• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন

বদরপুরে শান্তি চাই : কোমলমতি শিশুদের নির্ভয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২১, ২০২৪, ৫:৫১ PM / ৫০৫
বদরপুরে শান্তি চাই : কোমলমতি শিশুদের নির্ভয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন

মাসউদ আহমেদ : ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নে ক্রমান্বয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা যে হারে বেড়ে চলছে তাতে ভদ্র সমাজের বসবাসের অনুযোগী হয়ে যাওয়ার বেশি বাকি নাই।শুধু ৫ আগস্টের পরেই নয় এর আগেও এখানকার পরিবেশ সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষের জন্য সুখকর ছিল তা বলা যাবে না।আর এখন তো এখানে ররবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় “আমরা সবাই রাজা রাজার রাজত্বে” সে রকম পরিস্থিতি। কে কাকে মানে? দীর্ঘদিনের ক্রন্দোল নতুন মোড়কে কী যে ভয়ানক বীভৎস রূপ ধারন করেছে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত ভয়ংকর সব খবর ভিডিও ও ছবি দেখে স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি কতটা নৃশংস ও পাশবিক। প্রায়ই খবর হয় অজ্ঞাত লাশ, হাসপাতালে আহতদের আর্তনাদের ভিডিও,ঘরে সিধ কেটে হত্যার চেষ্টা, ডাকাতির ঘটনা,গ্রুপে গ্রুপে আতকে ওঠার মত অস্ত্র মহড়া, চর দখল, জমি দখল,আরো নানা অপরাধের খবর।একি? এ উত্তর আধুনিক সভ্য যুগেও ভয়ংকর জাহিলিয়াত লেপ্টে গলাটিপে ধরে আছে বদরপুর তথা দেবীরচরকে। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য বলেছিলেন “এ পৃথিবীকে এ শিশুর বাস যোগ্য করে যাব নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার” কিন্তু দেবীর চর বাজার যে সুস্থ শিশু বিকাশে অনুপযোগী হয়ে গেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।। সবচেয়ে বেশি অপ্রীতিকর রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে দেবীরচর বাজারে। এখানে অনেক গুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন দেবীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, হিফজুল কুরাআন মাদরাসা,মধ্য দেবীর নুরানি মাদরাসা,খলিফা বাড়ি মাদরাসা, দেবীর হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসা,মহিলা মাদরাসা, দেবীর চর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেবীর চর মডেল একাডেমি, অধ্যক্ষ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ একাডেমি, নুরনবী চৌধুরী কলেজ ইত্যাদি।প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ভরপুর শিক্ষার্থী।বাজার তথা ঘটনা স্থলের ৩০০ গজের ভিতরেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। যেখানে স্বানন্দে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আসার কথা সেখানে তারা ঘুম থেকে উঠেই মুখে মুখে তার বিদ্যালয়ের কাছাকাছি কোন স্থানে ঘটে যাওয়া ভয়ংকর ঘটনার খবর শুনতে পায়।তাতে কোমল মনে কী পরিমাণ ভয় আর আতংক সঞ্চার হয় তা ব্যক্ত করতে না পারলেও চোখে মুখে ভেসে ওঠে।অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক সবাই যে চরম আতঙ্কে থাকেন তা তাদের কথা, ঘটনার কয়েকদিন পর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার পর্যালোচনা করলে পরিস্কার বুঝা যায়।অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার ভয়ে বিদ্যালয়ে তাদের সন্তানদের পাঠাতে চান না।এখানে একটি ভূমি অফিস,পোস্ট অফিস, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, কয়েকটি ব্যাংক আছে। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার সাধারণ মানুষ সেবা নিতে আসে।কখন কি হয় এ আতংক অনেকের মনে।অনেক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে, আছে লঞ্চঘাট। যখনই মারামারির কোন পরিবেশ দেখা দেয় হুরোহুরি করে ব্যাবসা বন্ধ করে কেউ বাড়ি চলে যায় আবার কেউ ভিতরে কেউবা জানালা দিয়ে দেখে পরিস্থিতি ।কী আশ্চর্য! যেন মগের মুলুক এখানে দেখার কেউ নাই।ব্যাবসার চরম ক্ষতি হয় কে দেখে এসব?মানুষ যে যার মত বাজার করে বা না করে দ্রুত বাজার ত্যাগ করে! দিকবেদিক ছোটাছুটি করে নিরাপত্তার খোজে। কী একটা নারকীয় অবস্থা?
***
ঘটনাগুলো কে বা কারা কেন, কখন কিভাবে ঘটাচ্ছে প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অজানা থাকার কথা না।উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ভয়ংকর, ভীতিকর ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে স্থানীয় শান্তিপ্রিয় জনগণকে। ঘটনা এতদূর গড়ানোর পর যতটুকু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা শুনা যায় তা মোটেও যথেষ্ট নয়।এখনো প্রকাশ্যে ছবিতে আসা অস্ত্রগুলো উদ্বারের অভিযানের কোন খবর শোনা যায় নি।শান্তি ফিরিয়ে আনতে জোড়ালো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।এতে জনমনে আরো হতাশা ও প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।
***

রাজনৈতিক সমস্যা গুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। এত প্রচারের পরও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ঘটনা অজানা থাকার কথা না।তাহলে কেন সে রকম কোন সমাধানের লক্ষ দেখা যাচ্ছে না? সচেতন নাগরিকদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বেড়েই চলছে।শান্তি প্রিয় সচেতন নাগরিক সমাজ বরাবরই তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসছে সর্বমহলে ।প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উদাসীন পদক্ষেপ জনমনে আরো হতাশার ছাপ পরেছে।সমস্যা সমাধানের কোন নিশ্চয়তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জোড়ালো পদক্ষেপ লক্ষ করা যায় না।জনমনে এখন কতগুলো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।নিরাপদে নির্ভয়ে আনন্দোচিত্তে শিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কবে থেকে যেতে পারবে?এ নিশ্চয়তা কে দিবে?পরিস্থিতি আরো কত ভয়াবহ হলে?যে অস্ত্রগুলো প্রকাশ্যে দেখা গেছে সেগুলোর উদ্ধারের কোন ছবি কি দেখা গেছে?তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।দ্রুত বদরপুর বিশেষ করে দেবীর চরে শান্তি ফিরিয়ে আনুন।

কি কি ক্ষতি হচ্ছে…

*এলাকার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে *ভালো মানুগুলো এলাকা এড়িয়ে চলছে * ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে কারণ পাশের নিরাপদ কোন বাজারে তারা হয়ত বাজার সেরে চলে আসছেন এতে এখানকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পরছেন * মনে রাখতে হবে এটি গ্রাম শহর নয় তাই শত্রুতা শুরু হলে বংশ পরম্পরায় চলতে থাকবে *আপনার সন্তানকে ভবিষ্যৎ শত্রুমুখে বা হাজারো সমস্যা মামলার মুখে রেখে পরপারে হয়ত আপনি পাড়ি দিবেন *শিশুরা আতংকের ট্রমা নিয়ে বেড়ে উঠছে যা চরম ক্ষতিকর *শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চরম ক্ষতি হচ্ছে * সাধারণ মানুষ নিরাপদে সেবা নিতে পারছে না ভয় ও আতংকে জীবন যাপন করছে।

***

এখানে শান্তি ও স্বস্থি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কাছে কতিপয় দাবি…

*দেবীরচর বাজারে একটি পুলিশ ফারি স্থাপন করুন *প্রয়োজনে মেজিস্ট্রেসী পাওয়ার দিয়ে সেনা টীম মোতায়ন করুন *দ্রুত অবৈধ অস্ত্র উদ্বার করার অভিযান চালানো *বিবাধমান গোষ্ঠীর মাঝে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ব্যবস্থা করা *অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা *শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী ও সচেতন নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করা *শান্তি ও জননিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

***

কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে আহবান…

*আন্ত:ক্রোন্দল যে কোন দলের জন্য ক্ষতিকর তাই দ্রুত মিটিয়ে ফেলার পদক্ষেপ নিন * দোষীদের ব্যাপারে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নিন * পরস্পরের প্রতি কৃত অভিযোগগুলো আমলে নিন ও ব্যাবস্থা নিন * মনে রাখতে হবে যে দলের কর্মীর চেয়ে ঐ এলাকায় সাধারণ জনগণ বেশি তাই তাদের কথা বিবেচনায় নিন।

****

সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতি করনীয়…

*শিক্ষার্থীদের মানসিক সাহস যোগানোর চেষ্টা করা * জনসচেতনতা মূলক আলোচনা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা * অভিভাবকদের সচেতন করা * মসজিদ মহল্লায় উপদেশ মূলক কুরআন হাদিসের আলোচনা করা *প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা।

মনে রাখা জরুরি নগর পুড়িলে দেবালয় কিন্তু এড়ায় না তাই যার যার জায়গা থেকে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।তবেই কাঙ্ক্ষিত শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

লেখক –
মাসউদ আহমেদ
শিক্ষক ও কলামিস্ট