• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন

এমপি নজরুলের জামিনের পক্ষে ফের মরিয়মের বাবার অবস্থান


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৭, ২০২৬, ৭:২০ PM / ৩৪
এমপি নজরুলের জামিনের পক্ষে ফের মরিয়মের বাবার অবস্থান

ঢাকারনিউজ : দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন শুনানিতে মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহকে আসামির পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। শুনানির সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং নজরুলের জামিনের পক্ষে মত দেন।

তবে আদালত বলেছেন, আসামি বয়সে প্রবীণ এবং মরিয়ম তুলনামূলক কম বয়সী। তাকে বিয়ের জন্য প্রলুব্ধ বা প্ররোচিত করার বিষয়টিও মামলার তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসামিকে জামিন দিলে সমাজে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নজরুলের জামিনের আবেদন করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস হয়েছে এবং বাদীর জামিনে কোনো আপত্তি নেই। আপসনামার ভিত্তিতে তিনি বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নজরুলকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন উর রশিদ জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, মরিয়মের মৃত্যুর পর তদন্তে তার সঙ্গে নজরুলের বিয়ের তথ্য সামনে আসে। পরে কাবিননামা পাওয়া যায়। ন্যাম ভবনে মরিয়মকে স্ত্রী হিসেবে যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে বারান্দায় রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, মামলাটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ নেই। যে ব্যক্তি আপস করেছেন, তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার কথা বলেন তিনি। আপসের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ছিল।

শুনানির একপর্যায়ে আদালত জানতে চান, বাদী নিজে উপস্থিত থাকার পরও আপসের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না। জবাবে আসামিপক্ষ জানায়, তারা মামলাটি আপসের মাধ্যমে শেষ করতে চাইছেন না; শুধু জামিন চাওয়া হচ্ছে।

আদালত তখন বলেন, জামিনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে আপসনামা উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় আসবেই।

আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, আপসনামা করা আইনগতভাবে সম্ভব এবং বাদীর এতে আপত্তি নেই। পরে তিনি জানান, আপসকারী ব্যক্তি আসামির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তবে তার পরিচয় এই মুহূর্তে প্রকাশ করতে চাননি।

শুনানির শেষ দিকে এস এম মাসুম বিল্লাহকে আদালতের সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে দেখা যায়। সেখানেও তিনি নজরুলের জামিনের পক্ষে অবস্থান নেন। পরে আদালত নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

শুনানি শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহর বক্তব্য জানতে চান। এ সময় আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী তাকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

পরে তিনি বলেন, তিনি মেয়ের মৃত্যুর বিচার চান। তবে পারিবারিক সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য আপসনামায় স্বাক্ষর করেছেন। মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি তার শ্যালক তথা মরিয়মের মামা ও আসামি ওবায়দুর রহমানকে বেশি দায়ী করেন বলেও জানান।

এদিকে বাদীর এমন অবস্থান এবং আপসনামাকে কেন্দ্র করে শুনানিতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। রাষ্ট্রপক্ষ যেখানে আপসকারী ও বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, সেখানে মামলার বাদী নিজেই আসামির জামিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন।

মামলায় নজরুলকে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর নজরুল ও মাকসুদা জামিনের আবেদন করেন। সেদিন মাকসুদা জামিন পেলেও নজরুলের জামিন নামঞ্জুর হয়। বুধবার ফের জামিনের আবেদন করা হলে দীর্ঘ শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন আদালত।