

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার বড়দিয়া-চোরখালী আশ্রায়ন প্রকল্পের সমবায় সমিতি কমিটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই প্রকল্পে বসবাসকারি সাধারণ মানুষ কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতির অবৈধ কর্মকান্ডে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সমবায় সমিতির সভাপতি মাসরুল খান ওরফে গোকুল ও সহ-সভাপতি মনি মোল্যার বিরুদ্ধে বসবাসকারিরা আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে প্রশাসনের।
অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাথা গোঁজার ঠাই হিসাবে সরকার নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার বড়দিয়া-চোরখালী এলাকায় একটি আশ্রায়ন প্রকল্প গড়ে তোলে। ওই প্রকল্পে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের বসবাসের জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই সাথে তাদেরকে সমবায়ের ভিত্তিত্বে সাবলম্বী করার জন্য একটি সমিতিও তৈরী করে সরকার। বর্তমানে ওই সকল বসবাসকারি সমবায় সমিতি কমিটির সভাপতি ও সহ-সভাপতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
গতকাল সরেজমিন বড়দিয়া-চোরখালী আশ্রায়ন প্রকল্পে গেলে সাংবাদিকদের দেখে দৌড়ে আসে সেখানে বসবাসকারি সাধারণ মানুষ। তারা এ সময় সমবায় সমিতির সভাপতি ও সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে মুখ খোলে।
আশ্রায়ন প্রকল্পে বসবাসকারি আবুল বিশ^াস বলেন, আমার ছেলেকে এই প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সভাপতি মাশরুল খান ওরফে গোকুল খান কমিটির সহ-সভাপতি মনি মোল্যার মাধ্যমে আমার কাছ থেকে দশ হাজার টাকা নেয়। দীর্ঘ ৩/৪ বছর হতে চললেও আমার ছেলেকে তারা কোন ঘর বরাদ্দ দেয়নি, এমনকি আমার টাকাটাও ফেরত দেয়নি। আমি এখন টাকা ফেরত চাইতে গেলে তারা আমাকে টাকা ফেরত না দিয়ে উপরোন্ত আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ ছাড়াও তারা মাঝে মধ্যে তাদের নিজস্ব মাস্তান বাহিনী এনে শুধু আমাকে নয়, এখানে বসবাসকারি অনেককেই হুমকি দিয়ে থাকে। আমি প্রাণের ভয়ে তাদের কিছু বলতে পারিনা। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।
ওই আশ্রায়ন প্রকল্পে বসবাসকারি পাখি খাতুন বলেন, আমার বাবার কোন জায়গা জমি নাই, যার কারণে আমি সরকারের এই প্রকল্পে বসবাস করছি। তারা আমার কাছে ঘর বরাদ্দের নামে দুই লক্ষ টাকা দাবি করেছে এবং সমবায় সমিতি থেকে বিশ হাজার টাকা লোন করিয়ে দেওয়ার নামে আমার কাছ থেকে খরচ বাবদ দুই হাজার টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে আমি বিশ হাজার টাকা লোন নেই, তারা আমার কাছ থেকে লোন করিয়ে দেওয়ার নামে জোর পূর্বক দুই হাজার টাকা কেটে নেয়। আমি অসহায় বলে তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারিনি। আমি তাদের সকল অপকর্মের বিচার চাই।
আশ্রায়ন প্রকল্পে বসবাসকারি শহর বানু বলেন, সমবায় সমিতির বিশ হাজার টাকা লোন করিয়ে দেওয়ার নামে আমার কাছ থেকে খরচ বাবদ দুই হাজার টাকা জোর পূর্বক কেটে নিয়েছে। যা অন্যায়, আমি তাদের সকল অপকর্মের বিচার চাই।
সমবায় সমিতির বিশ হাজার টাকা লোন করিয়ে দেওয়ার নামে জোর পূর্বক দুই হাজার টাকা করে কেটে নেওয়ার অভিযোগ করেছে দুখিনী বেগম, সাহিদা বেগম, কামাল, জিয়া, ফরিদ, মোস্তফা, সেলিম, মাসুম, সাইফুল, সাথী, ইমরান, টুকুসহ বসবাসকারী একাধিক সাধারণ মানুষ।
আশ্রায়ন প্রকল্পের সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি মনি মোল্যা বিএনপি’র একজন ওয়ার্ড নেতা বলেও জানা যায়। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য সে আশ্রায়ন প্রকল্প ও সমবায় সমিতির নামে চাঁদাবাজী করছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি।
এ ব্যাপারে আশ্রায়ন প্রকল্পের সহ-সভাপতি মনি মোল্যার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ দিয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা। আমি বর্তমানে বিএনপি দলের সাথে যুক্ত আছি নিউজ হলে আমার বিপদ হবে। আপনারা আমার ভাই আমাকে বাঁচান। পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিকদের কে টাকা প্রদানের জন্য চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে বিভিন্ন মহলে ফোন করে বার বার সংবাদটি প্রচার না করার জন্য অনুরোধ করান।
এ ব্যাপারে আশ্রায়ন প্রকল্পের সভাপতি মাসুরুল খান ওরফে গোকুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। তবে তিনি স্বীকার করেন লোন করাতে গেলে উপজেলা সমবায় অফিসারকে কিছু টাকা ঘুষ দেওয়া লাগে। আপনারা আমার ভাই নিউজ করে কোন লাভ হবে না। প্রয়োজনে ৬ মাস জেল খেটে আসবো তাতে কোন সমস্যা নাই। আপনারা যা পারেন তাই করেন। যত খুশি নিউজ করেন সমস্যা নাই।
এ ব্যাপারে ৬নং খাশিয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খান রাসেল সুইটের ব্যবহৃত মোবাইল ০১৭৪৩-৯১৬৩৮২ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আশ্রায়ন প্রকল্পের সমবায় সমিতি কমিটির সভাপতি মাসরুল খান ওরফে গোকুল ও সহ-সভাপতি মনি মোল্যার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে যা আমি অবগত। এদের বিরুদ্ধে আমি কিছুই বলতে পারিনা কারন তারা এলাকার মানুষ। কারো বিরুদ্ধে বললে সে আমার উপর রাগ হবে। তবে আমি এই অনিয়ম ও দুর্ণীতির সুষ্ঠ বিচার চাই।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এবিএম আকতারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি এবং ওই আশ্রায়ন প্রকল্পে বসবাসকারি দের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। আমি এ ব্যাপারে দ্রæত পদক্ষেপ নিচ্ছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুদার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ রকম অভিযোগ শুনেছি। আমি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। এ ব্যাপারে যদি কেউ দোষী হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :