• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে ৮জন ডেঙ্গু আক্রান্ত


প্রকাশের সময় : জুলাই ৩১, ২০১৯, ৬:৪৯ PM / ১৩৬
ঠাকুরগাঁওয়ে ৮জন ডেঙ্গু আক্রান্ত

ঠাকুরগাঁও, প্রতিনিধি : সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়েও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগ। গত কয়েকদিনে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৮ জন রোগী। তবে আক্রান্ত রোগীর বেশিরভাগই ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে এ রোগের প্যাথলজিকাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে থেকেই করতে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

অপরদিকে আতঙ্কে রয়েছেন হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীরাও। বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা: এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম।হাসপাতালে তথ্য মতে, গত ২৮ জুলাই থেকে শুরু করে ৩০ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৮ জন ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এদের মধ্যে তিনজন রোগীর অবস্থার উন্নতি হলে বাড়ি ফিরেন তারা। কিন্তু এখনো চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে আরও পাঁচজন।ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীরা হলেন- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উত্তর বঠিনা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সুমিআক্তার(২৪), পীরগঞ্জ উপজেলার ভবেশ রায়ের ছেলে পোশাক শ্রমিক স্বপন রায়(২১), পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে পোশাক শ্রমিক পাইলট(২০), রানা (৩২) ও আব্দুস সালাম (৪৫)। চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরত যাওয়া রোগীরা হলেন- বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের দমিজুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম(১৯), সদর উপজেলার ফকদনপুর গ্রামের রতিশ বর্মনের ছেলে শহর বর্মন(১৯) ও দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ এলাকার খাইরুল ইসলামের ছেলে রুবেল (৩০)।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত স্বপন রায়ের ভাই বকুল রায় জানান, ঢাকায় কাজ করতেন তার ভাই স্বপন। হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে ছোট ভাই। পরে তাকে বাসায় নিয়ে আসার পর ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এখানে ডেঙ্গু সনাক্ত করণের কোনো প্যাথলজিকাল পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। তাই রোগী ও তাদের স্বজনদের বাইরে থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি এই হাসপাতালে এসব ব্যবস্থা থাকতো তাহলে হয়তো এতো সমস্যা হতোনা।ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সুমি আক্তারের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘তার মেয়ে ঢাকার পান্থপথ এলাকায় থাকতেন। হঠাৎ ১৮ জুলাই শরীরে প্রচন্ড জ্বর অনুভব করলে পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারি সে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। পরে তাকে গ্রামে নিয়ে আসা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৯ জুলাই ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মেয়েকে।নাহিদ রেজা নামের এক রোগীর ছেলে জানান, আমি চিকিৎসার জন্য আমার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। শুনেছি এই রোগীদের যদি কোনো মশা কামড় দেয় আর সেই মশা যদি আমাদের অন্য কাউকে কামড় দেয় তাহলে আমাদেরও ডেঙ্গু হবে। তাই হাসপাতালে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাই যাতে এই ডেঙ্গু রোগীদের দ্বারা আর কোন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হন।ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ৮জন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে। এদের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ৩ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফেরত গেছে। অবশিষ্ট ৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এছাড়া হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি না থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন ‘কোনো ডেঙ্গু রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি’য়ের অতিরিক্ত টাকা কেউ যেন না নেয় সেজন্য জেলা শহরের প্যাথলজি এবং ক্লিনিক মালিকদের সঙ্গে নিয়ে সভা করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, হাসপাতালের অন্য রোগীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ সাধারণ কোন মশা ডেঙ্গু রোগীর শরীরে কামড় দিয়ে অন্য কোন মানুষকে সেই মশা কামড় দিলে তাতে ডেঙ্গু রোগ ছড়াবে না। একমাত্র এডিস মশার মাধ্যমেই ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়।এদিকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজ খবর নেন। এসময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের চিকিৎসা সেবায় যাতে কোন প্রকার ত্রুটি ও অনিয়ম না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনকে নির্দেশনা দেন তিনি। হাসপাতাল পরিদর্শন কালে জেলা প্রশাসকের সাথে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম, সিভিল সার্জনডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.প্রভাষ কুমার দাশ ও ডা. তোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৬:৫০পিএম/৩১/৭/২০১৯ইং)