• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ন

চবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৫, ২০২৪, ৩:০০ AM / ৪৯৪
চবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা

 

ঢাকারনিউজ : সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। তবে ক্যাম্পাসে বের করা শিক্ষার্থীদের মিছিলে হামলা ও তাদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এতে দুজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

রোববার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় শিক্ষার্থীদের মিছিলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাতে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে সমবেত হন। এসময় তারা ‘তুমি কে আমি কে- রাজাকার, রাজাকার’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর প্রকাশ হলে বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তাদের ওপর চড়াও হন। এসময় সুমন নামের এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। সুমন চবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী।

চলমান কোটা আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক রাসেল রাতে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছিলাম, আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হলো। কে মেরেছে তা জানি না। আমাদের দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী শিক্ষার্থীও আছেন। আমাদের মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণও করা হয়েছে।

চবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পার্থ প্রতিম বড়ুয়া বলেন, মারামারির পরে আমি এসেছি। তবে তাদের (মিছিলকারীদের) নেত্রীর নামে বাজে স্লোগান দিতে শুনেছি। এতদিন কিন্তু তাদের আন্দোলনে বাধা দেওয়া হয়নি, আমরাও চেয়েছি কোটার যৌক্তিক সমাধান আসুক। কিন্তু স্বাধীন দেশে ‘তুমি কে আমি কে- রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগান দেওয়া কখনো কাম্য নয়।

স্লোগানে প্রকম্পিত শাবিপ্রবি, পাল্টা অবস্থান ছাত্রলীগের
‘তুমি কে আমি কে- রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উক্তি ঘিরে এ স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলে এ স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলোতেও এ স্লোগান দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের চারটি ব্লকের শিক্ষার্থীরা হঠাৎ বের হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে হল। সৈয়দ মুজতবা আলী হল থেকে বড় একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি বঙ্গবন্ধু হলের সামনে গিয়ে স্লোগান দেয় এবং তাদের মিছিলে যোগ দিতে ‘রাজাকার বের হ, রাজাকার বের হ’ বলে স্লোগান দেয়।

হলগেটের তালা ভেঙে রাস্তায় ঢাবির নারী শিক্ষার্থীরা
পরে মিছিলটি শাহপরান হলের সামনে দিয়ে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে চায়। এসময় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলের সামনে অবস্থান নেন।

একদিকে ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ আর অন্যদিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শাহপরান হলের সামনে অবস্থান দেখে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সামনে না এগিয়ে সেখানে থেকে চলে যান।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেছেন। তার মুখে এমন কথা মানায় না। তিনি আমাদের রাজাকারের বাচ্চা বলতে পারেন না। এর প্রতিবাদে আমরা রাস্তায় মিছিল বের করেছি।