• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম অহঙ্কার শিবগঞ্জের মিষ্টি


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২, ২০১৮, ৬:৪৮ PM / ৫৮৮
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম অহঙ্কার শিবগঞ্জের মিষ্টি

 

আজমাল হোসেন মামুন : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলা অবস্থিত। সেখানে রয়েছে অসংখ্য মিষ্টান্ন ভান্ডার। বিশেষ করে শিবগঞ্জ বাজার, মনাকষা বাজার ও কানসাট বাজারের মিষ্টান্ন ভান্ডারগুলোর বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি ব্রিটিশ আমল থেকে মানুষের মন জয় করে আসছে। অনেকে এই মিষ্টির জন্য লালায়িত। এ জেলার মানুষ অন্যান্য জেলার আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের বাড়ি বেড়াতে গেলে, বসতে বলতে না বলতেই হাসিমুখে হুট করে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির কথা বলে ফেলে।

আামের পরই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অন্যতম অহঙ্কার হচ্ছে শিবগঞ্জের মিষ্টি। শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর মধ্যে মনাকষা বাজার একটি। এটি শিবগঞ্জ বাজারের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। মনাকষা বাজারের মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারিগরদের তৈরি দমমিষ্টি, ছানা, জিলাপি, মতিচুড়ের লাড্ডু ও স্পঞ্জ গোল্লা প্রধান। এসব মিষ্টির আদি কারিগর আশু সরকার মারা গেছেন। বর্তমানে আশু সরকারে ছোট ভাই অজিত সরকার ও কালু সরকার জীবিত। মূলত তারা তাদের কর্মচারীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এখান থেকে দমমিষ্টি ও স্পঞ্জ গোল্লা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় হোটেল-রেস্টুরেন্টে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

এছাড়াও দম মিষ্টি বা প্যাড়ার খুবই বিখ্যাত। এর আদি কারিগর ছিলেন শ্রী সুধীর সাহা। ইনি বহুকাল আগে মারা গেলেও তার ছেলেরা এখনও ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।

শিবগঞ্জ বাজারের মিষ্টান্ন ভান্ডারগুলোতে সুস্বাদু ও আকারে বড় ধরনের মিষ্টি তৈরি হয়। যার কথা শুনলে অনেকে অবাক হতে পারেন।

শিবগঞ্জের মিষ্টির জনক নরেন শাহ দেশ বিভাগ তথা ’৪৭ সালের আগে মারা গেছেন। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের পর প্রধান ৪ জন কারিগর তবল সাহা, মদন সাহা, বিজয় সাহা এবং তিনকড়ি সাহাসহ অনেকেই পরলোকগমন করলেও তাদের অনেক শিষ্য জীবিত। তারা মিষ্টি তৈরি করে থাকেন।

শিবগঞ্জ বাজারের এতিহ্যবাহী মিষ্টিগুলোর মধ্যে আদি চমচম প্রধান। সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষিত প্রবীণ ব্যক্তিদের মুখে শোনা যায়, এক সময় এই আদি চমচমের আকার ছিল ৪০ সের বা এক মণ পর্যন্ত। ক্রেতার অর্ডার পেলে সেগুলো তৈরি করা হতো। এগুলো দেশের বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশে বাংলাদেশের প্রবাসীরা রফতানি করেছে। মাঝে মধ্যে এ দেশের নেতা বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপহার দেয়া হতো। ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ৩৫ সের ওজনের ১টি চমচম উপহার দেয়া হয়েছিল। সেই বছরই মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতকে ২৫ সের ওজনের ১টি, ১৯৮২ সালে শিবগঞ্জ উপজেলার কোটবাজারে প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদকেও ২৮ কেজি ওজনের ১টি করে আদি চমচম সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপহার দেয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া শিবগঞ্জ বাজারের মিষ্টান্ন ভান্ডারে তৈরি মিষ্টিগুলো হচ্ছে রস কদম, দমমিষ্টি, ছানার পোলাও, পাম মিঠাই, জিলাপি, শাহী জিলাপি, বুদিয়া লবঙ্গ, মিহিদানা, মন্ডা, খুরমা, লালমোন, কালো জাম, গোলজাম ইত্যাদি। এখনো এসব মিষ্টি দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলসহ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা বিদেশিদের জন্য নিয়ে যায়। ওইসব মিষ্টি বিদেশিরা খেয়ে মুগ্ধ হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৬ হাজার ৩০০টি কুটিরশিল্পের মধ্যে অন্যতম মিষ্টান্ন ভান্ডার। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন।
লেখক : আজমাল হোসেন মামুন
সহকারী শিক্ষক
হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
মোবাইল নম্বর: ০১৭০৪২৪৪০৮৯

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৬:২৭পিএম/২/৪/২০১৮ইং)