• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে বাস্তুহারা লীগের কমিটি নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা!


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৫, ২০১৮, ৯:৪৬ PM / ২৮০
ঠাকুরগাঁওয়ে বাস্তুহারা লীগের কমিটি নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী বাস্তুহারা লীগের নতুন কমিটি নিয়ে দুটি গ্রুপ পৃথক দুটি কমিটি ঘোষণা দেওয়ায় সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আবুল কালাম আজাদ তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য গত ১১ই এপ্রিল দল থেকে বহিস্কৃত হন-যা বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার হয়। ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দেখা দেয় ফাটল।এতে একটি পক্ষ বহিস্কৃত সম্পাদকের পক্ষ নেয় এবং আরেকটি পক্ষ মুল ধারার বাস্তুহারা লীগের পক্ষে অবস্থান নেয়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী বাস্তুহারা লীগ ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়।এতে নতুন কমিটি ঘোষণার নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি।তারই প্রেক্ষিতে আব্দুল জলিলকে সভাপতি ও মো: জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করে ৫৬সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মো: দবিরুল ইসলাম(এমপি) সুপারিশ করেন এবং তা কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমতির জন্য প্রেরণ করা হয়। সে মোতাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার লুৎফর রহমান গত ১জুলাই’১৮   তারিখে  জলিলকে সভাপতি,জুয়েলকে সা:সম্পাদক, মোতালেব হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক,জীবন দেবনাথ,আব্দুর রহমান ও জিন্নাত আলীকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে ৫৬ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি অনুমোদন দেন।কিন্তু এই কমিটি ঘোষণার পর পরই একটি বিরোধী পক্ষ দলের ভেতর বিভ্রান্তি ছড়ানোর লক্ষে বিতর্কিত ও বহিস্কৃত কেন্দ্রীয় সা:সম্পাদক লায়ন আবুল কালাম আজাদের   যোগসাজসে গত ৭জুলাই’১৮ তারিখে দুলাল সরকারকে সভাপতি ও শহিদুল ইসলামকে সা:সম্পাদক ঘোষণা করে ৬৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিতর্কিত কমিটি অনুমোদন করেন-যার কোন আইনী বৈধতা নেই।

এহেন পরিস্থিতিতে দুটি পক্ষই মুখোমুখি অবস্থান করায় যে কোন মুহুর্তে বড় ধরণের গন্ডগোলের আশঙ্কা করছে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ জনগণ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামী বাস্তুহারা লীগ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন,দলে মতবিরোধ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ মতবিরোধ যাতে সংঘাতে রূপ না নেয় আমরা সে চেষ্টা করছি। দলের ভাবমূর্তি যাতে ক্ষুন্ন না হয় সে লক্ষে আমরা দলের জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেছি এবং তারা এর একটা সুষ্ঠ সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেছেন।তবে দলের ভাবমুর্তি বিনষ্টকারি কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।এ বিষয়ে জেলা বাস্তুহারা লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জুয়েল বলেন,বাস্তুহারালীগকে যারা ভালোবাসেন তারা কখনোও দলের ক্ষতি চাইবেননা। একটি কুচক্রী মহল দলের ভাবমুর্তি বিনষ্ট করার লক্ষে অবৈধ পন্থায় কেন্দ্রীয়   কমিটির বহিস্কৃত সা: সম্পাদকের ভূয়া অনুমোদন দেখিয়ে দলে বিভ্রান্তি তৈরীর চেষ্টা করছে।তবে  তাদের   এ উদ্দেশ্য কোনদিন সফল হবে না। আমরা  যারা মুজিব আদর্শের সৈনিক, আমরা তা অবশ্যই প্রতিহত করবো। তবে তারা যদি নিজেদের ভূল বুঝতে পেরে ক্ষমা চায় তাহলে তা বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে বিতর্কিত কমিটির জেলা সভাপতি দাবিকারি দুলালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসলে কেন্দ্রে যখন ফাটল দেখা দেয় তখন সাধারণ কর্মীরা পড়েন বিপদে। তারা কোন না কোন পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা করেন। আমরাও এর বাইরে নয়, আমাদের কাছে মনে হয়েছেতিনি (বহিস্কৃত সা: সম্পাদক) সঠিক। তাই আমরা তার কাছ থেকে কমিটি অনুমোদন করেছি।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৯:৩৬পিএম/১৫/৭/২০১৮ইং)