


বিশেষ প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়া সরকারি কর্মচারীসহ অন্য যে সব ব্যক্তি জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ক্যাসিনো ও দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে সে জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরােধে সরকারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অর্থাৎ দুর্নীতি অনুসন্ধানে তদন্ত এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন ১৩ হাজার ২৩৮টি অভিযোগের অনুসন্ধান ৩ হাজার ৬১৭টি মামলা রুজু এবং ৫ হাজার ১৭৯টি চার্জশিট দাখিল করেছে।
তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক দুর্নীতি বিরােধী অভিযান পরিচালনার জন্য দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট সদা তৎপর রয়েছে। এই ইউনিট প্রতিনিয়ত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সারাদেশে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন দফতরে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করছে। এ ছাড়া আসামি গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন ১৬টি ফাঁদ মামলা দায়ের করেছে। ৬৮ জন আসামি গ্রেফতার করেছে। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দফতরে পএ প্রেরণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশন সর্বদা বদ্ধ পরিকর।
তাছাড়া বাংলাদেশের কোন কোন ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলেছে সে সম্পর্কিত তথ্য পাঠানোর জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ করেছে।
রওশন আরা মান্নানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি একটি বহুমাত্রিক ব্যাধি। দুর্নীতি যে কোন দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়ন এমনকি রাজনৈতিক পরিবেশের প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতি গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করে। তাই দুর্নীতি দমনে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ উচ আয়ের দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে।
আপনার মতামত লিখুন :