• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

বিএনপি ছেড়ে আ.লীগে : অবৈধভাবে পুকুর কাটতে!


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৮, ২০১৭, ৭:৩৫ AM / ১৭০
বিএনপি ছেড়ে আ.লীগে : অবৈধভাবে পুকুর কাটতে!

ঢাকারনিউজ২৪.কম:রাজশাহী:

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অবৈধভাবে পুকুর কাটতে বিএনপির এক নেতা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেওয়ার সুবাদে তিনি নির্বিঘ্নে পুকুর খনন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের।

ওই ব্যক্তির নাম গোলাম রব্বানী। বাড়ি উপজেলার জয়রামপুর গ্রামে। তিনি উপজেলার পাকড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোলাম রব্বানী চলতি বছরের শুরুতে গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পৌর এলাকার চকবোনাই মৌজায় ২৫০, ২৫৩ ও ২৫৪ দাগের ওপরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ধানি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন শুরু করেন। এই জমির পাশে পৌর এলাকার পাঁচগাছিয়া মহল্লার বাসিন্দা সুফিয়া খাতুনের ১ বিঘা ২ কাঠা ধানি জমি রয়েছে। গোলাম রব্বানী এমনভাবে পুকুরের পাড় নির্মাণ করছেন, যাতে চকবোনাই, হাটপানিয়া ও জয়রামপুর মৌজার সব পানি সুফিয়া খাতুনের জমির ওপর দিয়ে গড়িয়ে যাবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫ জানুয়ারি ধানি জমিতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে সুফিয়া খাতুনের পক্ষে তাঁর ভাই আব্দুস শুকুর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে গোলাম রব্বানী ও তাঁর ভাই জারজিস আলীকে প্রতিপক্ষ করা হয়।

লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ ফেব্রুয়ারি সহকারী কমিশনারের কার্যালয় থেকে গোলাম রব্বানী ও তাঁর ভাই জারজিস আলীকে নোটিশ দেওয়া হয়। তাঁদের ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণাদিসহ সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। কিন্তু গোলাম রব্বানী শুনানির আগের দিন স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর হাতে হাত রেখে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরদিন তিনি আর সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত শুনানিতে উপস্থিত হননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে গোলাম রব্বানী তাঁর পুকুর খনন সম্পন্ন করেছেন।

সুফিয়ার ভাই আব্দুস শুকুর বলেন, তাঁর বোনের ওই একখণ্ডই আবাদি জামি। তাঁর ভগ্নিপতি দিনমজুর। দুটি মেয়ে পড়াশোনা করে। তাদের খরচ জোগাড় করতে হয়। গোলাম রব্বানীর কাছে শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর পুকুরের পশ্চিম দিক দিয়ে পানি নামার জন্য জায়গা ছেড়ে পুকুরের পাড় তৈরি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তিনি অনুরোধ রাখেননি। এমনভাবে পুকুরের পাড় তৈরি করা হয়েছে, তাঁর বোনের জমি ছাড়া আর কোনো দিক দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার জায়গা নেই। বর্ষাকালে তিনটি মৌজার পানির তোড়ে ওই জমিতে রোপণ করা ধানের চারা ভেসে যাবে।

জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানোয়ার হোসেন  বলেন, শুনানির সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। তা ছাড়া এখন পুকুর খনন করা হয়ে গেছে। এখন আর কী করবেন?

সাধারণত সহকারী কমিশনার ছুটিতে থাকলে ইউএনও দায়িত্বে থাকেন। ১০ এপ্রিল যোগাযোগ করা হলে ইউএনও জাহিদ নেওয়াজ বলেন, এক মাস আগের ঘটনা, তিনি মনে করতে পারছেন না। তাঁকে বিষয়টি দেখতে হবে।

ওই দিন মুঠোফোনে জানতে চাইলে গোলাম রব্বানী বলেন, পশ্চিম দিক দিয়ে পানি বের হওয়ার জায়গা ছাড়ার জন্য শুকুর তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে তা রাখা সম্ভব হয়নি। শুকুরের বোনের জমি বিক্রি করলে প্রয়োজনে তিনি কিনে নেবেন। পুকুর খননের সুবিধার্থে আওয়ামী লীগে যোগদানের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুকুর তো তাঁর কাটা হয়েই গেছে। সাংসদ ফারুক চৌধুরী তাঁর অন্য উপকার করেছেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, তাঁরা শুনেছেন অবৈধভাবে পুকুর খননে যাতে আইনি ঝামেলা না হয়, সে জন্যই গোলাম রব্বানী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘গোলাম রব্বানী বিএনপির নেতা হলেও অনেক আগে থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করছিলেন। একটা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের দাবি জানান। তখন আমি তাঁকে আওয়ামী লীগে যোগদানের প্রস্তাব করি। প্রায় ২০ মিনিট চিন্তাভাবনার পর তিনি “জয় বাংলা” বলে দলে যোগদান করেন। এই যোগদানের সঙ্গে পুকুর খননের কোনো সম্পর্ক নেই।’

 

  (ঢাকারনিউজ২৪.কম/এনএম ০৭.৩৪এএম/১৮/৪/২০১৭ইং)