• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০২:১৩ অপরাহ্ন

জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র আত্মপ্রকাশ


প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৩, ৬:২৯ PM / ১১২
জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র আত্মপ্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা : আজ ২০ মে রোজ শনিবার সকাল ১১টায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনী হলে রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে “জাতীয় সমন্বয় কমিটি”র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান সম্মনয়ক হানিফ বাংলাদেশী। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সমন্বয়ক মুজাম্মেল মিয়াজী। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুরাইয়া ইয়াসমিন। বক্তব্য রাখেন শিমুল পারভেজ, মেহেদী হাসান, ইউছুফ সাকিল, রচি এনাম সহ অনেকেই।

হানিফ বাংলাদেশী বলেন, আমরা বাংলাদেশের কয়েকজন সচেতন যুবক যারা বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রের নানা অনিয়ম অসংগতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছি। এখন দেশের মানুষ মনে করছে রাষ্ট্রের মধ্যে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে, রাষ্ট্রের এই ক্রান্তি-লগ্নে জনগণ আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতার লক্ষ্যে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা আমাদের লক্ষ্য। রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য দেশের ছাত্র, যুবক বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করা সময়ের দাবী।

প্রতিহিংসা পারায়ণ ও রাষ্ট্রের মৌলিক ইস্যুতে বিভাজিত জাতি কখনই তার স্বাধীনতার কাংখিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনা। রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দিতা থাকবে কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি প্রতিহিংসা পারায়ণ। দেশের স্বার্থকে বির্সজন দিয়ে এবং দেশের আত্নমর্যাদা বলিদান দিয়ে শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকা বা ক্ষমতায় যাওয়ার এক হীন প্রতিযোগিতা চলছে। এই অপরাজনীতির বিরুদ্ধে এবং বিভাজিত জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করতে আমরা এই চারটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছি।

১। বাকস্বাধীনতা
যেকোন ব্যক্তি বা সংগঠন অথবা সম্প্রদায় নির্ভয়ে বিনা প্রহরতায় বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, অনুমোদন গ্রহণের বাধ্যতা ব্যতিরেকে নিজেদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে সেটাই বাকস্বাধীনতা। কিন্তু বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতা গত ৫২ বছর যাবত বাধাগ্রস্থ হয়েছে। ভোটাধিকার, কাযকর গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন বাঁধাগ্রস্ত হয়ে আসছে। কোন সরকার জননিরাপত্তা আইন আবার কোন সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সংবাদ পত্র ও মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে। বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন জাতীয় সমন্বয়।

২। অর্থনৈতিক মুক্তি
বিশ্বব্যাপি করোনা দুর্যোগ আর যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৃষকরাই মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু দেশের কৃষকেরা ন্যায্য মূল্যে সার ও কীটনাশক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের উৎপাদিত ফসলের ও ন্যায্য মূল্য পায়না, তারপরে ও কৃষকেরা কোটি কোটি টন খাদ্য শস্য উৎপাদন করে দেশের মানুষের খাদ্যের যোগান দিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকরা দেশ বিদেশে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের চাকা সচল রাখছে। দেশে ঘুষ দুর্নীতি আর বিদেশে অর্থ পাচারের কারনে দেশে মিল ইন্ডাস্ট্রি বা কারখানা ক্রমে ক্রমে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই পাচারকৃত অথ ফেরত এনে সহজ শর্তে সহজ কিস্তিতে যুবকদের ঋণ প্রদান করা হোক।

লক্ষ্য লক্ষ্য বেকার যুবক দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। হতাশাগ্রস্ত বেকার যুবকরা আত্মহত্যা ও করছে। বেকার যুবকরা উন্নত জীবনের আশায়, জায়গা জমিন বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে সাগরে ডুবে মরছে। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও অর্থ নৈতিক শৃঙ্খলার জন্য । এই সংকটময় মুহুর্তে প্রয়োজন জাতীয় সমন্বয়।

৩। মানবিক মর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠন
সংবিধানের ৭(১) বলা আছে রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। রাষ্ট্র কারা পরিচালনা করবেন সেটা ঠিক করবে এই দেশের জনগণ। কিন্তু দুভার্গ্য জনগণের শক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আর ক্ষমতায় থাকার জন্য বিদেশিদের দারস্থ হচ্ছে, দেশের রাজনীতি এখন দুতাবাস নিভর হয়ে পড়েছে, যাহা দেশের জন্য মর্যাদা হানিকর। এক দল বিদেশে লবিষ্ট নিয়োগ করে এবং অন্য দল পি আর নিয়োগ করে। দুতাবাস নির্ভর রাজনীতি মানবিক মর্যাদাশীল রাষ্ট্র নির্মানে বড় বাঁধা। স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে প্রয়োজন জাতীয় সমন্বয়।

৪। কার্যকর গণতন্ত্র
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র। যেখানে মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদনের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকিবে। মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকিবে। কিন্তু বিগত ৫২ বছর ধরে আজ পর্যন্ত যে দল যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে, সে দলই গণতন্ত্র ও মানব সত্তার ‍উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছে। জনগণের ভোটাধিকারের উপর বারবার হস্তক্ষেপ করে আসছে। গণতন্ত্রকে সংকোচিত ও বাঁধাগ্রস্থ করেছে। যার কারণে দেশের শাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র নিভরশীল হয়ে পড়ছে। এই সকল সমস্যা উত্তরনের জন্য বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সমন্বয় প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করবে জাতীয় সমন্বয় কমিটি।