• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

সাদা চাদরে সতীত্ব পরীক্ষা দিতে হলো না ঐশ্বরিয়াকে!


প্রকাশের সময় : মে ২১, ২০১৮, ১২:১৮ PM / ৪৯২
সাদা চাদরে সতীত্ব পরীক্ষা দিতে হলো না ঐশ্বরিয়াকে!

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কঞ্জরভাট নামে একটি আদিবাসীদের সমাজ রয়েছে। সেখানে অন্য দশটি রাজ্যের মতোই ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয়ে থাকে। তবে বিয়ের পর নারীদের দিতে হয় এক অগ্নিপরীক্ষা। সেখানে সদ্য বিবাহিত নারীদের বিয়ের দিন প্রমাণ করতে হয় তাদের কৌমার্য বজায় রয়েছে কি না।

১২ মে কঞ্জরভাটের বিবেক তামাইচিকার বিয়ে করলেন ঐশ্বরিয়া ভাট নামে এক মেয়েকে। বিয়ের বেশ কয়েকদিন আগেই বিয়ের কার্ড ছাপিয়েছিলেন বিবেক। পুরো কার্ডটি মারাঠি ভাষায় লেখা। তবে কার্ডে ইংরেজিতে একটি বাক্য লেখা ছিল ‘স্টপ দ্য ভি রিচ্যুয়াল’ (ভার্জিনিটি রিচুয়াল, বা কৌমার্য পরীক্ষা)। পুরো ব্যাপারটি বুঝা গেল বিয়ের দিন। বিয়ের পর প্রথা অনুযায়ী সাদা চাদরে সতীত্ব পরীক্ষা দিতে হবে না নববধূ ঐশ্বরিয়াকে।

কঞ্জরভাটে সতীত্ব পরীক্ষা কয়েকশ বছর ধরে চলে আসছে। এই প্রথা রাতারাতি উঠিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। তারপরও বিবেক সাদা চাদরের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ালেন। বলা যায় কঞ্জরভাটের এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো বিবেকই প্রথম ব্যক্তি।

কঞ্জরভাট সমাজের পঞ্চায়েতের নিয়ম অনুযায়ী বৌ ‘সতী’ কি না তা প্রথম রাতেই জানতে হবে। আর এ কারণে নবদম্পতির বিছানায় পাতা সাদা চাদরে রক্তের দাগ লাগলেই পাওয়া যায় প্রমাণ। তবেই সমাজ মেনে নেয় যে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর নিজের কৌমার্য প্রমাণে ব্যর্থ হলে নববধূর কপালে জোটে জুতাপেটা, অথবা বের করে দেওয়া হয় শ্বশুরবাড়ি থেকে।

বিবেক তামাইচিকার বিয়ে করলেন ঐশ্বরিয়া ভাটকে। ছবি: সংগৃহীত

এই প্রথা থেকে সরে এসে বিবেক বিয়ে করলেন। যদিও বিয়ে করার আগেই রাজ্যের মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিবেক। মহিলা কমিশন থেকে পুনের পুলিশ কমিশনারের কাছে ফোন করা হয় বিবেকের বিয়ের বিষয়ে। এরপরই বিয়ের দিনে অনুষ্ঠানে দেখা যায় বাউন্সার আর পুলিশের ছড়াছড়ি।

বিবেক তামাইচিকার জানান, তার বয়স যখন ১২ বছর তখন এক বিয়ে বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখেন কয়েকজন মিলে এক নববধূকে জুতাপেটা করছে। তখন বুঝতেই পারেননি কেন মারছে সবাই মিলে ওই নববধূকে। কিছুটা বড় হয়ে গোটা বিষয়টা পরিষ্কার হয় তার কাছে। সদ্য বিবাহিতা ওই নারী আসলে কুমারীত্ব পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।

আর যাতে কোনো নববধূকে বিয়ের পরেই কৌমার্যের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে জুতাপেটা না খেতে হয়, তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে কয়েকদিন আগে বিবেক আর তার কয়েকজন বন্ধু নিজেরাই মার খেয়ে এসেছেন।

এই প্রথা বন্ধের উদ্দেশ্যে সামাজিকমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন বিবেক। ‘স্টপ দ্য ভি রিচ্যুয়াল’ নামে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও রয়েছে তার, যেখানে ৭৪ জন সদস্য রয়েছে। যার বেশিরভাগই নারী। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১২:১৬পিএম/২১/৫/২০১৮ইং)