• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

শততম টেস্টে জয়ের অপেক্ষায় টাইগাররা!


প্রকাশের সময় : মার্চ ১৯, ২০১৭, ১১:০৬ AM / ১৫৭
শততম টেস্টে জয়ের অপেক্ষায় টাইগাররা!

ঢাকারনিউজ২৪.কম:

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে ম্যাচটি টাইগারদের জন্য একটি মাইলফলক। নিজেদের শততম টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখার পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ! শেষ দিনে নিজেদের মেলে ধরতে পারলে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পাবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে পুরো জাতি পাবে অনাবিল উৎসবে মেতে ওঠার উপলক্ষ।

শনিবার চতুর্থ দিনে এসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় ষোলো আনাই নিজেদের হাতে নিয়ে এসেছেন মুস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসানরা। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ১২৯ রানের লিড বাংলাদেশকে এগিয়ে রেখেছে। সাথে বোলাররা প্রবলভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার। ফলে ৮ উইকেট হারিয়ে এখন শ্রীলঙ্কার লিড মাত্র ১৩৯ রানের।

যদি বড় ধরনের অঘটন না ঘটে তাহলে এই ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ। শেষ দুই উইকেট হাতে নিয়ে এখনও লড়ছে শ্রীলঙ্কা। তারা চেষ্টা করছে লিডটা যতোটা বাড়ানো যায়। এই লিডের জবাবে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করতে হবে পঞ্চম দিনের উইকেটে। ফলে স্বপ্নের ওপাশে শঙ্কাটাও একেবারে নেই, তা নয়।

জয় পেতে হলে.বাংলাদেশকে এখন যেভাবে হোক ম্যাচ জিততে হলে শ্রীলঙ্কার দুটি উইকেট দ্রুত তুলে নিতে হবে। সেটি আবার সকালের সেশনের একঘণ্টার মধ্যেই নিতে হবে। বড় কোন তারকা ব্যাটসম্যান এখন শ্রীলঙ্কার হাতে নেই। বোলাররাই এখন ব্যাটিংয়ে আছেন। তাতে করে দ্রুত উইকেট তুলে নেয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। একঘণ্টায় ১৫ ওভারও খেলা হতে পারে। তাতে রান আসতে পারে ৫০-৬০। তবে সেটি কোন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান থাকলে সম্ভব। কিন্তু সকালের সেশনে যে কোন দলের জন্যই ব্যাটিং করা কঠিন। আর যেহেতু এ মুহূর্তে শ্রীলঙ্কার টার্গেটই থাকবে যত বেশি ব্যাটিং করা যায়। তাতে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতেই খেলবে ব্যাটসম্যানরা।

যদি বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক বোলিং করতে পারে, তাহলে এই একঘণ্টাতে দুটি উইকেটও পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। শ্রীলঙ্কার নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা উইকেটে থাকায় রান কম হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। যদিও ৫০-৬০ রান স্কোরবোর্ডে যোগ হয়, সেই সঙ্গে দুই উইকেটও হারায় শ্রীলঙ্কা, টার্গেট দাঁড় হবে ১৯০-এর মতো। তাতে খানিক বিপত্তি থাকলেও প্রথম ইনিংসে যেভাবে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ, সেভাবে করতে পারলেই জয় সম্ভব। হাতে তখনও থাকবে দুই সেশন পুরো ও এক সেশনের অর্ধেকটা। আর যদি কোনভাবে এরআগেই অলআউট করে দেয়া যায়, তাহলে টার্গেট আরও কম হবে। তাতে জয়ের সম্ভাবনাও আরও বেড়ে যাবে।

কলম্বো টেস্টে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা করেছিলো ৩৩৮ রান। জবাবে সাকিব আল হাসানের দারুণ সেঞ্চুরি এবং মোসাদ্দেক, মুশফিক, সৌম্যদের ফিফটিতে ৪৬৭ রান করে বাংলাদেশ; লিড ১২৯ রানের। এই লিডের জবাবে শ্রীলঙ্কা তৃতীয় দিনশেষেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান তুলে ফেলে।

শনিবার দিনের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধ ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর ঝাঁপিয়ে পড়েন মুস্তাফিজ ও সাকিব। দুই প্রান্ত থেকে একজন স্পিনার ও একজন পেসার বলের টার্ন ব্যবহার শুরু করেন। দুই জনই তিনটি করে উইকেট তুলে নেন। প্রথম আক্রমণটা শানান মুস্তাফিজ। তিনি পরপর তুলে নেন কুশল মেন্ডিস ও দিনেশ চান্দিমালের মতো বড় দুই উইকেট। এরপর সাকিব এসে ফেরান গুনরত্নেকে। আবার মুস্তাফিজ ধনঞ্জয় ডি সিলভাকে আউট করার ভেতর দিয়ে নিজের ৩ উইকেট পূর্ণ করেন। মুস্তাফিজের ৩টি ক্যাচই ধরেছেন মুশফিক। ধরেছেন সাকিবের বলেও একটি ক্যাচ।

কলম্বো টেস্টে মুশফিক একটা কীর্তি করে ফেলেছেন। প্রথম টেস্টে ১০০ ডিসমিসাল সম্পন্ন করলেন তিনি। চা-বিরতি অবধি তার মোট শিকার ১০১।

আগের টেস্টেই ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে গ্লাভসটা খুলে রেখেছিলেন মুশফিক। ঘটনাচক্রে লিটন ইনজুরিতে পড়ায় আবার কলম্বোতে ফিরতে হয়েছে উইকেটের পেছনে। আর সেখানেই এই মাইলফলক। পাশাপাশি এই ইনিংসে নিজের পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে ৪ বা ততোধিক শিকার করে ফেললেন। মুশফিকের পাশাপাশি কীর্তি গড়ার পথে রয়েছেন সাকিবও। বাকী দুটি উইকেট তিনি তুলে নিতে পারলে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেটের কীর্তি হবে। ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম ছাড়া ক্রিকেট দুনিয়ায় আর কেউ এই কাজ দুই বারের বেশি করতে পারেননি।

এ টেস্টের আগে ৯৯ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। ৮টি টেস্টে জিতেছে। দুটি টেস্টে টার্গেট অতিক্রম করে জিতেছে। একটি ২০১৪ সালে, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে। ১০১ রানের টার্গেট অতিক্রম করেছে। আরেকবার ২০০৯ সালে, গ্রেনাডায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ২১৫ রানের টার্গেট অতিক্রম করে জিতেছে। আর কোন ম্যাচে টার্গেট অতিক্রম করতে গিয়ে জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

  (ঢাকারনিউজ২৪.কম/এনএম /১১:০৫এএম/১৯/৩/২০১৭ইং)