• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডিশরা


প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০১৮, ১২:১৭ AM / ১২০
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডিশরা

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : একটি দলের সামনে ২৪ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার হাতছানি। আরেকটি দলের স্বপ্ন ৬৪ বছর পর শেষ আটে খেলার স্বপ্ন। ১৯৫৪ সালে স্বাগতিক হয়ে শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা সুইজারল্যান্ডের সেই স্বপ্ন গেল দুই বিশ্বকাপ মিস করা সুইডিশরা ভেঙে দিল। আরো নির্দিষ্ট করে বললে সুইডেন দুই যুগ পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের পথের দেখা পেল তাদের মহাতারকা নাম্বার টেন ইমিল ফোর্সবার্গের ৬৬ মিনিটের করা দুর্ধর্ষ গোলটিতে। ইতিহাস গড়া ম্যাচে মঙ্গলবার রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি পেয়েছেন ফোর্সবাগ। শেষটায় প্রবল আক্রমণে গিয়েও শাকিরি-জাকাদের সুইজারল্যান্ড গোল পেল না। ১-০ গোলের জয় সুইডেনের। এই রাতেই ইংল্যান্ড-কলম্বিয়ার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে শেষ আটের লড়াই সুইডিশদের।

সুইস-সুইডিশ ম্যাচের আসল খেলাটা হলো মূলত গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর। দুই পক্ষেরই ডিফেন্স ছিল ব্যস্ত। গোলকিপারদের ঝাঁপাতে হয়েছে বেশি। সুইসরা শুরুতে চেপে ধরলেও ফিনিশিং দিতে পারছিল না। সুইডেনের আক্রমণও রুখে দিচ্ছিল প্রতিপক্ষ। কিন্তু ৬৬ মিনিটে আর পারা গেল না। ফোর্সবার্গ ম্যাচ জেতানো গোলটি করলেন। এরপর মরিয়া আক্রমণে একটি গোলের জন্য ডিফেন্স অরক্ষিত করে ফেলল সুইসরা। স্টপেজ টাইমে হলো এক নাটক। কাউন্টার অ্যাটাকে মার্টিন ওলসনের সামনে ছিলেন শুধু গোলকিপার। মাইকেল ল্যাং ল্যাং মেরে দিলেন। রেফারি পেনাল্টি দিলেন। ল্যাং লাল কার্ড দেখলেন। কিন্তু ভিএআর বলে দিল, ওটা ঠিক বড় বক্সের বাইরে। ফ্রি কিক। টইভোনেনের দারুণ শটটা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দিলেন ইয়ান সমার।

কিন্তু তার আগে সুইডিশ ডিফেন্স বারবার ভাঙছিল সুইসরা। প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ জাকা-শাকিরিরা জেগে উঠেছিলেন। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট শট, কখনো গোলকিপার রবিন ওলসেনের কারণে, কখনো ডিফেন্সের শেষ সৈনিকটার জন্য বেঁচে যাচ্ছিল সুইডিশরা।

কিন্তু এর আগে ৬৬ মিনিটে তাদের সর্বনাশটা করেছেন ফোর্সবার্গ। প্রথমার্ধটাই ছিল মার্কাস বার্গের। দ্বিতীয়ার্ধটা ফোর্সবার্গের। তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে নেওয়া গোলটি আসলে দারুণ এক পরিকল্পিত ও গোছানো আক্রমণের ফল। শেষে কাজে দিয়েছে ফোর্সবার্গের মাথা। বাঁ পাশ থেকে আক্রমণ সুইডিশদের। বড় ডিবক্সের ঠিক উপরটায় বল পেয়ে মুহূর্তে বল নিয়ে সামান্য সরে জায়গা বের করেই প্রবল গতির শট নিলেন তারকা ইমিল ফোর্সবাগ। সুইস গোলকিপার ইয়ান সমারের দর্শক হয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। গ্যালারিতে তখন হলুদের বাগান নেচে উঠেছে।

এর আগে প্রথমার্ধে প্রায় নিশ্চিত একটি গোল বাঁচিয়েছেন সুইডিশ কিপার ওলসেন। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ শুরু থেকে। কিন্তু গোল মেলে না কিছুতেই। খেলা সবে শুরু তখন। ঠিক গোলের সুযোগ বলা যাবে না। তবে সম্ভাবনাটাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ৮ মিনিটে প্রথম চাপটা সুইস ডিফেন্সে দিলেন সুইডিশরা। মার্কাস বার্গের শটটা আসলে লক্ষ্যহীন ছিল। তার ঠিক আগেই সুইজারল্যান্ডের স্টিভেন জুবের সুইডেনের গোলকিপারের হাতে বল তুলে দিলেন যেন।

সেন্ট পিটার্সবার্গের গ্যালারিতে এদিন হলুদের আধিক্য। আর সুইডেন ১০ মিনিটে প্রথমবারের মতো সুইস ডিফেন্সকে প্যানিক করে দিয়ে জাগিয়ে দিলেন হলুদ সমর্থকদের। গোল কিক উপহার হিসেবে গেল সুইডেনের কাছে। বার্গের শট ডিফেন্সে ঠেকালেন ম্যানুয়েল আকানজি। ফিরে আসা বল বারের উপর দিয়ে পাঠালেন আলবিন ইকডাল।

সুইডিশদের আক্রমণ এভাবে গোত্তা খাচ্ছিল। সুইসরাও উঠে আসছিল। কিন্তু সুইস গোলকিপার ইয়ান সমার নিশ্চিত একটি গোল বাঁচিয়ে দিয়েছেন ২৭ মিনিটে। মার্কাস বার্গের সেই দুরন্ত শট বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে হাতের তালু দিয়ে ঠেকিয়ে রক্ষা করেছেন সমার।

৩৮ ও ৪০ মিনিটে ঘটল দুটি ঘটনা। গোল করা উচিৎ ছিল ব্লেরিম ডিযেমাইলির। পেনাল্টি এরিয়ার খুব কাছ থেকে বলটাকে বার উচিয়ে মারলেন। তীব্র হতাশা সুইসদের। দুই মিনিট পর সুইডিশ মিডফিল্ডার আলবিন ইকডাল কিভাবে ওই গোল মিস করলেন গোল পোস্টের সাথে ৬ গজের দুরত্ব থেকে। গোলকিপারকে একা পেয়েও বারের উপর দিয়ে বল পাঠিয়ে হতবিহ্বল করে দিলেন দলকে।

তবে একমাত্র গোলে সুইসদের বিদায় করে দেওয়ার কৃতিত্ব তো ফোর্সবার্গেরই। তিনি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন। আরো একটি কথা। এই ম্যাচের আগে ৯৮ বছরে ২৯ বার সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছে। তাতে ১১ জয়ে সুইসরা এগিয়ে ছিল। ১০ জয় ছিল সুইডিশদের। কিন্তু এইবারই প্রথম তারা মেজর কোনো টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হলো। ফোর্সবার্গের গোলে কিভাবেই না সেই দেখায় জিতে সর্বকালের দেখায় সমতা এনে ফেলল সুইডেন। সাথে ভাঙল সুইসদের হৃদয়।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১২:১৬এএম/৪/৭/২০১৮ইং)