• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন

আমরা নিরাশ ও হতাশ : বিএনপি


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৮, ২০১৭, ৩:২৭ PM / ২২২
আমরা নিরাশ ও হতাশ : বিএনপি

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ঢাকা : নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রত্যাখ্যান করেনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতারা। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে সুষ্ঠু, অবাধা, নিরপেক্ষ ও গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বেগম জিয়ার সভাপতিত্বে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে হয় এতে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা, বাংলাদেশ পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানীর এ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মনি, ইসলামী ঐক্যেজোটের এম এ রকিব, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এ এইচ এম কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের কমরেড সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহিউদ্দিন ইকরাম।

বিএনপি মহামচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এমন একজন বিতর্কিত সাবেক সরকারি কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কোন প্রতিষ্ঠান নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। তাই এই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না।

এমন একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের পর নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আমাদের প্রস্তাবের যৌক্তিকতা আরো দৃঢ় হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশন গঠননে বিএনপি হতাশ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘গতকাল ৬ ফ্রেব্রুয়ারি শেষ মুহূর্তে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত ১০ নাম থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ৪ জনকে নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সকল মহল থেকে দাবি ছিল সার্চ কমিটি কর্তৃক বাছাইকৃত এই ১০ জনের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং তাদের জীবন বৃত্তান্ত ও কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে। এ পন্থা অনুসরণ করা হলে প্রক্রিয়াটি কিছুটা হলেও স্বচ্ছতা পেত। কিন্তু তা করা হয়নি। আমরা নিরাশ ও হতাশ হয়েছি।

যাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে তা শাসকমহলের পূর্ব পরিকল্পিত দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন,
শেষ মুহূর্তে রুদ্ধশ্বাস দ্রুততার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এ সব সন্দেহের মধ্যেও একটি বড় সন্দেহ হল কাদেরকে নির্বাচন কমিশনে রাখা হবে সেটি ছিল শাসকমহলের পূর্ব পরিকল্পিত। “রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেই সিদ্ধান্তই আমরা মেনে নেব” এই উক্তি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসলে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন। সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী দু’টো বিষয় ছাড়া (প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ) অন্য সব বিষয়ে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে বাধ্য। সংগত কারণেই আমরা মনে করতে পারি বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সরকারি চাকরি শেষে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিতদের নির্বাচন কমিশনে অন্তর্ভূক্ত না করার প্রস্তাব করেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাই হয়েছে। এসব কারণে স্বাভাবিক ভাবেই জনমনে জনাব কে এম নুরুল হুদা সম্পর্কে নেতিবাচক উপলব্ধি (perception) সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সার্চ কমিটি এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় না নেয়া খুবই রহস্যজনক।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৩:২৫পিএম/৮/২/২০১৭ইং)