাজকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। পারিপার্শ্বিক কারণে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনেককেই ঠিক মতো কর্মসূচিতে পাওয়া যেত না। তখন সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ঢাকাতে প্রথম থানা কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই দুর্বিষহ পরিবেশে আমিই (প্রথম থানা) মোহাম্মদপুর থানার যুব মহিলা লীগের প্রথম থানার সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং সফলতার সাথে প্রতিটি আন্দোলনে ভূমিকা রাখি। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক প্রতিটি কাজ পুণ্যভূমি সিলেট থেকে শুরু করেন। সেই সুবাদে সিলেট থেকে কমিটি শুরু করার নির্দেশে দেন।সেদিন নেত্রী আমাকে বলেছিলেন সিলেটে মেয়ে বের করতে পারব কিনা। আমি আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেছিলাম আপা অবশ্যই পারবো। নেত্রী বলেছিলেন দশজন মেয়েও যদি সিলেটের রাজপথে আসে তাও আমরা স্বার্থক। আমি বলেছিলাম আপা আপনার দোয়া থাকলে সিলেটে হাজার মেয়ে বের করবো ইনশাআল্লাহ। সেদিন নেত্রী আমাকে দুটি কথা বলেছিলেন ১| “সিলেটের মেয়েরা হয় ফাস্ট না হয় স্লো হয় মাঝামাঝি হয় না” আমার চুল বয়কাট ছিলো আমি নেত্রীকে বলেছিলাম আপা ছোট চুল দেখে বললেন।আপা হাসি দিয়ে একটা খাতা হাতে দিয়ে বললেন যাও গিয়ে কাজ কর।সেই খাতাটা আজও আমি রেখে দিয়েছি আমার নেত্রীর হাতের ছোঁয়া। আরেকটা কথা বলেছিলেন তুমি যখন কাজ করতে যাবে অনেকেই বলবে “এইটা আবার কি নতুন দোকান নিয়ে এসেছো” আমি অবাক হয়ে গেলাম সেদিন সিলেটে কাজ করতে যাবার পর হুবহু আপা যে বাক্যটা বলেছিলেন, নেতারা আমাকে বললেন ” এটা আবার কিতা নতুন দোকান লইয়া আইছো “আমি যখন বললাম নেত্রী আমাকে পাঠিয়েছেন কেউই বিশ্বাস করলো না আমার কথা সহযোগিতা করন নাই কোন পাত্তা দেয় নাই। কিন্তু আমি সাফল্যের সাথে সিলেটে বিশাল মিছিল করে অসংখ্য মেয়েদের উপস্থিতিতে কমিটি উপহার দিতে পেরেছিলাম। পত্রিকায় নিউজ হয়েছিল স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ডেইজি সারোয়ারের নেতৃত্বে সিলেট যুব মহিলা লীগ এবং বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের একটিমাত্র কমিটি যা নেত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন সেটি হচ্ছে সিলেট জেলা। বাংলাদেশে বিভাগীয় পর্যায়ে সিলেট বিভাগে প্রথম যুব মহিলা লীগের সংগঠন তৈরী করেছি।সেজন্য আমি গর্বিত।

ডেইজী সারওয়ার আরো জানান- সফলভাবে সিলেট বিভাগে দায়িত্ব পালন করার পর চট্টগ্রাম বিভাগে সংগঠন গোছানোর জন্য সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। কারণ দুটি বিভাগই হচ্ছে সংরক্ষিত এলাকা। যেখানে মহিলারা কখনোই বের হয় না।শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি তখনকার মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ভাইকে। উনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছিলেন। সেই সময়ে আমি খুবই ঝুকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সাহসীকতার সাথে যুব মহিলা লীগের কর্মীসমর্থকদের নিয়ে টেকনাফে “0” পয়েন্টে গণ অনাস্থা প্রাচীরে অবস্থান নিয়েছিলাম। রাজনৈতিক কারনে বিশেষ করে জোট সরকারে (২০০২-২০০৬) রোষানলের স্বীকার হয়ে বারবার কারা বরন ও করেছি। এছাড়া বিএনপি- জামায়াত জোটের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনীর হাতে অসংখ্য বার নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি। এখনও শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন বহন করছি। যুব মহিলা লীগের অনেক নেতাকর্মীই তখন বাড়িতে থাকতে পারতো না ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় যুব মহিলা লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন- শুধু গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলন সংগ্রামে নয়, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও পানির দাবিতে রাজপথে ছিলো যুব মহিলা লীগ। এছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রতিটি আন্দোলন ও কর্মসূচীতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলো যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শুরু হলো আন্দোলনের আরেক অধ্যায়। সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিন আহমেদের অবৈধ ১/১১ সরকার জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করলে প্রিয় নেত্রীর মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখে । প্রাণের নেত্রীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আন্দোলন করলে তখন কোর্ট প্রাঙ্গণে দুজন যুব মহিলা লীগ নেত্রী কে গ্রেফতার করে পুলিশ। জরুরি অবস্থার বিধি-নিষেধ, পুলিশি নির্যাতন ও গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে যুব মহিলা লীগ সর্বপ্রথম নেত্রীর মুক্তির দাবিতে ২০০৮ সালের ২০ মার্চ বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা ডেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গণ অনশন কর্মসূচি পালন করে। সেই কর্মসূচি থেকে আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দ নেত্রীর মুক্তির জন্য হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ আদালত প্রাঙ্গণে নেত্রীর মুক্তির দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ সমাবেশ করতাম আমরা যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীবৃন্দ। ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেত্রীর কারামুক্তির দাবিতে সর্বপ্রথম যুব মহিলা লীগ গণস্বাক্ষর কর্মসূচীর আয়োজন করে। এবং সারাদেশ থেকে ২ লক্ষ মা-বোনের স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারক লিপি ২০০৮ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয় যুব মহিলা লীগ। তীব্র আন্দোলনের মুখে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আন্দোলনের চাপে বাধ্য হয়ে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলো। ২০০৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করেছিলো। ২০১৪ সালের ৫ ই জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি জামায়াতের অগ্নি সন্ত্রাস ও মানুষ পুড়িয়ে মারার অপরাজনীতি মোকাবেলায় ও যুব মহিলা লীগ পালন করেছিলো সাহসী ভূমিকা। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গোপালগঞ্জ জেলাকে কটাক্ষ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বাড়ি ফেরার পথে হাইকোর্টের সামনে বিএনপি জামায়াতপন্থী আইনজীবিদের হামলার স্বীকার হন যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১০০ দিনের পেট্রোল বোমার সন্ত্রাসে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রী গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন।
যুব মহিলা লীগ সভাপতি ডেইজী সারওয়ার আরো বলেন-
দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র ও জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান এর চেষ্টা বিএনপি জামাতের অগ্নি সন্ত্রাস, মহামারী করোনা, সবকিছু মোকাবেলা করে পরপর তিনবারসহ টানা চতুর্থ বারের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিশ্ব দরবারে উন্নয়ন সমৃদ্ধির এক বিস্ময় নাম বাংলাদেশ। আর এই অগ্রযাত্রায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুব মহিলা লীগ অতীতের মতো সকল ষড়যন্ত্র অপরাজনীতিকে রুখে দেবে। এগিয়ে যাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে। সেই স্বপ্নযাত্রায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাহু জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে আছে যুব মহিলা লীগ। এবং বহু ঘাত-প্রতিঘাত, প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা, সাম্য আর প্রগতির সংগঠন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ। সংগঠনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সকলস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই এবং সংগঠনের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করি।
সংগঠনের শুরু থেকে কাজ করা একজন একনিষ্ঠ, নিবেদিত কর্মী থেকে আমাকে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়ায় আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের একমাত্র অভিভাবক, আমাদের আশার বাতিঘর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ভাইয়ের প্রতি। একই সঙ্গে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকাকে পুনরায় বিজয়ী করতে, সমগ্র অপশক্তি, স্বৈরাচার, মৌলবাদ, নারী বিদ্বেষী মনোভাব, বিএনপি-জামাতের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কোনো নেতাকর্মী পিছপা হবে না, আজ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে সংগঠনের প্রত্যেককে এই অঙ্গীকার গ্রহণের আহ্বান জানাই। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।