• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

প্রফেসর হান্নানসহ হাসিনার দোসর ও গুপ্ত দলের সদস্যদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১, ২০২৬, ৮:৫৮ PM / ৯৭
প্রফেসর হান্নানসহ হাসিনার দোসর ও গুপ্ত দলের সদস্যদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে

 

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা : ১ এপ্রিল (বুধবার) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের শীর্ষ দুর্নীতিবাজরা-কেনো?? শিক্ষায় দুর্নীতি এবং বর্তমান সরকার-এর করণীয় শীর্ষক মুক্ত আলোচনা ও অভিভাবকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী মো: মঞ্জুর হোসেন ঈসার সঞ্চালনায় অভিভাবক-ছাত্র-শিক্ষক জাতীয় মঞ্চ ঢাকা মহানগর, উত্তরের সভাপতি আনুষা বেলায়েতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও স্বাধীনতা এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি  বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, হৃদয়ে পতাকা ২মার্চ এর সভাপতি সাহানা সুলতানা, বাংলাদেশ অভিভাবক নেটওয়ার্ক এর মারজান আক্তার, রুর‌্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) এর চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম, তৃণমূল নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মফিজুর রহমান লিটন, বাংলাদেশ অভিভাবক ফোরামের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আল আমিন। সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নবোদয় প্রি-ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মুজাহিদ, বন্ধন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন ও গ্রীণলিফ স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুর আক্তার ডলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম মোমো, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির নেতা হায়াত মাহমুদ ও মাইনুদ্দিন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাবেক ঢাবির ছাত্র শিবির নেতা প্রফেসর হান্নানকে ফ্যাসিজমের সহযোগী হিসেবে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুর ভাওয়াল বদরে আলম কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে অপমান এবং মারধর করে ছাত্র শিক্ষক এবং স্থানীয় জনগণ। জনরোষ থেকে হান্নানের জীবন বাঁচানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তখন বাধ্য হয়ে তাকে ওএসডি করে। কিন্তু ফ্যাসিস্টের অন্যতম সহযোগী সিদ্দিক জুবায়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব নিয়ে হান্নানকে এক মাসের মধ্যেই ওএসডি থেকে শিক্ষা অধিদপ্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ পরিচালক কলেজ পদে পদায়ন করে। সাবেক ভারপ্রাপ্ত মাউশির মহাপরিচালক আজাদ খান জনরোষের ভয়ে পদত্যাগ করলে আরেক ফ্যাসিস্ট সাবেক শিক্ষা সচিব রেহানা প্রফেসর হান্নানকে আরেক ধাপ এগিয়ে মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার কেন এই গুপ্ত দলের হান্নানকে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বে বহাল রাখতেছে? ফ্যাসিষ্ট এবং গুপ্তদের হাত হাত থেকে শিক্ষা অধিদপ্তর তথা শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেন রেখাই পাচ্ছে না। হাসিনা পতনের পর চারজন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক দায়িত্ব পালন করে গেছে যারা সবাই হাসিনা দোসর ছিল। গুপ্তদলের সদস্য বলে খ্যাত প্রফেসর হান্নান বিএনপি সরকার আসার পরও এক মাসের মত সময় কি করে আছে তা নিয়ে গবেষণা চলছে। গুপ্তদলের একজনকে মহাপরিচালক পদে বসাতে হবে- এই পরিকল্পনা করেই হান্নান কে পরিচালক কলেজ পদে বসানো হয়। আরো দুঃখজনক বিষয় যে অযোগ্যতার জন্য মাউশির মহাপরিচালক পথ থেকে আজাদ খানকে চলে যেতে হলে আজাদ খান মাউশির সিনিয়র পরিচালক প্রফেসর কাজী কাইয়ুম শিশিরকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব না দিয়ে সুকৌশলে হান্নানকে দায়িত্ব প্রদান করে। কিন্তু ফ্যাসিষ্ট দোসরদের চেইন মেইনটেন করে রেজাউল, শফিউল আজম, তারপর এহতেসাম এবং আজাদ যাওয়ার পর জুনিয়র পরিচালক হান্নান কে মহাপরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কারন বিগত ইনটেরিম সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল জাতীয়তাবাদী ঘরানার কাউকে মহাপরিচালক পদে বা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে না বসানোর জন্য। প্রফেসর হান্নানের এই নিয়ে শাহবাগ চত্বরে, প্রেসক্লাব, শিক্ষা ভবন সহ বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন, প্রেস কনফারেন্স ও সমাবেশ ঘটনা হয়। তারপরও অদৃশ্য কারণে সরানো যায় নাই। অবিলম্বে মাউশির ভারপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর প্রফেসর হান্নানকে এবং অন্তবর্তী সরকারের সময় গুপ্ত দলের অনুগত ১২টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, কন্ট্রোলার, কলেজ পরিদর্শক, স্কুল পরিদর্শক সহ গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাদেরকে অপসারণ করতে হবে। নতুন বিএনপি সরকার গঠিত হলো, মাসাধিককাল পার হলো অথচ শিক্ষার হাসিনা দোশরা এখন বহাল তরিয়তে আছে। এতে দেশবাসীর মতো শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা ভুল ম্যাসেজ পেতে পারে। দীর্ঘদিনের বঞ্চিত কর্মকর্তারা অসহিষ্ণু হয়ে আত্মহনন সহ অস্বাভাবিক কর্মকান্ডে জড়াতে পারে। বি এন পি সরকারের সময় হাসিনা দোসরদের উচু চেয়ারে দেখে নিজেদের নিচু চেয়ারে বেমানান ভেবে কাজের প্রতি অনীহাসহ ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে। মন্ত্রণালয় যত দ্রুত ব্যবস্থা নিবে ততই মংগল ঘটবে।