

নিজস্ব প্রতিবেদক : আমেরিকার সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল করা, রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন করে চালু করা ও গ্যাস -বিদ্যুৎ সংকট নিরসনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ করা হয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিস্ট পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনাথ চক্রবর্তী, বক্তব্য রাখেন জেলার সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এম এ শাহীন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আঃ হাই শরীফ, শাহানারা বেগম, শিশির চক্রবর্তী, জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা ও ইকবাল হোসেন প্রমূখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকা আমাদের বিরোধীতা করেছে এবং পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশেও তারা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। আমেরিকার সাথে অসম বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কৃষি খাত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। করিডোরের নামে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। আমেরিকা এশিয়ায় তার আধিপত্য বিস্তারের জন্য বাংলাদেশের বন্দর এবং ঘাঁটি করতে ভূমি ব্যবহার করতে চায়। তাই নানান চুক্তির মধ্যদিয়ে আমেরিকা তা বাস্তবায়ন করছে। অন্যদিকে চীন ও ভারত বসে নেই, তারাও সক্রিয় হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পরতে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশ এক সংকটের মধ্যে আছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত করে তুলেছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি গুলো। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যুদ্ধবাজ আমেরিকা মানবতার শত্রু। এই শত্রুর সাথে কোন চুক্তি নয়; কোন বন্ধুত্ব নয়। অসম বাণিজ্য চুক্তি, করিডোর, সমুদ্রবন্দর বিদেশীদের কাছে ইজারা দেয়া ও ট্রানজিটসহ দেশের স্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া যাবে না। রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ভূমি ও অবকাঠামো জনগণের সম্পদ, সাময়িক আর্থিক লাভ কিংবা বিনিয়োগ আকর্ষণের অজুহাতে এই সম্পদ ব্যক্তি মালিকানায় দেয়া জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান মানে লোকসানি। বাস্তবতা হচ্ছে পরিকল্পিত দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব ও আধুনিকায়ন না করে নীতিগত অবহেলার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে সংকটের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এরপর সেই অজুহাতে জনগণের সম্পদ বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেয়া উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। জনগণের স্বার্থ বিরোধী এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন করে চালু করতে হবে।
দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন দীর্ঘসময় বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে, বাসাবাড়িতে চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস সংকটে পরিবহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে শিল্প কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখা ও জাতীয় অর্নিথনীতি সচল রাখার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার কারণে শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব ও মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হচ্ছে। বাজার তদারকি জোরদার করে অসাধু ব্যবসায়ী, মজুদদার ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
আপনার মতামত লিখুন :