• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

পর্যটকের ছদ্মবেশে সমুদ্রে অভিযানের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে লস্কর সদস্যরা


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৭, ২০২৬, ৭:০৮ PM / ২৯
পর্যটকের ছদ্মবেশে সমুদ্রে অভিযানের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে লস্কর সদস্যরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের করাচির উপকণ্ঠে একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে সাধারণ পর্যটকের ছদ্মবেশে সামুদ্রিক অভিযান ও পানির নিচে যুদ্ধকৌশলের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তইবার সদস্যরা। এ বিষয়ে সরাসরি অবগত এমন একাধিক ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করাচি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চারনা দ্বীপে এই প্রশিক্ষণ চলছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ডাইভিংয়ের বিভিন্ন স্থান থাকায় দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া লস্কর সদস্যদের সাধারণ পর্যটক হিসেবে সেখানে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো লস্করের এই সামুদ্রিক শাখাকে ‘দাওয়াহ মেরিন উইং’ অথবা ‘সাদা-এ-হুররিয়ত’ নামে চিহ্নিত করেছে।

প্রশিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানি রাজনৈতিক সংগঠন মার্কাজি মুসলিম লীগের (পিএমএমএল) সদস্যরা।

সংগঠনটিকে লস্করেরই একটি ছদ্মবেশী রাজনৈতিক শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সামুদ্রিক পরিবেশে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে বেশ কিছুদিন ধরেই তৎপরতা চালাচ্ছে লস্কর। এর আগে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মংলা বাঁধ এবং জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সুইমিংপুলেও সংগঠনটির সদস্যদের এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে। এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কয়েকটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত নির্ভুল লক্ষ্যভিত্তিক বোমা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেওয়া লস্কর সদস্যরা সমুদ্রপথে শহরটিতে প্রবেশ করেছিল। সূত্রগুলোর দাবি, ওই হামলার পর থেকেই সংগঠনটি ছোট পরিসরে একটি সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনাকারী দল বজায় রেখেছে। তবে বর্তমানে সমুদ্রপথে বড় ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং সমুদ্রপথে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্র।

এদিকে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের মুরিদকেতে লস্করের সদর দপ্তরসহ নয়টি বড় জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ভারত। এছাড়া নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) কাছাকাছি জঙ্গিদের কয়েকটি ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, লস্করের একটি অনলাইন উগ্রবাদী তৎপরতা ও তরুণদের নিয়োগ নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার পর ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে ছয়টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (সিআইকে)। অভিযানগুলো হয়েছে বুদগাম, শ্রীনগর, বিজবেহারা, অনন্তনাগের মাত্তান এবং পুলওয়ামার একটি গ্রামে। এসময় বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান চালানো বাড়িগুলোর একটি ২২ বছর বয়সী স্নাতক ডিগ্রিধারী মোহাম্মদ ইয়াসিন মীরের। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা তাবাসসুম শাহিন পাকিস্তানের নাগরিক। গত বছরের ২৯ এপ্রিল পাকিস্তানে যাওয়ার পর তিনি আর ভারতে ফেরেননি। তিনি ভিসা পাননি, নাকি স্বেচ্ছায় ফিরে আসেননি, তা স্পষ্ট নয়। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ছেলের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সিআইকে।সূত্র: এনডিটিভি