• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরকে ইঙ্গিত : বসন্তের কোকিল এখন দুষ্টু কোকিল


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৫, ৯:৫১ PM / ৩৬৯
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরকে ইঙ্গিত : বসন্তের কোকিল এখন দুষ্টু কোকিল

রুপগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দলে ভিড়াচ্ছে। রূপগঞ্জে তাদের অস্তিত্ব না থাকায় এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশে না পেয়ে দল ভারী করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেছে। বসন্তের কোকিল এখন দুষ্টু কোকিল হয়ে গেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এখন এ ধরণের সংলাপ বেশ চাউর হচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝেও দুষ্টু কোকিল বলে ডাকাডাকি করছেন।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামানকে ইঙ্গিত করে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ‘বসন্তের কোকিল এখন দুষ্টু কোকিল’ বলছে। কারণ হিসেবে অনেকেই এমন ধরণের স্ট্যাটাসে বলছেন- আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাজী মনিরুজ্জামান ও তার সমর্থিত নেতারা বিএনপিতে স্থান দিচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে বলছেন- রূপগঞ্জ উপজেলা তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহম্মেদকে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলে স্থান দিয়েছেন কাজী মনির সমর্থিত নেতা মাহাবুবুর রহমান। ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন করে রূপগঞ্জে প্রচারণা চালাচ্ছেন রাসেল আহম্মেদ। রাসেল আহম্মেদ নিজেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা পরিচয় দিয়ে কাজী মনিরুজ্জামান, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক শরিফ আহমেদ টুটুল ও মাহাবুব রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। অপর পোস্টার ও ফেস্টুনে দেখা যাচ্ছে সাবেক এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী, তার ছেলে গোলাম মর্তুজা পাপ্পা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুঁইয়ার ছবি দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর এমন বহু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কাজী মনিরের সাথে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেছেন। এজন্যই বিএনপির নেতাকর্মীরা কাজী মনিরকে বসন্তের কোকিল হিসেবে দেখছেন। সেই সাথে তাকে দুষ্টু কোকিল বলেও প্রচারণা করছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল মামুন বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন- আওয়ামী লীগের লোকজনকে বিএনপিতে না নিতে। অথচ প্রবীণ নেতা হয়েও কাজী মনিরুজ্জামান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রূপগঞ্জে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। যা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। এছাড়াও তারাব, রূপগঞ্জ, কায়েতপাড়া, গোলাকান্দাইল, ভুলতা, কাঞ্চন, দাউদপুর, ভোলাব এলাকায় কাজী মনিরুজ্জামানের সাথে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা কাজী মনিরুজ্জামানের সাথে বিএনপির রাজনীতি করছেন। এসব সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে রূপগঞ্জ বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী রাতে ঘরে থাকতে পারেনি। হামলা, মামলা দিয়ে হয়রানি করতো। এখনোও ওইসব সন্ত্রাসীরাই মাঠে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দখলবাজী করছে। ওই ধরণের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের অবিলম্বে দল থেকে বের করে দেয়ার দাবি জানান এই নেতা।
তৃণমূল বিএনপির প্রবীন একাধিক নেতা বলেন, কাজী মনিরুজ্জামান বিগত দিনে বসন্তের কোকিলের মতো বছরে দুয়েকবার দেখা মিলতো। নির্বাচন এলে এলাকায় আসতো। অন্য সময় নিজেকে গাঢাকা দিতো। ৫ আগস্টের পর আবারো রূপগঞ্জে এসে দুষ্টু কোকিলের মতো কাজ করছে। তিনি বিএনপির মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করছে। তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান জানান, বিএনপি একটি বড় দল। এই দলের সু-সময়ে অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশ থাকতেই পারে। তাছাড়া বিগত দিন তারা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, বিএনপি সব সময় স্বচ্ছ রাজনীতি করে। সন্ত্রাসী দল আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার কোনো দোসরকে বিএনপিতে স্থান দেয়া হবে না। সন্ত্রাসী দলের নেতাকর্মীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আওয়ামী লীগের কোনো দোসরের যেনো অনুপ্রবেশ না ঘটে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একপর্যায়ে এডভোকেট মাহফুজ বলে উঠেন- বসন্তের কোকিল এখন দুষ্টু কোকিল হয়ে গেছে।