• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

‘ভূতের বাচ্চা সোলায়মান’ স্রেফ অজুহাত মাত্র!


প্রকাশের সময় : মার্চ ৭, ২০১৮, ১২:০৫ PM / ১২২
‘ভূতের বাচ্চা সোলায়মান’ স্রেফ অজুহাত মাত্র!

 
ইকবাল মাহমুদ অনিক : জাফর ইকবাল স্যারের উপর হামলাকারীর অভিযোগ, তিনি ইসলামের শত্রু এবং “ভূতের বাচ্চা সোলায়মান” লেখার কারণে এই হামলা। চলেন সোলায়মান নামের ব্যক্তিদের কর্মকান্ড দেখি..

১. চাঁদার রশিদে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে এতিমখানার নামে টাকা তুলেছিলেন এক জামায়াত নেতা। এই প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ জামাত নেতা সোলায়মানকে আটক করে। (তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৪ মার্চ ২০১৮)

আচ্ছা বলুন তো, ইসলাম কি প্রতারণাকে সমর্থন করে? সোলায়মান নবীর নামের এই ব্যক্তি যদি অপরাধ করে থাকে, তাহলে সেটিকে কি সোলায়মান নবীকে অবমাননা করা হবে বলে মনে করেন?

২. ২০১৫ সালে শেরপুরে রাজাকার সোলায়মান আটক হয়। যার বিরুদ্ধে ৭১-এ অগ্নিসংযোগ, হিন্দু মেয়েদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে ধর্ষণ, লুট করবার মতন অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ এর ২৬ অক্টোবর এই রাজাকার বিচার চলাকালে মারা যায়। (তথ্যসূত্র- মানবজমিন, ২৬ নভেম্বর, ২০১৬)

ধর্ষণ, লুট- প্রত্যেকটি অপরাধ ইসলামের দৃষ্টিতে পাপ। এখন রাজাকার সোলায়মানের বিচার করাকে কি আপনি নবীজীর অবমাননা মনে করেন?

৩. বহুল আলোচিত প্রশ্নফাঁসের মতো জঘন্য অভিযোগে শেরপুর থেকে সোলায়মান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। (তথ্যসূত্র- ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বাংলাদেশ প্রেস)

এবার বলুন, সোলায়মান নামের যুবক যে প্রশ্ন ফাঁস করলো, সেটিতে কি নবীর অবমাননা হয়েছে? মানুষ পরিচিত হয় তার কর্মে, নামে নয়। উপরের প্রত্যেকটা ব্যক্তি খারাপ কাজ করেছে। তার মানে এই নয় যে সোলায়মান নামের সব ব্যক্তি খারাপ! একই সাথে এও প্রমাণ করে সোলায়মান মানেই নবী সোলায়মান নন। নবী সোলায়মান বেঁচে আছেন তার কর্মে। একই সাথে ইসলাম ধর্মের কোথাও কি বলা আছে, সোলায়মান নাম কেবল একজন নবীর হবে? এই নাম কেবল সোলায়মান নবীর নামেই পেটেন্ট করা হয়েছে? অবশ্যই না! একই সাথে নিশ্চয়ই সোলায়মান নামের কোন ব্যক্তি যদি অপরাধ করে তাহলে সেটা ঐ ব্যক্তির। অপরাধ সোলায়মান নবীর নয়।

এইবার বলুন, জাফর ইকবাল স্যারের “ভূতের বাচ্চা সোলায়মান”-বইটিতে যে নবী সোলায়মানকে বুঝিয়েছেন তিনি, সেটা ওই বইয়ের কোথায় উল্লেখ করা আছে? সোলায়মান নামে যদি চোর, ধর্ষক রাজাকার, প্রতারক থাকতে পারে, তাহলে একটি গল্পে লিখতে দোষ কোথায়? এসব বলছি এই কারণে যে হামলাকারী নাকি ‘ভূতের বাচ্চা সোলায়মান’ লেখার কারণে স্যারের উপর হামলা করেছে!

‘ভূতের বাচ্চা সোলায়মান’ গেল বইমেলায় এসেছিল। স্যারের বিরুদ্ধে প্রথম হত্যার হুমকি আসে ১৯৯৯ সালে। যখন শহীদ জননীর নামে সাস্টের একটি হলের নাম হয়। নাস্তিক ট্যাগ তো তখন থেকেই দেয়া। কে দিয়েছিল জাহানার ইমামকে ইসলামবিরোধী ট্যাগ? কেন দিয়েছিল?

হ্যাঁ! রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাঈদি দিয়েছিল এই ট্যাগ, যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গণআদালত বসানোর জন্য। আর জাহানার ইমামের পক্ষে কথা বলাতেই জাফর স্যার হয়ে গেলেন ইসলামের শত্রু! ইসলাম তো ন্যায় আর ইনসাফের কথা বলে! হত্যা, ধর্ষণ, জোর করে ধর্মান্তরিত করা, এগুলো তো জঘন্য অপরাধ। তাহলে এর বিরুদ্ধে বলা, কী করে ইসলামের বিরুদ্ধে বলা হয়?

একজন মানবতাবিরোধী, জঙ্গীবাদের মদদদাতা, একজন হত্যাকারী দেলোয়ার হোসেন সাঈদি কি করে ইসলামের রক্ষাকারী হয়? কী করে সে কোন মুসলিমকে অমুসলিম ট্যাগ দেয় যেখানে স্পষ্ট পবিত্র কোরআন শরীফে (সুরা বাদঃ ৪০) বলা আছে, “তোমাদের কাজ তো কেবল প্রচার করা আর হিসাব নিকাশ তো আল্লাহর কাছে”। কারণ, তারা নিজেদের কুকর্ম ঢাকতেই ধর্মকে ঢাল বানাচ্ছে অবিরাম।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, ভূতের বাচ্চা সোলায়মান স্রেফ অজুহাত মাত্র। যেহেতু স্যার যুদ্ধাপরাধী,জামাত শিবির এবং মৌলবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন- তারাই অপপ্রচার চালিয়ে আপনার কানে ওই ফুস মন্তর দিয়েছে। ভুলে গেলেন এরাই মাওলানা ফারুকী আর শোলাকিয়ায় ঈদের ময়দানে হামলা করেছিল?

সমীকরণটা খুব সহজ। হয় এ দেশটা সিরিয়া-লেবানন হয়ে যাবে, নতুবা পৃথিবীর বুকে টিকে থাকতে হবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে। যদি ২ নম্বরটিই আপনার উত্তর হয়, তাহলে প্রতিবাদ করুন আপনার মতো করে, অনলাইনে কিংবা অফলাইনে।

‘যতই ঘাড়ে কোপ মারো, ঘাড়টা আমাদের ত্যাড়াই আছে। দেশের জন্য!’

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১২:০৫পিএম/৭/৩/২০১৮ইং)