• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০১:৫০ অপরাহ্ন

জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতসহ সারাদেশে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২২, ২০২৩, ১১:১১ AM / ২৭৩
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতসহ সারাদেশে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট : ধর্মীয় ভাবগার্ম্ভীযের মধ্যদিয়ে আজ ২২ এপ্রিল শনিবার রাজধানীসহ সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ উল ফিতর। রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত হয়েছে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠে, সকাল সাড়ে ৮টায়। এ জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনৈতিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি রুহুল আমিন।

নামাজ শেষে দেশ ও জাতির উন্নতি ও শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। মহামারি করোনার কারণে গত দুই বছর কোলাকুলিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। করোনা না থাকায় এবার কোলাকুলিতে কোনো বাধা ছিল না। নামাজ শেষে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও কোলাকুলি করতে দেখা গেছে।

একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রধান ঈদ জামাত ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এরআগে সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে ইমাম বিশেষ খুতবা দেন। প্রথম জামা‌তে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। আর দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় মসজিদ এলাকায় এবং মসজিদের প্রতিটি গেটে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। ব্যাগ নিয়ে আসা অনেককেই পুলিশ তল্লাশি করেন।

রাজধানীর মতো সারাদেশেই ঈদ উল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে এবং প্রধানমন্ত্রী গণভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

ঈদ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা পাচ্ছেন ৫ দিন ছুটি। বুধবার (১৯ এপ্রিল) শবে কদর উপলক্ষে ছুটি, বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) সরকারের নির্বাহী আদেশ অনুসারে একদিন ছুটি এরপর শুক্রবার থেকে রবিবার (২১ থেকে ২৩ এপ্রিল) তিন দিন ঈদ উপলক্ষে ছুটি থাকবে।

সরকারি, আধা-সরকারি ভবন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সকল স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় পতাকা ও ‘ঈদ মোবারক’ খচিত ব্যানার মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড ও লাইট পোষ্টে প্রদর্শন করা হচ্ছে। ঈদ উল ফিতরে সরকারি ভবনসমূহসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

সারাদেশে বিভাগ, জেলা-উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং বেসরকারি সংস্থাসমূহের প্রধানগণ জাতীয় কর্মসূচির আলোকে নিজ নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন করে ঈদ উল ফিতর উদযাপন করছে। এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমসমূহ যথাযথ গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার ও সংবাদপত্রে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে।

ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেইফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, দুঃস্থ কল্যাণ ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশন যথাযথভাবে পবিত্র ঈদ উল ফিতর উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে সারাদেশে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঈদের দিন সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল শিশু পার্কে প্রবেশ এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের দিন সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিনাটিকেটে যাদুঘর, আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান প্রবেশ এবং তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশুদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।