• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

শিশু-বান্ধব সংবাদ প্রচারে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৪, ২০২৬, ৭:০৭ PM / ৩৩১
শিশু-বান্ধব সংবাদ প্রচারে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৪ সালে সম্পন্ন ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিদিন পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে ৫১ জনের বেশি মানুষ, যার ৭৫ শতাংশের বেশি শিশু। প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন শিশু, যা ১–৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

শিশু মৃত্যু রোধ ও প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ এবং শিশু-বান্ধব সংবাদ প্রচারে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ বুধবার(১৪ জানুুয়ারি) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত “জাতি গঠনে শিশু-বান্ধব সাংবাদিকতা” শীর্ষক জাতীয় পরামর্শসভায় এই আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ সরকারের আইসিবিসি (Integrated Child Care, Child Development, Safety and Swimming) প্রকল্পের আওতায় গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি এই পরামর্শসভার আয়োজন করে।

সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামান-এর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও আইসিবিসি প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল কাদির। তিনি আইসিবিসি প্রকল্পের মাধ্যমে টেকসই সমাধান, অভিভাবকের সঙ্গে শিশুর বিকাশ সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার এবং সঠিক প্যারেন্টিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা কার্যক্রম প্রচারের আহ্বান জানান তিনি।

আইসিবিসি প্রকল্পের আওতায় পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে কমিউনিটি ভিত্তিক শিশু যত্ন কেন্দ্র স্থাপন, ১–৫ বছর বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা এবং ৬–১০ বছর বয়সী শিশুদের জীবনরক্ষাকারী সাঁতার ও নিরাপত্তা কৌশল শেখানো হচ্ছে।

সভায় বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন ও শিশু একাডেমি (আইসিবিসি প্রকল্প)-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৬ জেলায় ৬–১০ বছর বয়সী ৩ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে জীবনরক্ষাকারী সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ৮,০২০টি কমিউনিটি ভিত্তিক শিশু যত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৫০০ শিশুকে প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

মোহাম্মদ রিজওয়ান খান, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার, সিনারগোস বাংলাদেশ বলেন, ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি সফলভাবে ২০২৫ সালে শেষ হয় এবং বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নাধীন। এই পর্যায়ে আরও ১৪ জেলায় ৬–১০ বছর বয়সী ৫ লাখ ২০ হাজার শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং ৩ লাখ ২০ হাজার শিশুকে প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞ আলোচক মাহমুদা আক্তার, আহ্বায়ক, মাল্টিসেক্টরাল ওয়ার্কিং গ্রুপ (MWG) জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভাইস-চেয়ার, বাংলাদেশ ECD নেটওয়ার্ক (BEN) বলেন, মাল্টিসেক্টরাল সমন্বয় চ্যালেঞ্জিং হলেও গণমাধ্যমের মাধ্যমে উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

সিনারগোস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এশা হুসেইন বলেন, প্রকল্পটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো স্থানীয় জনগণের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন। শিশুযত্ন কেন্দ্রের জন্য আলাদা ঘর কেনা বা ভাড়া নেওয়া হয় না; স্থানীয়রাই তা প্রদান করেন। তিনি জানান, নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুদের নিয়েই প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, “শিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত হলে টেকসই জাতি গঠন সম্ভব। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য—এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ও সংবেদনশীল প্রতিবেদন প্রয়োজন।”

এ সময় “আস্থায় হাত ধরি, শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি” শীর্ষক সেশনে বক্তব্য দেন—
ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, দৈনিক প্রথম আলো; রিয়াজ আহমদ, সম্পাদক, ঢাকা ট্রিবিউন; জহিরুল আলম, হেড অব নিউজ, চ্যানেল ২৪; সোহরাব হাসান, সম্পাদক, চর্চা ডটকম; জাহিদ নেওয়াজ খান, প্রধান নির্বাহী সম্পাদক, চ্যানেল আই; সালমা ইয়াসমিন, সিনিয়র নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন; কাজল ঘোষ, সংবাদ সম্পাদক, দৈনিক মানবজমিন; রাবেয়া বেবী, স্টাফ রিপোর্টার ও সম্পাদক, মহিলা অঙ্গন, ডেইলি ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকরা।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আরজু আরা বেগম, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি; শবনম মোস্তারী, অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক, ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর; ড. মো. আল আমিন সরকার, মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সেক্টর–৭; বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক ও সিনিয়র মিডিয়া পেশাজীবীরা।