আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের গণগ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের গণগ্রন্থাগার সমিতির মহাসচিব আন্তর্জাতিক গ্রন্থাগার সমিতি ও প্রতিষ্ঠান ফেডারেশনের (আইএফএলএ) সভাপতির কাছে পত্র দিয়েছেন।
আইএফএলএ সভাপতি লেসলি উইয়ারকে দেওয়া চিঠিতে গণগ্রন্থাগার সমিতির মহাসচিব আজাদেহ নাজারবোলান্দ জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং প্রাপ্ত নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত হামলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৬২টি গণগ্রন্থাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষভাবে ‘সাইয়্যেদুশ শোহাদা (আ.) হোসেইনিয়েহ আজম জানজান’ এবং ‘দেহলোরান বর্ডার রেজিমেন্ট ইলাম’ নামের দুটি গণগ্রন্থাগার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
গণগ্রন্থাগারগুলোকে ইরানের সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত ও সামাজিক কাঠামোর অপরিহার্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে আজাদেহ নাজারবোলান্দ বলেন, ‘এগুলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আমাদের সম্মিলিত জ্ঞান সংরক্ষণ, সামাজিক সংহতি জোরদার ও তথ্য সম্পদে ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর যে ক্ষতি হয়েছে তা কেবল ভৌত স্থানের ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সমাজের বৌদ্ধিক ক্ষমতার এক উল্লেখযোগ্য ক্ষতি।’
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাংস্কৃতিক ও জনপ্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা এবং সাংস্কৃতিক সম্পত্তি সুরক্ষাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দলিলে স্বীকৃত বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন, যেমন সশস্ত্র সংঘাতের সময় সাংস্কৃতিক সম্পত্তি সুরক্ষার জন্য ১৯৫৪ সালের হেগ কনভেনশন।
‘এই পরিস্থিতিতে, ইরানের গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠান সংঘটিত ক্ষয়ক্ষতির পুঙ্খানুপুঙ্খ নথিভুক্তকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে। আমরা আপনাকে এবং আন্তর্জাতিক গ্রন্থাগার সমিতি ও প্রতিষ্ঠান ফেডারেশনকে আমাদের সাংস্কৃতিক ও জ্ঞান পরিকাঠামোর ওপর এই আক্রমণের আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানাতে সসম্মানে আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রক্ষা করার জন্য আপনার পেশাগত ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার কাঠামোর মধ্যে থেকে আমরা একটি যথাযথ ও দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করি,’ যোগ করা হয় চিঠিতে।
আজাদেহ নাজারবোলান্দ আরও বলেন, ‘আমাদের গণগ্রন্থাগারগুলোতে সাংস্কৃতিক পরিষেবার ধারাবাহিকতা নিঃসন্দেহে গ্রন্থাগারিকদের পেশাগত দক্ষতা, সাংস্কৃতিক সমাজের সমর্থন ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভর করবে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রন্থাগারগুলোর পুনর্নির্মাণ আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে।’
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি