

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করা পরমাণু চুক্তি থেকে এককভাবে বেরিয়ে যাওয়ার একদিন পরই দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এর আগেই তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। অর্থাৎ দুই দেশ ইরানের ছয় ব্যক্তি ও তিন কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করেছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ছয় ব্যক্তি ও তিনটি কোম্পানির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রিভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মনুচিন বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওইসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির মাধ্যমে আইআরজিসি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে এবং তা দিয়ে ‘জঘন্য’ কাজ করে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইআরজিসিকে ডলার সরবরাহে সাহায্য করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ওই সব ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। তবে তারা যে সবাই ইরানি সেটা নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সংযোগ রয়েছে এবং এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইআরজিসি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে ‘অপকর্ম’ করছে। কিন্তু এই উদ্যোগের ফলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না কোনো মার্কিন ব্যক্তি বা কোম্পানি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার আগেই ইরানের ওই নয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতার অভিযোগ এনে তালিকাভুক্ত করে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সৌদিভিত্তিক গণমাধ্যম আল-আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সহায়তার অভিযোগে ওই সব কোম্পানি ও ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আবধাবি বলছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও সংগঠন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে তা আইআরজিসির কাছে হস্তান্তর করে এবং আইআরজিসি সেই ডলার ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্টিভেন মনুচিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে দেওয়া এক ভাষণে বিশ্বের পাঁচ শক্তিধর রাষ্ট্রের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা এতে জোরালো আপত্তি জানায়।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১১:৫০এএম/১১/৫/২০১৮ইং)
আপনার মতামত লিখুন :