• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

৬০ টাকা কেজি সজনের ডাটা


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২০, ২০২০, ১১:৪৬ AM / ১৫১
৬০ টাকা কেজি সজনের ডাটা

করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আদা, শুকনা মরিচের দাম ক্রেতাদের ভোগালেও মোটামুটি স্বস্তি বিরাজ করছে সবিজর দামে। বাজারের সব থেকে দামি সবজি সজনের ডাটা এখন ৬০ টাকা কেজি পাওয়া যাচ্ছে, যা কিছুদিন আগে ছিল ১৮০ টাকা। বাকি সবজিগুলো ৪০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকায় ঠিকমতো সবজি আসছে না। একদিকে পরিবহন শ্রমিকরা মাল নিয়ে আসতে চাচ্ছেন না, অন্যদিকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাস্তায় বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আবার যেসব পরিবহন আসছে তার ভাড়া দিতে হচ্ছে বেশি। এসব সমস্যা না থাকলে আরও কম দামে সবজি পাওয়া যেত।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে মালিবাগ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা সজনের ডাটা কেজি বিক্রি করছেন ৬০-৮০ টাকা। একই দামে বিক্রি হতে দেখা যায় রামপুরা বাজার, মোল্লাবাড়ি ও মালিবাগ হাজীপাড়ায়। এক সপ্তাহ আগেই এই বাজারগুলোতে সবজিটির কেজি ছিল ৮০-১০০ টাকা এবং তার আগে ছিল ১৮০ টাকা।

মালিবাগের ব্যবসায়ী জসিম বলেন, ‘এখন সব সবজির দাম কম। এই বাজারে সজনের ডাটার দাম আর কতদিন বেশি থাকবে। তাছাড়া এখনকার সজনের ডাট আগের থেকে মোটা। অল্প কয়েকটাই কেজি হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দাম কমেছে। তবে বাজারে সজনের ডাটার বেশ চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা না থাকলে অন্য সবজির মতো হয় তো ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হতো।’

এদিকে সজনের ডাটার মতো দাম না কমলেও করলা, পেঁপে, বরবটি, গাজর, শিম, ঝিঙে, চিচিংগাসহ প্রায় সব সবজি তুলনামূলক কম দামে কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা, বরবটি ৩০-৩৫ টাকা, শসা ১০-২০ টাকা, পেঁপে ১৫-২৫ টাকা, পাকা টমেটো ১০-১৫ টাকা, শিম ২০-৩০ টাকা, গাজর ২০-৫০ টাকা, বেগুন ১০-২০ টাকা, পটল ৩০-৩৫ টাকা, ঝিঙে ২০-৩০ টাকা, চিচিংগা ১৫-২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তবে রামপুরা ও মালিবাগ অঞ্চলের সব বাজারে এসব সবজির দাম একটু বেশি। এখানকার বাজারগুলোতে করলা ৩০-৪০ টাকা, বরবটি ৪০-৫০ টাকা, শসা ২০-৩০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, পাকা টমেটো ১০-২০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, গাজর ২০-৩০ টাকা, বেগুন ২০-৩০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০-৫০ টাকা, চিচিংগা ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী খায়রুল বলেন, ‘ঢাকায় এখন যেসব সবজি আসছে তার বেশিরভাগ আসছে মানিকগঞ্জ থেকে। অন্য অঞ্চল থেকে সবজি ঠিকমতো আসতে পারছে না। অনেক পরিবহনচালক মাল নিয়ে ঢাকায় আসতে চাচ্ছেন না। আবার যারা আসছেন তারা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন। যদি বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় ঠিকমতো সবজি আসত তাহলে সব সবজিই আরও কম দামে বিক্রি হতো।’

কারওয়ান বাজারের দামের সঙ্গে পার্থক্যের বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী টিটু বলেন, ‘কারওয়ান বাজারের দামের সঙ্গে আমাদের এখানে দামের পার্থক্য হবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা কারওয়ান বাজার থেকে মাল কিনে আনি। সেই মাল আনতে পরিবহন খরচ আছে। আবার আমাদের এখানে ভাড়া আছে। সব খরচ যোগ করলে দেখা যাবে আমাদের দাম ও কারওয়ান বাজারের দাম প্রায় সমান।’

কারওয়ান বাজার থেকে বাজার করা আজগর বলেন, ‘দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এখন দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতি তত খারাপ হচ্ছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। এই আতঙ্কের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজের দামে বেড়েই চলেছে। এতে মানুষের কষ্ট আরও বাড়ছে। তবে গত এক মাসে সবজির দাম বাড়েনি। বরং কিছু কিছু সবজির দাম কমেছে। এই সবজি ছাড়া এখন কোনো কিছুতেই স্বস্তি নেই।’

ভোগাচ্ছে চাল

মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৮ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। আর করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আগে ছিল ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি। অর্থাৎ চিকন চালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৮ টাকা এবং মাসের ব্যবধানে ১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বাড়ার এই তালিকায় রয়েছে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালও। বর্তমানে মাঝারি মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে। আর এক মাস আগে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।

এদিকে গরিবের মোটা চালের দাম চলতি সপ্তাহে নতুন করে না বাড়লেও গত সপ্তাহেই বেড়ে যায়। বর্তমানে মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৫০ টাকা কেজি, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। আর করোনাভাইরাস আতঙ্কের আগে ছিল ৩২ থেকে ৩৫ টাকা।

ঝাঁজ বেড়েছে পেঁয়াজের

ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি করছেন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। তার আগের সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। এ হিসাবে দুই সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

থেমে নেই তেল

করোনাভাইরাস প্রকোপের মধ্যে লুজ সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা পর্যন্ত। আর এক লিটারের বোতলের সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত।

খুচরা ব্যবসায়ীরা এখন প্রতি কেজি লুজ সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। যা আগে ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। ভালো মানের পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, যা আগে ছিল ৭৫ টাকার মধ্যে। সাধারণ পাম অয়েল এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, যা আগে ছিল ৭০ টাকা। আর এক লিটার বোতলের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, যা আগে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

আদা ও শুকনা মরিচে ব্যাপক ঝাল

৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আদা করোনা আতঙ্কের শুরুতে এক লাফে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় উঠে যায়। করোনার প্রকোপ বাড়ায় এখন সেই আদার কেজি এক লাফে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা হয়েছে। আদার মতো দাম বেড়েছে শুকনা মরিচেরও। করোনার আগে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি শুকনা মরিচের দাম বেড়ে হয়েছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা। ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা শুকনা মরিচের দাম বেড়ে হয়েছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা।

ডাল চড়া

বড় দানার মশুরের ডাল খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা, যা আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। আর ছেট দানার মশুরের ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, যা আগে ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে।

দাম বাড়ার এ তালিকায় রয়েছে অ্যাংকর, ছোলা ও মুগ ডাল। বাজার ও মানভেদে অ্যাংকর ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি। আর ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মুগ ডালের দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে।

ডিম ও ব্রয়লার মুরগিতে স্বস্তি

সবজির মতো কিছুটা হলেও ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে ফার্মের মুরগির ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম। করোনার শুরুতে ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ফার্মের মুরগির ডিম এখন পাওয়া যাচ্ছে ৭৫-৮০ টাকার মধ্যে। আর ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ১০০-১২০ টাকার মধ্যে।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১১:৪৩এএম/২০/৪/২০২০ইং)