• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন

আগামী সম্মেলনে পদ হারানোর ভয়ে অনেক নেতা গোপালগঞ্জে আ.লীগে অনুপ্রবেশকারীদের শীর্ষে মুকসুদপুর! বর্তমান আ.লীগ কমিটিতে অনুপ্রবেশকারী যারা :


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১২, ২০১৯, ৪:৫৬ PM / ১৫২
আগামী সম্মেলনে পদ হারানোর ভয়ে অনেক নেতা গোপালগঞ্জে আ.লীগে অনুপ্রবেশকারীদের শীর্ষে মুকসুদপুর! বর্তমান আ.লীগ কমিটিতে অনুপ্রবেশকারী যারা :

photo-1এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ জেলায় আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে মুকসুদপুর উপজেলা। এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে মুকসুদপুর উপজেলার সর্বত্র। মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকদের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে অভিযোগ রয়েছে।

মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের অনুপ্রবেশকারীরা হলেন, মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান মিয়া। বর্তমানে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়নে পৌর মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান মিয়া ১৯৭৯ সালে বিএনপির দলীয় প্রতিক ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। এছাড়াও তিনি ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মুকসুদপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ সভাপতি হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। সুযোগ বুঝে তিনি আওয়ামীলীগে যোগ দেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি শ্যামল কান্তি বোস। তিনি ছাত্র জীবন থেকে বামপন্থী দলের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো: রবিউল আলম সিকদার। তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় যুব সংহতির মুকসুদপুর উপজেলার সভাপতি এবং ২০০৪ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন। সুযোগ বুঝে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দীন মিয়া। তার পিতা দীর্ঘ দিন যাবত ধরে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামির সভাপতি ছিলেন। সালাউদ্দীন মিয়ার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী দলের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির খান। তার পিতা দীর্ঘ দিন যাবত খান্দারপাড় ইউনিয়নে বিএনপির সভাপতি ছিলেন। সাব্বির খানের বিরুদ্ধেও বিএনপি দলের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হায়দার হোসেন। তার বিরুদ্ধে বিএনপি দলের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক মো: জাহিদুর রহমান। তার বিরুদ্ধে ছাত্র জীবনে ঢাকার সূর্যসেন হলে ছাত্রদলের আর্মস ক্যাডার থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ৩৬নং সদস্য হাজী মোহাম্মদ আলী। তার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ৪৯নং সদস্য সাহাদৎ হোসেন লিটন। তার বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ৫৬নং সদস্য আবু সাহেল মোল্লা। তার বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ৫৯নং সদস্য মফিজুর রহমান ফরিদ মুন্সি। তার বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ৬২নং সদস্য বাবু পরিতোষ সরকার। তার বিরুদ্ধে ২০০৮ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ৬২নং সদস্য ফরহাদ হোসেন। তিনি ১৯৭১ সালের রাজাকার পরিবারের সন্তান।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ৬৬নং সদস্য মিরাজুল ইসলাম। তিনি ১৯৭১ সালের রাজাকার পরিবারের সন্তান।
মুকসুদপুর উপজেলা তৃণমূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর এ অনুপ্রবশকারীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে, তারা বলেন এ অভিযান যেন আরো বেগবান হয়,কোন কারনে মাঝ পথে থমকে যেন না দাঁড়ায়।