সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় সংঘটিত এক নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, মামলাভুক্ত আসামিরা বর্তমানে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মকসুদপুর গ্রামে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এলাকায় নানা ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৪ মে ২০২৬ রাত সাড়ে ৯টার দিকে জালালাবাদ আবাসিক এলাকার ৪৮/৪ নম্বর বাসার সামনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার হন আজাদ রেজা চৌধুরী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, পাইপ ও কাঠের রুল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে আজাদ রেজা চৌধুরীর মাথায় গুরুতর জখম, বাম হাত ও বাম পায়ে একাধিক স্থানে হাড় ভেঙে যায়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হামলার সময় তাকে রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার বড় ভাই মো. ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী এবং ভাগনে শিব্বির আহমদ শিবলুও আহত হন। ফয়জুল ইসলাম চৌধুরীর মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং তাকে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর মো. ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা যায়। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়নি। বরং তারা নিজ এলাকায় অবস্থান করে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এতে সাক্ষী ও ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, “যারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় তারা আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলও দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি), এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাদের দাবি, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হলে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে অভিযুক্ত (accused) হিসেবেই বিবেচিত হবেন।
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি