• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন

জাতীয় নির্বাচনে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে কমিউনিস্ট পার্টি’র সমাবেশ


প্রকাশের সময় : মে ২১, ২০২৩, ১০:০৫ PM / ৮৩
জাতীয় নির্বাচনে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে কমিউনিস্ট পার্টি’র সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা : ২১ মে রোববার দুপুর ২ টায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)’র উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড ডাঃ এম এ সামাদ এর সভাপতিত্বে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)’র সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য কমরেড সামাদ বলেন, আমরা গভীর দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদেশি কূটনীতিকদের অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশস্থ দুতাবাসগুলোকে মনে হয় রাজনৈতিক কার্যালয় বানিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ তাদের ক্ষমতা অবৈধ ভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের দ্বারস্থ হচ্ছে। বিএনপি জোটও সেখানে ছুটোছুটি করছে তাদের যেন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে দেওয়া হয়।

কমরেড সামাদ তার বক্তব্যে আরও বলেন, শুধু যে দূতাবাসেই যাচ্ছে তা নয় সাম্রাজ্যবাদের দালাল আমেরিকা বৃটেন পর্যন্ত এরা দৌড়াদৌড়ি করছে, লবিস্ট নিয়োগ করছে। বাংলাদেশের এই দুই জোটের কারও জনগনের উপর আস্থা নেই। বিদেশি প্রভুদের পদলেহন করে ক্ষমতায় যেতে চায়।

তিনি বলেন, বিদেশি কূটনীতিকদের আমরা সতর্ক করে দিতে চাই ভুলে যাবেন না বাংলাদেশ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র। জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়। কারা কিভাবে দেশ পরিচালনা করবে এটা ঠিক করবে বাংলাদেশের জনগন। অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করলে জনগণ মেনে নেবে না।

কমরেড সামাদ যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জন্য বিদেশি প্রভুদের নিকট নির্লজ্জ ভাবে দৌড়াদৌড়ি করছে তাদের বয়কট করার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান এবং অবিলম্বে পদত্যাগ করে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান। তিনি এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

কমরেড সামাদ আরও বলেন, সরকার লুটপাটকারীদের স্বার্থে দফায় দফায় নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির করে চলেছে। এটা ফ্যাসিবাদ সরকারের চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। জনগনের উপর মরার উপর খাঁড়ার ঘা। সরকারের দুর্নীতি লুটপাট অরাজকতা ভুলনীতির দায় জনগণের কাঁধে চাপানো হচ্ছে। সরকার বারবার দাম বৃদ্ধি করছে। সরকারের এই দুর্নীতি ও ভুলনীতির দায় জনগণ কেন বহন করবে? অবিলম্বে পদত্যাগ করে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এই সরকার অনির্বাচিত সরকার। ভোট ডাকাতি করে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। ২০১৪ ও ২০১৮ এর মত ভোটারবিহীন কোন নির্বাচন বাংলাদেশে আর হতে দেওয়া হবে না। জনগণ তা হতে দেবে না। সরকার যত তাড়াতাড়ি পদত্যাগ করবে ততই মঙ্গল। নইলে পরিণতি ভালো হবে না। পৃথিবীতে কোন স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট সরকার জোর করে চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে নাই। এই সরকারও থাকতে পারবে না। সরকারের বিদায় কালে জাপান, আমেরিকা, লন্ডন ভ্রমণে গিয়েছে এবং যে সকল চুক্তি জাপানের সাথে করেছে অবিলম্বে জনসম্মুখে তা প্রকাশ করতে হবে।

পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাহিদুর রহমান বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট, অরাজকতা, অর্থ পাচার বন্ধ করতে হবে। পাচারকৃত অর্থ বিদেশ থেকে ফেরত এনে পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। আজ সাধারণ জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বাজারে চালডাল সহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের মূল্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তিনি সিন্ডিকেট মুনাফা খোরদের হাত থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক কমরেড তালেবুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড সামছুল হক সরকার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড তারেক ইসলাম বিডি, কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া, নারী নেত্রী কমরেড নূর আফসানা নীপা প্রমূখ। বক্তারা অবিলম্বে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রতাহারের দাবি জানান। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।