• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত


প্রকাশের সময় : মার্চ ৫, ২০১৭, ১:৫৪ PM / ১৬৩
বগুড়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত

ঢাকারনিউজ২৪.কম, বগুড়া : বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন। হাসপাতালে এক রোগীর স্বজনকে মারধরে চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের শাস্তির পর ৪  দিনেও কাজে ফেরেননি শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। তাদের শাস্তি বাতিলসহ সাত দফা দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টায় মানববন্ধন ও মৌনমিছিল করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় চারজনের শাস্তির নোটিশ আসার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতাল ছেড়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। শুক্রবার বিকেলে এক জরুরি সভায় তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজে যোগ দিতে বলা হলেও কোনো জবাব দেননি তারা। ৪র্থ দিনের মতো ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলছে।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তি প্রত্যাহার করতে হবে। আমাদের কর্মস্থলে ফিরে নিতে যা যা প্রয়োজন কর্তৃপক্ষ তা করবেন। দাবি মেনে না নিলে ধর্মঘট চলছে, চলবেই। আমরা ১৩০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। আমরাই হাসপাতালের প্রাণ। আমাদের বাদ দিয়ে কিছু করা যাবে না। দাবি আদায়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মাসুদ আহসান বলেন, আমরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা কাজে যোগ দেয়নি। শনিবার সকাল ৯টায় আমার কার্যালয়ে হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান এবং রেজিস্টারদের নিয়ে পরিচালনা কমিটির সভা করা হয়। সভায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা সেবার কোনো ঘাটতি হচ্ছে কিনা এ জন্য আট সদস্যবিশিষ্ট পৃথক দু’টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। ওই মনিটরিং টিম হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা ব্যবস্থা দেখবে। যদি কোথাও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয় তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ অবহিত করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে দু’শজনের মতো চিকিৎসক রয়েছে। চিকিৎসার কোনো সমস্যা হবে না।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ সদর থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিতে আসা আলাউদ্দিন সরকার নামে এক রোগীর ছেলে রউফ সরকার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারধরের শিকার হন। এ ঘটনা তদন্তের পর চার শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাজার মেয়াদ শেষে তাদের চারটি ভিন্ন মেডিকেলে ইন্টার্নশিপ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আল মামুনকে খুলনা মেডিকেল, নূরজাহান বিনতে ইসলাম নাজকে দিনাজপুর মেডিকেল, মো. আশিকুজ্জামান আসিফকে ফরিদপুর মেডিকেল এবং কুতুবউদ্দিনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ করলে তাদের পেশাগত সনদ বাতিল করা হবে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এই ঘোষণার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে নামেন।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১:৪৫পিএম/৫/৩/২০১৭ইং)