• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

শিক্ষক নিয়োগ : পীরগঞ্জে উৎকোচের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ!


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২, ৬:১৯ PM / ১০৯
শিক্ষক নিয়োগ : পীরগঞ্জে উৎকোচের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও বিশ্বাসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উৎকোচের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীর কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে মর্মে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন দুইজন প্রার্থী। অভিযোগকারিরা হলেন-পীরগঞ্জ উপজেলার বিশ্বাসপুর গ্রামের মো: আলী মুদ্দিন এর ছেলে মো: খাইরুল ইসলাম ও একই উপজেলার খনগাঁও গ্রামের থেবেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে শশী মোহন রায়। তাদের অভিযোগ, ওই বিদ্যালয়ের ‘অফিস সহায়ক’ ও ‘কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর’ পদে উৎকোচের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমল কান্তী রায় ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিতিশ কুমার রায়।এছাড়াও প্রধান শিক্ষক গত ১২ সেপ্টেম্বর পীরগঞ্জ বণিক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে নিষেধ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।উপায় না পেয়ে ওই দিনই শশী মোহন রায় ও খাইরুল ইসলাম উৎকোচের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীর কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস করায় পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও পীরগঞ্জ বণিক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।অভিযোগকারি শশী মোহন রায় জানান, বিগত দশ বছর আগে অর্থাৎ ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারী খনগাঁও বিশ্বাসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর’ শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমল কান্তী রায় তৎকালীন সহ: শিক্ষক ও বর্তমান সহ-প্রধান শিক্ষক বাদল চন্দ্র রায়ের উপস্থিতিতে তার ভাই ক্ষীরোদ চন্দ্রের নিকট হতে ৫ লক্ষ টাকা গ্রহন করে।কিন্তু ১০ বছর পর বিদ্যালয়ের চাকুরীর সার্কুলার হলেও প্রধান শিক্ষক বড় অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে অন্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠে।তিনি এ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের জোর দাবি জানান।অন্যদিকে অফিস সহায়ক প্রার্থী খাইরুলের অভিযোগ ৫ বছর পুর্বে অফিস সহায়ক পদে চাকুরী দিবেন প্রধান শিক্ষক এমন প্রতিশ্রুতিতে ৫ লক্ষ টাকা গ্রহন করেন।কিন্তু এখন তিনি টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না এবং সেই পদে অন্য লোক নিয়োগের পায়তারা করছেন। এ বিষয়ে জানতে খনগাঁও বিশ্বাসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কমল কান্তী রায় এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এসব মিথ্যা ও বানোয়াট।আমি যদি টাকা নিতাম তাহলে তো আমার আজকে বাড়ী-ঘর পাকা হয়ে যেতো, আমি কাঁচা ঘরে থাকি কেনো! উৎকোচ নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি নিতিশ চন্দ্র রায় জানান, আমি এতোসব জানি না, নিয়োগের বিষয়ে সবকিছু প্রধান শিক্ষক জানেন। এদিকে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে জানতে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আরিফুল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্ত্রী মহোদয়ের মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন সংযোগ কেটে দেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: শাহরিয়ার নজির এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের কপি এখনো হাতে পাইনি, হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।