• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

ডেপুটেশনের বেড়াজালে ধুঁকছে কুড়িগ্রামের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৩১, ২০২০, ৯:৩২ PM / ২২৪
ডেপুটেশনের বেড়াজালে ধুঁকছে কুড়িগ্রামের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : শিক্ষক সংকট, অনুপেস্থিত, সময়মতো শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে না আসার প্রবনতায় ভেঙ্গে পড়েছে কুড়িগ্রামের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। পাশাপাশি নুতুন করে যোগ হয়েছে ডেপুটেশন নামের বেড়াজাল। খাতা কলমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকলেও পাঠদান করান অন্য বিদ্যালয়ে। বছরের পর বছর একই শিক্ষক পদায়নকৃত বিদ্যালয় ছেড়ে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে থাকছেন। ফলে ওই বিদ্যালয় প্রয়োজনের তুলনায় কম শিক্ষক নিয়েই পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে বছর ব্যাপি। জেলার প্রায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে তার উপর ডেপুটেশন গোদের উপর বিষ ফোঁড়া হয়ে দাড়িয়েছে। শিক্ষক সংকট আর ডেপুটেশনের কারণে ব্যহত হচ্ছে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষা পাচ্ছে না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে গ্রামীন জনপদের বিদ্যালয়গুলোতে ডেপুটেশনের হার বেশী। শহর কিংবা প্রবাভশালী শিক্ষকেরা এসব বিদ্যালয়ে যোগদান করলেই মাস পেরুতে না পেরুতেই ডেপুটেশন নিয়ে নিজেদের সুবিধাজনক বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছেন। এই ডেপুটেশনের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে দেখা দিয়েছে শিক্ষক সংকট অপর দিকে সুবিধাজনক প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষার্থীর তুলনায় বেড়েছে শিক্ষকের সংখ্যা। শিক্ষক ডেপুটেশন নেয়া বিদ্যালয়ের পদ শূন্য না হওয়ায় অন্য কেউ সেখানে যোগ দিতে পারছে না। ফলে সেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে সহকারিদের এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। এতে করে প্রাইমারী শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকারের পদক্ষেপ মারাতœক ভাবে বিপর্যয় ঘটছে। এছাড়াও সারা বছরেই চলে শিক্ষকদের বদলি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু অসাধু শিক্ষক এবং কর্মচারীদের একাধিক চক্রের মাধ্যমে শিক্ষকরা মোটা অংকের টাকা দিয়ে মন্ত্রণালয় হতে ডেপুটেশন নিচ্ছেন। অপরদিকে একই কায়দায় মন্ত্রণালয় হতে বদলির সুপারিশও আনছেন অনেকে।
ডেপুটেশন এবং অনিয়মতান্ত্রিক বদলি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে ভূক্তভোগী বিদ্যালয়গুলোর অভিভাবক মহলের। নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের দামাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর বিপরিতে পাঁচ জন শিক্ষক। বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক জিন্নাতুন নেছা মুক্তা ২০১৩ সালে যোগদান করেন। নদী পথ এবং চরাঞ্চল হওয়ায় অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। গত ২০১৯ সালে ডিপুটেশন নিয়ে চলে যান সদর উপজেলার পূর্বচন্ডিপুর বিদ্যালয়ে। এবছর জানুয়ারী ফেরার কথা থাকলেও আবার ডেপুটেশন নেন সদরের পিটিআই এর পরীক্ষন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অপরদিকে প্রধান শিক্ষকও বদলি নিয়ে চলে যান অন্য বিদ্যালয়ে। এখন তিনজনের মধ্যে একজন প্রশিক্ষনে একজন প্রধানের দায়িত্বে, একজন শ্রেণীপাঠদানের দ্বায়িত্বে। বিদ্যালয়টির শিক্ষিকা মোসলেমা বেগম জানান, তিনি শিশু শ্রেনীর নিয়োগ প্রাপ্ত। এখন তাকে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণীতেও পাঠদান করতে হচ্ছে। একার পক্ষে সব শ্রেণীর পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, তিনশত শিক্ষার্থীদের দুইজন মিলে কোন রকমে পাঠদান করে আসছেন যা শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিভাক জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে ধুকছে বিদ্যালয়টি। তাদের দাবী কর্তৃপক্ষ জিন্নাতুন নেছার ডেপুটেশন বাতিল করে পাঠদানের পরিবশে ফিরিয়ে আনুক।
শুধু দামাল গ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নয় সদর উপজেলার করিমের খামার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪১৩ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১০ শিক্ষকের একজ আইরিন বেগম। তিনি ২০১৪ সাল থেকে ডেপুটিশনে আছেন উলিপুর উপজেলায়। ভোগডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্য সহকারী শিক্ষক লায়লা আরজু মান্ধ বানু ২০০৯ সাল থেকে পরীক্ষন বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে আছেন। এছাড়া একই বিদ্যালয়ে ৫জন শিক্ষক দির্ঘদিন থেকে ডেপুটেশনে রয়েছেন। সদরের আশরাফিয়া স্কুলে ২শতাধিক শিক্ষার্থীদের বিপরিতে ৫শিক্ষক থাকার পরেও ২ শিক্ষক যোগ দিয়েছেন ডেপুটেশনে।
এ বিষয়ে জেলার শিক্ষা কর্তৃপক্ষ কোন মতামত না দিলেও জানা যায় প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক নিজেদের সুবিধামতো বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে আছেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানান, তার অগোচরেই মন্ত্রানালয় থেকে বেশ কিছু বদলি এবং ডেপুটেশন হয়েছে। তবে তিনি আশ^াস দেন দ্রুত ডেপুটেশন বাতিলসহ শূণ্য পদ পূরণে কার্যকরি সিদ্ধান্ত নেবেন।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/৯:৩২পিএম/৩১/১/২০২০ইং)