• ঢাকা
  • বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন

মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ‘আইভীর নাম ঘোষণা’কে ঘিরে বিতর্কে বিভা হাসান!


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ৯:০১ PM / ৬০
মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ‘আইভীর নাম ঘোষণা’কে ঘিরে বিতর্কে বিভা হাসান!

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও কেক কাটার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে বিস্ময় ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের সিটি পার্কে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা ও কেক কাটার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঞ্চ থেকে সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম প্রধান অতিথি হিসেবে ঘোষণা করা হলে উপস্থিত অনেকেই বিষয়টি নিয়ে হতবাক হয়ে যান বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন আয়োজক আফসানা আফরোজ বিভার সচিব রানা।
আইভীর নাম ঘোষণার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর বর্তমানে কারামুক্ত থাকার প্রেক্ষাপটে। ফলে বিএনপির অঙ্গসংগঠন মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাকে প্রধান অতিথি হিসেবে ঘোষণা করা কীভাবে হলো—এ নিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়।
একের পর এক বিতর্কে আফসানা আফরোজ বিভা
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আফসানা আফরোজ বিভাকে ঘিরে এর আগেও বিভিন্ন সময় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি। এর আগে মহানগর বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে মহানগর মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য রাশিদা জামালকে নিয়ে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়।
এছাড়া আলী আহম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত ‘ডাকাত শহীদ’-কে অতিথি করার বিষয়টিও তখন ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আফসানা আফরোজ বিভার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং তৎকালীন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে বিভা হাসানের উপস্থিতি ছিল।
তাদের দাবি, ওই সময় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও নেতাদের সঙ্গে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও বিভিন্ন মাধ্যমে দেখা গেছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন কি না, তা নিয়েও বিএনপির তৃণমূলে প্রশ্ন রয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে আফসানা আফরোজ বিভাকে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা মহিলা দলের নিয়মিত কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যায়নি। অথচ ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও করছেন দলের মাঠপর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী।
চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ, বিভার বক্তব্য জানা যায়নি
এদিকে আফসানা আফরোজ বিভাকে ঘিরে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নারায়ণগঞ্জের কিছু তৃণমূল নেতাকর্মী। তাদের অভিযোগ, ‘ডাকাত শহীদ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ব্যবহার করে জিমখানা, বাবুরাইল ও কাশিপুর এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং এর সঙ্গে বিভা হাসানের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আফসানা আফরোজ বিভার সরাসরি বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তৃণমূলের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন বিতর্কের পরও আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে ‘ডাকাত শহীদ’-এর উপস্থিতি দেখা যায়। এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা থাকলেও বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

সর্বশেষ মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম প্রধান অতিথি হিসেবে ঘোষণা এবং পরে তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশের ঘটনা নতুন করে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও অনুষ্ঠান পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, দলীয় অনুষ্ঠানে অতিথি নির্বাচন ও রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সাংগঠনিকভাবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
তাদের মতে, অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বর্তমান দলীয় অবস্থান এবং সাংগঠনিক ভূমিকা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই নেতৃত্বের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে ধারাবাহিক বিতর্ক তৈরি হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সর্বশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও মহিলা দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আফসানা আফরোজ বিভাকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, প্রমাণ ও সাংগঠনিক তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নারায়ণগঞ্জের বিএনপি ও মহিলা দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটির পর দলীয় নেতৃত্ব বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক এড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়—সেদিকেই এখন নজর নেতাকর্মীদের।