

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : মঙ্গলবার ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে প্যারিসের নটর ডেম ক্যাথেড্রাল। ধসে পড়েছে এর চূড়াসহ ছাদ। হুমকির মধ্যে আছে এর বাকি কাঠামোও।
প্যারিসের ডেপুটি মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগরি বলেন, আগুনে ক্যাথেড্রালটি ‘ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্যাথেড্রালে সংরক্ষিত শিল্পকর্ম ও অন্যান্য অমূল্য সম্পদ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
ক্যাথেড্রালের ভিতরের কাঠের কাঠামো ও নকশা ধ্বংস হয়ে গেছে।
অসাধারণ সব ভবনের কারণে প্যারিস বিখ্যাত হলেও নটর ডেমের সঙ্গে এদের তুলনা চলে না। অসাধারণ নকশা ছাড়া আর কী কী রয়েছে ৮৫০ বছরের পুরনো এই স্থাপনায়?
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানায়, ক্যাথেড্রালে রয়েছে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তৈরি তিনটি ‘রোজ উইন্ডো’ বা নকশা করা জানালা, যা এর সবচেয়ে বিখ্যাত বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি।
এই উইন্ডো বা জানালাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোটটি রয়েছে ক্যাথেড্রালের পশ্চিম দিকে। ১২২৫ সালে তৈরি জানালাটি দেখলে মনে হয় জানালার কাচের ওপর ভর দিয়ে আছে এর চারপাশের পাথরের কাঠামো।
দক্ষিণের রোজ উইন্ডোর ব্যাস প্রায় ৪৩ ফিট এবং এতে রয়েছে ৮৪টি প্যানেল। তবে এই জানালায় আসল রঙ করা কাচগুলো নেই। আগে একবার আগুন লেগে এগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
ফরাসি সাংবাদিক লরেন্ট ভালডিগি সোমবার রাতে এক টুইটে জানান, দক্ষিণের রোজ উইন্ডোটি অক্ষত আছে, তবে অগ্নিযোদ্ধারা সেটির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন।
অন্য দু’টি রোজ উইন্ডো আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নটরডেমের গেলে দর্শনার্থীরা ক্যাথেড্রালের পশ্চিম দিকের দু’টি বিখ্যাত টাওয়ারে কিছুটা সময় কাটাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত।
ভবনের পশ্চিম দিকের কাজ শুরু হয়েছিল ১২০০ খৃস্টাব্দে। উত্তর প্রান্তে প্রথম টাওয়ারটির কাজ শেষ হতে সময় লেগেছিল আরও ৪০ বছর। তার দশ বছর পর ১২৫০ সালে শেষ হয় দক্ষিণের দ্বিতীয় টাওয়ারটি।
দু’টি টাওয়ারই ৬৮ মিটার উঁচু এবং ৩৮৭ ধাপের সিঁড়ি পার হয়ে এগুলোর একদম উপরে উঠলে পুরো প্যারিসের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ঘণ্টা লাগানো দু’টি টাওয়ারই অক্ষত আছে।
সিঁড়ি ভেঙ্গে কেউ প্যারিসের দৃশ্য দেখতে টাওয়ারের মাথায় উঠলে দেখা যায় ‘গার্গয়েল’ বা বিশেষ ধরনের কিম্ভূতকিমাকার মূর্তি।
এসব কাল্পনিক মূর্তি কল্পনা করা হয়েছে একাধিক প্রাণীর সংমিশ্রণে। এর মধ্যে মধ্যে বিখ্যাত ‘স্ট্রিজ’। ভবনের মাথায় বসে গালে হাত দিয়ে শহরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে মূর্তিটি।
ক্যাথেড্রালে রয়েছে ১০টি ঘণ্টা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির নাম ‘ইমানুয়েল’, যার ওজন ২৩ টন। ১৬৮৫ সালে এটি সেখানে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
২০১৩ সালে ক্যাথেড্রালটি ৮৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দক্ষিণ টাওয়ারের ছোট ছোট ঘণ্টাগুলো নতুন করে নির্মাণ করেছিল। এখানকার আসল ঘণ্টাগুলো গলিয়ে ফেলা হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের সময় কামানের গোলা তৈরির জন্য।
সোমবারের আগুনে ধসে পড়া নটরডেমের বিখ্যাত চূড়াটি নির্মাণ করা হয়েছিল দ্বাদশ শতাব্দীতে।
ভবনটির ইতিহাসে চূড়াটি একাধিকবার বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। ফরাসি বিপ্লবের সময় এটি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল এবং পরে আবার ১৮৬০ সালে এটি নির্মাণ করা হয়।
এটি ধসে পড়া নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রয়্যাল ইন্সটিটিউট অফ ব্রিটিশ আর্কিটেক্ট নটরডেমের ছাদ ও চূড়া ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ঘটনাকে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
নটরডেম ক্যাথেড্রালেই খৃষ্টের মৃত্যুর সময়ের বিভিন্ন জিনিস রয়েছে বলে জানায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রুশের একটা টুকরো, একটা নখ এবং ‘হলি ক্রাউন অফ থর্নস’ বা কাঁটার মুকুট যা ক্রুশবিদ্ধ করার সময় যিশুখ্রিস্টের মাথায় পরানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
প্যারিসের মেয়র অ্যান হিডালগো এক টুইটে জানান, অগ্নি নির্বাপক, পুলিশ এবং অন্যান্যরা মিলে মানববন্ধন তৈরি করে ওই মুকুট ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র উদ্ধার করেছেন।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৯:২৩এএম/১৭/৪/২০১৯ইং)
আপনার মতামত লিখুন :