• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন

চাঁদাবাজি-দখলবাণিজ্যে ভোট হারাচ্ছে বিএনপি, আ.লীগের পক্ষে গণজোয়ার আসার সম্ভাবনা


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩০, ২০২৪, ১:১০ AM / ২৯৮
চাঁদাবাজি-দখলবাণিজ্যে ভোট হারাচ্ছে বিএনপি, আ.লীগের পক্ষে গণজোয়ার আসার সম্ভাবনা

সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি : একদিকে দেশ পরিচালনায় ড. ইউনূস সাহেব ও তার উপদেষ্টাদের ব্যর্থতা, সেই সাথে কোটা আন্দোলনের নামে ছক কষে রাজনৈতিক ফায়দা লুটা থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত নাগরিক মহামান্য রাস্ট্রপতির অপসারন দাবি করা, আওয়ামীলীগের মত বড় একটি দলকে নিষিদ্ধ করতে রীট আবেদন নিয়ে ছেলেখেলা করা সমন্বয়ক নামের বাচ্চা ছেলেদের অতিরঞ্জিত লাফালাফি, আরেকদিকে ৫ আগস্টের পর দেশের সবচেয়ে বড় দলের মধ্যে ‘বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সারাদেশব্যাপী বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, খেয়াঘাট, বাজার, মার্কেট সহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান দখল, দিন-রাত চাঁদাবাজি, চুরি ছিনতাই করে দেশের পরিবেশ এতটাই অস্থিতিশীল করে তুলেছে যে, সামনে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিপ্লব এলে সেই বিপ্লবে বাংলাদেশের সাধারন মানুষ দলটির পক্ষেই দাঁড়াতে পারে। অন্তত বিগত সময়ে দেশের মানুষ এমন ভোগান্তিতেতো পরেনি। এতটা নিরাপত্তাহীনতায় তারা পরেনি।

তাছাড়া ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী দলগুলোকে সমর্থন করা, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নির্যাতন করা, শিক্ষকদের অপমান অপদস্থ করে পদত্যাগ করানো, কট্টরপন্থীদের শিক্ষক বানানো, উগ্রবাদিদের ভিসি বানানো, হিযবুত তাহরীর জঙ্গি গোষ্ঠী অবাধে তাদের জঙ্গি পতাকা নিয়ে মিছিল করছে, অথচ তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে না, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের বাঘা বাঘা সন্ত্রাসীকে জেল থেকে ছেড়ে দেয়া, সব মিলিয়ে চারিদিকে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত।

আর দেশের গণমাধ্যমের অবস্থাটা একবার লক্ষ্য করলে আরও বেশি ভয়ানক মনে হয়! সত্য দেখালে, সত্য লিখলে সেই গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের হামলা-মামলা এমনকি সেইসব গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়ার ভয় পর্যন্ত চারিদিকে। মানুষ দিনের বেলায় নিরাপদ নয়, যখন তখন চুরি ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে। ছোট বড় ব্যবসায়ী ধরে ধরে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। আবার কাউকে যেনো বিএনপির সেসব কুখ্যাত নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি সম্পর্কে কোনো প্রমান দেখাতে না পারে বা আইনগত ব্যবস্থা নিতে না পারে, সেই জন্য অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোবাইলে ব্যবসায়ীদের থেকে মিথ্যে ঋণের টাকা পাওয়ার ভিডিও ধারন করে রাখা হচ্ছে। ২৭ অক্টোবর ফতুল্লার রামারবাগের বাসিন্দা এক জমি ব্যবসায়ীকে ধরে মোবাইল-নগদ টাকা রেখে মারপিট করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এমনই ভিডিও ধারন করে রেখেছে স্থানীয় বিএনপির সেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। যে ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এমন ঘটনা ৫ আগস্টের পর সারা দেশের আনাচে কানাচে ঘটে চলেছে। শুধু কি তাই? এই লেখাটি লিখছি যখন(২৯ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব দখল করার উদ্দেশ্যে গিয়ে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেখানে ৫জন সিনিয়র সাংবাদিক আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বলছি- সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবও কি একটা রাজনৈতিক দলের দখল নেয়ার মত জায়গা? চিন্তা করা যায় এদের মগজে দখল বাণিজ্য কতটা বিস্তার লাভ করেছে? দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব সহ নৈরাজ্য সৃষ্টির অসংখ্য তথ্য ও প্রমান আমাদের সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে।

এখন অবস্থাটা এরকম যে- একটা দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে লুটেপুটে খেয়ে গেলো, আরেকটা দল ক্ষমতায় যাবার আগেই ভাদ্র মাসে কুকুর যেমন তার জাতের বিপরীত লিঙ্গের সাথে সঙ্গমের জন্য পাগল হয়ে উঠে, দিকবিদিক দৌড়ায়, হুশ জ্ঞান হারিয়ে পাগল হয়ে যায়, তেমনি হয়ে উঠল এই দলটি। অথচ দলটির সিনিয়র নেতারা বরাবরই এসব অপকর্ম থেকে নেতাকর্মীদের বিরত থাকার কথা বিভিন্ন সভা সেমিনারে জোড় গলায় বলে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তাদের নাকের ডগায় বসেই চলছে সবকিছু। এই যে এতসব চাঁদাবাজ, দখলবাজ নেতাকর্মীদের নিয়ে এই দলটি পূনরায় রাস্ট্র ক্ষমতায় গেলে তখন তারা দেশটাকেই গিলে খাবে নির্ঘাৎ- এমন ভাবনা আমার একার নয়, এদেশের কোটি কোটি মানুষের। যদি প্রশ্ন করা হয়- ৫ আগস্টের পর ভাল আছে কারা? তবে উত্তর হবে- শুধুমাত্র সমন্বয়ক নামের স্বঘোষিত মেধাবী নামধারী বিগরে যাওয়া ছেলেমেয়েগুলো এবং বিএনপি ও বিএনপির সাথে আতাত করে চলা ব্যক্তিরাই কেবল ভাল আছে। এছাড়া সাধারন মানুষেরতো ৩ বেলা খেয়ে পরে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে উঠেছে। সাধারন মানুষদের মধ্যে যারা কোটা আন্দোলনে ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেছে, তাদেরকেও বলতে শোনা যায়- ‘আগের সরকারই ভাল ছিল, আমরা নিরাপদে ছিলাম, চারিদিকে শৃঙ্খলা ছিল, দুটো ডাল ভাত খেয়ে শান্তিতে ঘুমুতে পারতাম’। ভাবা যায়, বৈষম্যবিরোধী একটা আন্দোলন দিয়ে শুরু করে এখন সমগ্র দেশে বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে মানুষ। চারিদিকে লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মব জাস্টিস/উচ্ছৃঙ্খল গণবিচার চলছে। মানুষ আতঙ্কিত সময় পাড় করছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী হিসেবে নিজের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকে একটা ভবিষ্যৎবানী বলতে চাই, তা হচ্ছে- বিগত ১৬ বছরে বিএনপির প্রতি মানুষের যেটুকু আবেগ ছিল, তা এই ৩ মাসের চাঁদাবাজি ও দখলবাণিজ্যের কারণে প্রায় শেষ। অর্থাৎ বর্তমানে নিজেদের এই অপকর্মের কারণে আগামী নির্বাচনে ভোট হারাবে বিএনপির মত একটি বড় রাজনৈতিক দল। সেই সাথে এই বিরুপ পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আস্থা ও নির্ভরতার জায়গা থেকে আওয়ামীলীগের পক্ষে গণজোয়ার আসতে পারে। যে গণজোয়ারে অংশ নেবে দেশের অসংখ্য সাধারন মানুষ।

লেখক- সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি
(সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী)