

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলি বিমান হামলায় আল জাজিরার গাজায় অবস্থিত কার্যালয় গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, তারা চুপ করে থাকবে না। ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরাসহ মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপির কার্যালয়ও গুঁড়িয়ে গেছে।
আল জাজিরার জেরুজালেম ব্যুরোর প্রধান ওয়ালিদ আল-ওমারি বলেছেন, ‘এটা স্পষ্ট যে যারা যুদ্ধ করছে তারা গাজায় শুধু ধ্বংস আর মৃত্যুই বাড়িয়ে চলছে না, তারা গণমাধ্যমগুলোকেও চুপ করিয়ে দিতে চায় যারা এগুলো প্রত্যক্ষ করছে, তথ্য সংগ্রহ করছে ও সত্যের প্রতিবেদন করছে যে গাজায় ঠিক কী ঘটছে।’
‘কিন্তু এটি অসম্ভব’। ১১ তলা বিশিষ্ট আল-জালা টাওয়ার ভেঙে পড়ার পর এ কথাগুলো সরাসরি সম্প্রচারে বলেন ওয়ালিদ।
তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলি সেনারা গাজা উপত্যকায় যেসব অপরাধ নিয়মিত করে চলছে এটি তারই অংশ।’
আল জাজিরা একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে ইসরায়েলি বোমার আঘাতে ভবনটি মাটিতে ভেঙে পড়ছে। এর ফলে ছাতার মতো করে প্রচুর ধুলো আর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
জালা টাওয়ারের মালিক জাওয়াদ মেহদি বলেন, একজন ইসরায়েলি গোয়েন্দা তাকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ভবনটি খালি করতে তার মাত্র এক ঘণ্টা সময় রয়েছে।
গাজায় আল জাজিরার প্রতিবেদক সাফওয়াত আল-কাহলৌত ভবনটি গুঁড়িয়ে যাওয়ায় টুইটারে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘আমি এখানে ১১ বছর ধরে কাজ করছি। এই ভবন থেকে আমি অনেক ঘটনার খবর দিয়েছি… এখন সবকিছুই, দুই সেকেন্ডের মধ্যে, স্রেফ উধাও হয়ে গেল।’
গণমাধ্যমের কার্যালয় ভবনে হামলার অজুহাত হিসেবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘তাদের ফাইটার বিমান একটি বহুতল ভবনের ওপর হামলা চালিয়েছে যেখানে হামাসের সামরিক ইন্টিলিজেন্স বিভাগের সামরিক সরঞ্জাম রাখা ছিল। এই ভবনে বেসামরিক গণমাধ্যমের কার্যালয় ছিল, যার ভেতর হামাসের কর্মীরা লুকিয়ে থাকতেন এবং মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন।’
গত সপ্তাহের সোমবার থেকে ইসরায়েল গাজায় বিমান হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত ১৩৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে ৩৯টি শিশুও রয়েছে। এছাড়া ১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্র : এএফপি
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১০:২০পিএম/১৫.৫.২০২১ইং)
আপনার মতামত লিখুন :