

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো: হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে গত ১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নেপালি ছাত্রী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দায়ের করেন।বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্ত শিক্ষক হুমায়ুন কবির জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত, বানোয়াট এবং ষড়যন্ত্রমূলক।
তবে কিছু স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ড প্রকাশিত হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নেপালি ছাত্রী সুমি সিং এর আনিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক হুমায়ুন কবির তার প্রথম বক্তব্যে বলেন সুমি শিং এর ফেসবুক আইডিটি ফেক। পরবর্তীতে তিনি তার আইডিটি ফেক দাবি করে গোপালগঞ্জ থানায় একটা জিডি করেন। বারবার বক্তব্য পরিবর্তন করায় হুমায়ুন কবির দোষী প্রমাণিত হয় এমনটা মন্তব্য করেছেন সুমি সিং।
তবে অডিও ক্লিপটিতে ফেসবুক আইডির সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি বিতান খানম এবং সুমি সিং তাকে জিম্মি করে স্বীকারোক্তি মূলক বক্তব্য নিয়েছেন।
এদিকে সুমি শিং জানান,হুমায়ুন কবির তার স্ত্রীসহ সুমি সিং এর বাসায় আসেন এবং ক্ষমা চান। আর তখন প্রমাণ সংগ্রহের জন্য কথপোকথন রেকর্ড করেন সুমি সিং।
সুমি সিং এবং শিক্ষক হুমায়ুন কবিরের মধ্যবর্তী সম্পর্কের প্রশ্ন করলে সুমি সিং জানান, প্রথম দিকে আমার এবং স্যার এর একজন ছাত্রী শিক্ষকের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে স্যার বলেন আমি তার ক্রাস, আমাকে বিয়ে করতে চায়।আমি তার প্রস্তাাবে রাজি না হলে তিনি অনেক রাগান্বিত হন। এরপর থেকে নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকে। এমনকি বিভিন্ন শিক্ষকদের কাছে গিয়ে তিনি বলেন সুমি সিংকে আর থাকতে দিব না, ওকে সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে দিব না। পাসপোর্ট নিয়ে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছেন। এমনকি ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাদের সকল নেপালিদের তিনি তার রুমে ডেকে নিয়ে যান এবং আত্মহত্যার হুমকি দেন।
এর সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে সুমি শিং বলেন, এই হুমকিটির একটি রেকর্ডিং প্রমাণ আছে এবং তা প্রক্টর অফিসে দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপ কি এমন প্রশ্নের জবাবে সুমি শিং বলেন, আমাকে যে হয়রানি করা হয়েছে তার সুষ্ঠ তদন্ত করতে হবে এবং সঠিক বিচারের আওতায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন পরবর্তীতে যেন কোন বিদেশি শিক্ষার্থী এমন পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিষয়ে তিনি কাজ করতে চান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, অপরাধ করলে অপরাধী তার শাস্তি পাবে। অপরাধীর কোন পরিচয় নেই সে যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং উপযুক্ত বিচার করা হবে। এক্ষেত্রে কোন কম্প্রোমাইজ করা হবে না।
আপনার মতামত লিখুন :