• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় মা-বাবার কবরের পাশেই সমাহিত হবেন মিজু আহমেদ


প্রকাশের সময় : মার্চ ২৮, ২০১৭, ৪:৫২ PM / ১২৪
কুষ্টিয়ায় মা-বাবার কবরের পাশেই সমাহিত হবেন মিজু আহমেদ

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ঢাকা : প্রিয় কর্মস্থল এফডিসিতে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে মিজু আহমেদের লাশ কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে মা-বাবার কবরের পাশেই তাকে সমাহিত করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে সকাল ১০টায় রাজধানীর পান্থপথে মিজু আহমেদের বাসার সামনে প্রথম জানাযায় অংশ নেন এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজন। তার দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয় এফডিসিতে। এতে অংশ নেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। ফুল আর চোখের জলে প্রিয় শিল্পীকে চিরবিদায় দিলেন তারা।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেতা মিজু আহমেদকে শেষবারের মতো দেখার জন্য এফডিসিতে এসেছিলেন তারকারা। তারা হলেন ইলিয়াস কাঞ্চন, অমিত হাসান, ওমর সানী, আমিন খান, মিশা সওদাগর, সাইমন, জায়েদ খান, পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম, মুশফিকুর রহমান গুলজার, অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড প্রমুখ।

বলে রাখা ভালো, একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য ট্রেনযোগে দিনাজপুর যাওয়ার উদ্দেশে সোমবার ২৭ মার্চ সন্ধ্যার পর বিমানবন্দর স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন মিজু আহমেদ। রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে হঠাৎ তার হার্ট অ্যাটাক হয়। এ সময় ট্রেনে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁর হার্টবিট পাননি। পরে সেখান থেকে মিজু আহমেদকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন ।

মিজু আহমেদ মূলত খল অভিনেতা হিসেবে বাংলা চলচ্চিত্রে বেশি পরিচিত। তবে একজন প্রযোজক হিসেবেও ঢালিউড পাড়ায় পরিচিতি রয়েছে তাঁর।

মিজু আহমেদ ১৭ নভেম্বর ১৯৫৩ সালে কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম মিজানুর রহমান। শৈশব থেকে তিনি থিয়েটারের প্রতি খুবই আগ্রহী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কুষ্টিয়ার স্থানীয় একটি নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত হন।

১৯৭৮ সালে ‘তৃষ্ণা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কয়েক বছর পরে তিনি ঢালিউড চলচ্চিত্রশিল্পে অন্যতম সেরা একজন খলনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বড় পর্দায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০টি ছবি মুক্তি পেয়েছে তাঁর। তার অভিনীত ছবিগুলো মধ্যে হচ্ছে ‘তৃষ্ণা’ (১৯৭৮), ‘মহানগর’ (১৯৮১), ‘স্যারেন্ডার’ (১৯৮৭), ‘চাকর’ (১৯৯২), ‘সোলেমান ডাঙ্গা’ (১৯৯২), ‘ত্যাগ’ (১৯৯৩), ‘বশিরা’ (১৯৯৬), ‘আজকের সন্ত্রাসী’ (১৯৯৬), ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ (১৯৯৭), ‘কুলি’ (১৯৯৭), ‘লাঠি’ (১৯৯৯), ‘লাল বাদশা’ (১৯৯৯), ‘গুন্ডা নাম্বার ওয়ান’ (২০০০), ‘ঝড়’ (২০০০), ‘কষ্ট’ (২০০০), ‘ওদের ধর’ (২০০২), ‘ইতিহাস’ (২০০২), ‘ভাইয়া’ (২০০২), ‘হিংসা প্রতিহিংসা’ (২০০৩), ‘বিগ বস’ (২০০৩), ‘আজকের সমাজ’ (২০০৪), ‘মহিলা হোস্টেল’ (২০০৪), ‘ভণ্ড ওঝা’ (২০০৬) ইত্যাদি।

‘তৃষ্ণা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ১৯৯২ সালে সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান মিজু আহমেদ।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসকে/এসডিপি/৪:৪৩পিএম/২৮/৩/২০১৭ইং)