• ঢাকা
  • রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন

গরমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ ও শনিবার ক্লাস বন্ধ রাখতে স্মারকলিপি প্রদান


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১১:১৫ PM / ১৫০
গরমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ ও শনিবার ক্লাস বন্ধ রাখতে স্মারকলিপি প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা : প্রচন্ড গরমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা ও শনিবার বন্ধ রাখা প্রসংগে মাননীয় মন্ত্রী, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমীপে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।

২৬ এপ্রিল রোববার দুপুর ১২ টায় স্বারকলিপি প্রদান করেছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা বৈষম্য নিরসন ফোরাম। অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সচিব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। স্মারক লিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন, সর্বজনাব মো সিদ্দিকুর রহমান, মো, সামছুদ্দিন বাবুল সদস্য সচিব, সুবল চন্দ্র পাল যুগ্ম সদস্য সচিব, মো, আঃ কাদের সাংগঠনিক সচিব। স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে সারাদেশের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পর্যুদস্ত। শিশু শিক্ষার্থীদের সকাল ৯ টায় বিদ্যালয়ে আগমন করতে মোটামুটি তীব্র তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হতে হয়। অপরদিকে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে একসাথে অনেক শিক্ষার্থী অবস্থানের ফলে তাদের মাঝে তাপমাত্রা অত্যধিক অনুভূত হয়ে থাকে। গরমের সময় আমাদের দেশে সাধারণত বিদ্যুৎ লোডশেডিং অত্যধিক হয়ে থাকে।

বিশেষ করে অনেকক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুদের গরমে ঘামে জামাকাপড় ভিজে একাকার হয়ে যায়। পাঠের কার্যক্রমের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিদ্যালয় শিক্ষকদের কসাই মনোবৃত্তির মানুষ হিসেবে ধারণা পোষণ করে থাকেন। শিক্ষকেরা যে সরকারের নির্দেশ ছাড়া কিছুই করার নেই, বিষয়টি তাদের উপলব্ধিতে থাকার কথা নয়। বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক/১ম/২য় শ্রেণির শিশুরা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ মাথায় নিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করে থাকেন। এ অনেকটা দোজখের সূর্যের তাপের অগ্রিম কষ্ট আমাদের শিশুরা শাস্তি হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন। অপরদিকে ৩য়, ৪র্থ, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সারাদিন গরমে দুঃসহ যন্ত্রণার কবলের মাঝে ৪ টার সময় তাপ মাথায় নিয়ে বাসগৃহে যেতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যা অর্জন তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে।

সকাল সাতটায় গরমের তাপমাত্রা সহনীয় থাকে। প্রাক-প্রাথমিক, ১ম, ২য় শ্রেণির কার্যক্রম ৭:৩০ মিনিটে শুরু করে ৯:৩০ টার মধ্যে শেষ করা হলে তাপমাত্রার তীব্রতা তাদের তেমন পোহাতে হবে না। ৩য়, ৪র্থ, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২ টায় পাঠদান সমাপ্ত হলে শুধু দুপুরের গরম তাদের যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। শিখন ঘাটতি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখন ঘাটতি অতি নগণ্য। তাদের শিখন ঘাটতির অন্যতম কারণ অভিভাবকদের দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও বাড়িতে দেখভালের অভাব। শুধু গরমের এ তীব্রতায় প্রাথমিকের শিখন ঘাটতি পূরণের নামে শনিবার খোলা রাখা চরম বৈষম্য। এককভাবে শুধু শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার ফলে শিক্ষার্থী উপস্থিতি থাকে নগণ্য। এতে শিখন ঘাটতি পূরণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে সরকারের এককভাবে প্রাথমিক শিক্ষার শিখন ঘাটতি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষকসহ সচিব, মন্ত্রী সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তৈরি হবে সমৃদ্ধ শিক্ষা।