• ঢাকা
  • সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন

মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত : মাদ্রাসায় অর্থ সহায়তা চিকিৎসক পরিবারের


প্রকাশের সময় : মার্চ ২০, ২০২৬, ১:০৬ AM / ১১৭
মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত : মাদ্রাসায় অর্থ সহায়তা চিকিৎসক পরিবারের

বাগাতিপাড়া(নাটোর)প্রতিনিধি : মানবতা আর সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার এক চিকিৎসক পরিবার। গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোর বিরল উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী একটি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্প শেষে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসাতুল হাদীছ আস-সালাফিয়্যাহ-এর উন্নয়ন ও কল্যাণে ২০ হাজার টাকার একটি চেক এবং নগদ আরও ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন এই চিকিৎসক পরিবার। এলাকাবাসীর জন্য স্বল্প খরচে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

এই মানবিক কার্যক্রমে অংশ নেন একই পরিবারের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক-ডা. মোঃ আতিকুল ইসলাম (নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ), ডা. মোঃ আশিকুল ইসলাম (বাত-ব্যথা ও রিহ্যাবিলিটেশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ) এবং ডা. আলেয়া ফেরদৌস মুন্নী (ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ)।
তারা শিশু রোগ, বাত-ব্যথা, শারীরিক পুনর্বাসন, ডায়াবেটিস ও হরমোনজনিত বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

জানা যায়, ডা. আতিকুল ইসলাম এবং ডা. আশিকুল ইসলাম-দুই ভাই বাগাতিপাড়ার সন্তান। নিজ এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা থেকেই তাদের এই উদ্যোগ, যা ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম রাব্বানী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাচ্চু দাস, শহিদুল ইসলাম, মাদ্রাসাতুল হাদীছ আস-সালাফিয়্যাহ-এর প্রধান শিক্ষক মোঃ মোজাফ্ফর হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহাদৎ হোসেন, পল্লী চিকিৎসক আবু রায়হানসহ স্থানীয় অনেকেই।

এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন এলাকার সাধারণ মানুষ এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মেসার্স সানজিদা ফার্মেসি, বাজিতপুর স্কুল মোড়।

আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা এবং একই সঙ্গে সমাজের পিছিয়ে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এলাকাবাসীর মতে, চিকিৎসার পাশাপাশি মানবিক সহায়তার এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।