নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট (খানপুর) হাসপাতালে কর্মরত ডা: মুহাম্মদ আতিকুল বারী ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ মো. আমিনুল ইসলাম সহ কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাধারন রোগীদের ক্ষোভ যেন বেড়েই চলেছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই বিগত আওয়ামী সরকারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সক্ষতা তৈরি করে হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে বহিঃবিভাগের নাক-কান-গলা বিষয়ক চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখা শুরু করেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লিনিক ও চেম্বারে নিয়মিত হাড়জোড়া, বাত ব্যথা, সার্জারী, টিউমার ও ডায়াবেটিকস রোগে অভিজ্ঞ হিসেবে রোগী দেখে থাকেন। আওয়ামী সরকারের পট পরিবর্তন হলেও এবং তার বিরুদ্ধে অনেকের অভিযোগ থাকলেও কৌশলে ভোল পাল্টে নিজের অবস্থান ধরে রেখে হাসপাতালে প্রভাব বিস্তার করে চলছেন বলে অনেকের অভিযোগ।
অভিযোগে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলের শুরুতেই ডা: মুহাম্মদ আতিকুল বারী ৩০০ শয্যা হাসপাতালে কর্মে যোগদান করেন। যোগদানের পর আওয়ামী পন্থী চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ এর নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা: বিধান চন্দ্র পোদ্দার এর সাথে তৈরী করে তার সহযোগিতায় নাক,কান,গলা'র বহি: বিভাগ এর দ্বায়িত্ব বাগিয়ে নেন। দীর্ঘ বছর যাবৎ সে স্বপদে বহাল থাকাকালীন কারনে তাকে স্থান পরিবর্তনের নির্দেশ দিলেও কোন এক দৈব শক্তির বলে অন্যস্থানে না গিয়ে তিনি হাসপাতালেই থেকে যান। এর পর থেকেই সে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হাসপাতালে নিজের ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে রামরাজ্য করতে থাকেন। আওয়ামী সরকারের পট পরিবর্তন হলেও গিরগিটির মতো রং পাল্টিয়ে নাক,কান,গলা বিভাগের দুজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে ম্যানেজ করে নিজের অবস্থান অটল রেখে বহাল তবিয়তে আছেন।
দীর্ঘ বছর একই স্থানে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকায় ভিতর দম্ভ ও অহংকার জন্ম নেয়। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মহলের সাথে তার গড়ে উঠে সুসম্পর্ক। এ ক্ষমতাকে পুঁজি করে সে নিজেকে আরো ক্ষমতাধর মনে করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা অনেক অসহায় সাধারণ রোগীর সাথে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ব্যবহার করা সহ বিভিন্ন প্যাথলজি ও ক্লিনিক সেন্টারে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রোগী পাঠিয়ে মোটা অংকের কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও দীর্ঘ বছর একই স্থানে কর্মরত থাকা নিয়ে ও তার এই বিরূপ আচরণের বিরুদ্ধে অনেকে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের নিকট মৌখিক অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, একই ভাবে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আমিনুল ইসলামের কাছেও ১০ টাকার টিকিট কেটে সরকারি হাসপাতালে প্রচন্ড অসুস্থ শিশু রোগী নিয়ে এলে তাদেরকে ওষুধ লিখে না দিয়ে সরাসরি তার ব্যক্তিগত চেম্বার মেডিপ্লাস এর ভিজিটিং কার্ড দিয়ে রোগী নিয়ে সেখানে যেতে নির্দেশ দেন অভিভাবকদের।
ভুক্তভোগী অভিভাবকদের প্রশ্ন, আমরা যদি তার ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়ে ভিজিট দিয়ে চিকিৎসা নেয়ার আর্থিক সক্ষমতা রাখি, তাহলে কি ১০ টাকার টিকিট কেটে সরকারি হাসপাতালে বাচ্চাকে নিয়ে আসি?
চিকিৎসকদের এসব কর্মকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহলের জোড়ালো দাবি- ডা. মুহাম্মদ আতিকুল বারী ও ডা. আমিনুল ইসলামের ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার।
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি