• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ন

অযত্ন-অবহেলায় কৃষ্ণচন্দ্রের স্মৃতি, সংরক্ষণে নেই উপযুক্ত উদ্যোগ


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৯, ২০১৯, ১২:১৩ AM / ২১৮
অযত্ন-অবহেলায় কৃষ্ণচন্দ্রের স্মৃতি, সংরক্ষণে নেই উপযুক্ত উদ্যোগ

মো. রমজান শেখ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় : ‘যে জন দিবসে মনের হরসে জালায় মোমের বাতি, আশু গৃহে তার দেখিবে না আর নিশিতে প্রদীপ ভাতি। কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে, আশীবিষে কভু দংশিনি যারে…’

খুলনার দীঘলিয়া থানার সেনহাটি গ্রামে জন্ম নেন মধ্যযুগের অন্যতম কবি-কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। ভৈরব নদীর তীরে বেড়ে ওঠা সদ্ভাবশতকের বিখ্যাত এ কবি বাংলা সাহিত্যে অনেক অবদান রাখলেও তাঁর স্মৃতিগুলো আজ ধ্বংসপ্রায়।দখলদারী আর উপযুক্ত উদ্যোগের অভাবে এমনটি ঘটেছে-দাবী কেসিআইএর(কৃষ্ণচন্দ্র ইন্সটিটিউট)।

শিল্প-বানিজ্য,শিক্ষা,সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব সব দিক থেকেই একসময় সম্বৃদ্ধ ছিলো সেনহাটি গ্রাম। ভৈরব পাড়ের এই গ্রামেই বেড়ে ওঠা কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের। মধ্যযুগীয় বিখ্যাত এই কবির স্মৃতিচিহ্ন আজ দর্শনীয় স্থান হিসাবে জায়গা করে নেওয়ার বদলে অবৈধ দখলদারী আর সরকারী উদ্যোগের অভাবে ধ্বংসপ্রায়।কৃষ্ণচন্দ্রের বসবাস প্রশস্ত ভিটা জুড়ে থাকলেও আজ সেটা অনেক সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। প্রায় এক একর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বসতি ও পুকুর(খাদির মার পুকুর)।ভিটার উপর ইট বালু রেখেই ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেনীর মানুষ।নেই কোনো লাইব্রেরী বা সংগ্রহশালা।

১৯১৪ সালে কৃষ্ণচন্দ্রের মৃত্যুর সাত বছর পরে ৩৩ শতক জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয় কৃষ্ণচন্দ্র ইন্সটিটিউট। সেখানে একসময় বিভিন্ন লেখকের ৫০০ এর অধিক বই থাকলেও তত্বাবধানের অভাবে সবগুলো হারিয়ে যায়।দেশভাগের পূর্বে এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে ঐতিহাসিক এবং দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলার বড় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।স্মৃতি রক্ষার্থে নেওয়া হয়নি নিয়মিত কোনো অনুষ্ঠানের উদ্যোগ। সেই যুগে প্রায় শতভাগ হিন্দু অধ্যুষিত ছিলো বিখ্যাত এ গ্রামটি।দেশভাগের পর ভারতে পাড়ি জমান এখানকার হিন্দু জনগোষ্ঠী। ব্যাবসা ও জীবিকার তাগিদে এখানে বাস করতে শুরু করে বিভিন্ন পেশা -শ্রেণির মানুষ।কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায় কৃষ্ণচন্দ্রের বংশধররা।খুলনায় বসবাসরত কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের একমাত্র বংশধর স্বপন কুমার মজুমদার খুলনা জর্জ কোর্টের এ্যাডভোকেট।

কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইন্সটিটিউটের কার্যনির্বাহী সদস্য মোল্লা মাকসুদুল ইসলাম জানান,”আমাদের এখন উচিত যতদূর সম্ভব তার কীর্তি এবং বসতভিটা সংরক্ষণ করা।এ বিষয়ে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। “
কেসিআই এর সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম বলেন,”আগে যেমন সবক্ষেত্রে সেনহাটি সম্বৃদ্ধ ছিলো,আমরা চাই সেনহাটি তার পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাক।আর এ জন্য কৃষ্ণচন্দ্রের নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করে দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। “
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন,”খুলনার প্রশাসন স্তর থেকে বারবার আশ্বাস দিলেও তার কোনোটাই বাস্তবায়ন করা হয় না।অনেক ডিসি, এসপি এখানে এসেছে আবার চলেও গিয়েছে।কিন্তু কৃষ্ণচন্দ্রের বসতভিটা ও কেসিসির কোনো পরিবর্তনে তারা এগিয়ে আাসেনি।“
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১২:১৫এম/৮/২/২০১৯ইং)