এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারী বাজারে ‘লবণ’র দাম বেড়েছে বলে গুজব ছড়িয়েছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। এমন খবর পেয়েই ক্রেতারা আগে ভাগে লবণ ক্রয় করতে ভিড় জমিয়েছেন বিভিন্ন দোকানে। তবে এমন খবর গুজব বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সারা দেশে যখন টিসিবি ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে ঠিক তখনই বিভিন্ন উপজেলার বাজারে ‘লবণ’ নিয়ে চলে তেলেসমাতি। একশ্রেণীর ব্যবসায়ী গোপালগঞ্জে লবণের দাম বেড়েছে প্রচার করলে মুহুর্তের মধ্যে ভিড় জমে যায় বিভিন্ন দোকানে।
এদিকে, জেলা প্রশাসন ও গোপালগঞ্জের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বাজারে প্রচুর পরিমাণে লবণ মজুদ রয়েছে। দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। গুজব ছড়িয়ে যারা বেশি দামে লবণ বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে আনানুগ ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন।
জানা গেছে, প্রতি কেজি লবণের দাম ১০০ টাকা হয়ে গেছে এমন গুজব ছড়াচ্ছে একটি অসাধু চক্র। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে এ ধরনের গুজব কেউ ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমন গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে বেশি মুনাফার লোভে বিভিন্ন বাজারে লবণ বিক্রি করা বন্ধ করে দিয়েছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে এমন গুজবে সাধারণ মানুষ লবণ কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন হাট বাজারে। আর দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ীও লবণ গুদামজাত করতে শুরু করেছেন। লবনের দাম বৃদ্ধির গুজব তুলে সাধারণ মানুষকে শংকায় ফেলে লাভবান হচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।
লবনের দাম বৃদ্ধির আতংক তুলে বেশি দামের লবন বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেন আলীম উদ্দিন আল মামুন নামে এক ক্রেতা। তিনি বলেন, একটি মহল পেঁয়াজের মতো লবনের দাম বাড়ার গুজব তুলেছে এলাকায়। এতে কওে বিভিন্ন দোকানের সব লবন কয়েক ঘন্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা কেজি প্রতি ১শত থেকে ১২০ টাকায় লবন বিক্রি করেছেন।
এ নিয়ে গোপালগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, এটা একটা নিছকই গুজব। বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে কেউ এ ধরণের গুজব ছড়াতে পারে। একটি মহল গুজব ছড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। গুজবে কান না দিতে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহবান জানান।
স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা বলছেন, সরকার বিরোধী একটি কুচক্রী মহল দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড গুলোকে আড়াল করতে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করতে চাচ্ছে। দেশের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিকে অশান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এসব মিথ্যা বানোয়াট অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়েছে একটি রাজনৈতিক মহল।
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি