• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘কবিয়াল উৎসব ২০২৬’


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ৬:৩৭ PM / ২৩
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘কবিয়াল উৎসব ২০২৬’

ঢাকারনিউজ : বাংলার লোকসংস্কৃতি, কবিগান ও দেশজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চার প্রসারে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কবিয়াল উৎসব ২০২৬’। কবিয়াল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ উৎসবে সাহিত্য, সাংবাদিকতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কবিয়াল ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান, কবি, গবেষক ও অধ্যাপক ড. মু. নজরুল ইসলাম তামিজী। তাঁর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলার লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ, কবিগানের চর্চা সম্প্রসারণ এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মীর হাসমত আলী। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সরদার তমিজউদ্দীন আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য মোহাম্মদ লিয়াকত আলী এবং অ্যাডভোকেট ড. মোহাম্মদ আবু তাহেরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। স্বাগত বক্তব্য দেন কবিয়াল ফাউন্ডেশনের গভর্নর বাপ্পি সাহা।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তিনটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মু. নজরুল ইসলাম তামিজীর গবেষণাগ্রন্থ ‘নজরুলের সাম্যবাদী চেতনা’, মুহাম্মদ ছমিউদ্দীন চিশতীর কাব্যগ্রন্থ ‘রুহের সফর’ এবং কবিয়াল ফাউন্ডেশনের মুখপত্র ‘কবিয়াল’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

বাংলার লোকসংস্কৃতি ও কবিগানের ঐতিহ্যকে সমকালীন সাংস্কৃতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এ উৎসব অধ্যাপক ড. মু. নজরুল ইসলাম তামিজীর সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য প্রকাশ। কবিয়াল ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে তাঁর ভূমিকা লোকজ ঐতিহ্য, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

তামিজীর গবেষণাগ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও গবেষণার পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী চিন্তা ও মানবিক দর্শন নিয়ে পাঠকসমাজের আগ্রহ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, কাব্যগ্রন্থ এবং ফাউন্ডেশনের মুখপত্র প্রকাশের মধ্য দিয়ে সৃজনশীল সাহিত্যচর্চা ও সাংগঠনিক প্রকাশনার ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়াস প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন উৎসবের সাহিত্যিক গুরুত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এর মাধ্যমে গবেষণা, কবিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে একই পরিসরে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়।

লোকসংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি জাতির ইতিহাস, সামাজিক অভিজ্ঞতা, জীবনবোধ ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ আধার। কবিগান, লোককবিতা ও দেশজ সাংস্কৃতিক ধারার চর্চা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ উপলব্ধিকে সামনে রেখে কবিয়াল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

উৎসবের মধ্য দিয়ে সাহিত্যিক, গবেষক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দেশীয় ঐতিহ্যভিত্তিক সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার একটি সাংগঠনিক প্রয়াসও লক্ষ করা যায়।

এবারের উৎসবে কবিয়াল সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয় তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান, কবি সুব্রত পাল ও কবি জুনান নাশিত।

বাংলা সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। বিশিষ্টজনদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।

কবিয়াল উৎসব ২০২৬-এ দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণ উৎসবটিকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত করে।

আয়োজকদের মতে, বাংলার লোকজ ঐতিহ্য ও কবিগানের চর্চাকে উৎসাহিত করা, দেশীয় সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

অধ্যাপক ড. মু. নজরুল ইসলাম তামিজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ উৎসব লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। নিয়মিত আয়োজন, গবেষণাধর্মী প্রকাশনা এবং গুণীজনদের সম্মাননার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হলে কবিয়াল ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ দেশের সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতিচর্চায় আরও বিস্তৃত ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলার কবিগান ও লোকঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে শেষ হয় ‘কবিয়াল উৎসব ২০২৬’।