• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করল চীন


প্রকাশের সময় : জুন ২৮, ২০১৮, ২:৪৮ PM / ১২২
যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করল চীন

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : পণ্য আমদানির ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ তথা বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যখন টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখন নতুন এক ইস্যুতে চীন-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের করা একটি অনুরোধ চীন প্রত্যাখ্যান করায় নতুন এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, চীনের দাবি করা তাইওয়ানে মার্কিন বিমান সংস্থাগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে এবং সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইটে তাইওয়ানকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে তা নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি আলোচনার অনুরোধ করে ওয়াশিংটন। কিন্তু বেইজিং সে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বেইজিংয়ের দাবি, বিদেশি ফার্ম ও বিশেষ বিমান সংস্থাগুলো হংকং ও ম্যাকাওসহ তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। অথচ মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের উদ্যোগকে ‘অরওয়েলিয়ান ননসেন্স’-এমন ব্যবস্থা যা মুক্ত সমাজ ব্যবস্থার জন্য ধ্বংসাত্মক-বলে অভিহিত করেছে।

রয়টার্স বলছে, মার্কিন কোম্পানির বাইরে অনেক বিমান সংস্থা যেমন- এয়ার কানাডা, লুফথানসা ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ইতোমধ্যে তাদের ওয়েবসাইট পরিবর্তন করেছে। কিন্তু কিছু মার্কিন কোম্পানি যেমন- ডেল্টা এয়ারলাইন্স ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ওয়েবসাইট পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২৫ মে থাকলেও সময় আবেদন করে। সেই অনুযায়ী আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওয়েবসাইট পরিবর্তন করার কথা।

দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, মে মাসের শেষ দিকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠায়। যেখানে বিষয়টি নিয়ে বেইজিংকে আলোচনার অনুরোধ জানায় ওয়াশিংটন। কিন্তু বেইজিং তা প্রত্যাখ্যান করে।

নাম না প্রকাশের শর্তে একটি সূত্র বলেন, এটি অবশ্যই বৈদেশিক নীতির বিষয়। দুই দেশের এভিয়েশন সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি কৌশলগত ব্যাপারও।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অপব্যবহারের কারণে বেইজিংকে শায়েস্তা করতে চীনা পণ্য আমদানির ওপর কোটি কোটি ডলার শুল্কারোপের যে হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন সে বিষয়টি উল্লেখ করে দ্বিতীয় সূত্রটি বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে যখন উত্তেজনা বাড়ছে তখন এটি ‘ক্ষতস্থানে আরেকটি বালিকণা’র মতো।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র ২৫ জুন আলোচনার অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এটি তাদের হতাশ করেছে এবং বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু বেইজিংয়ের দাবি তারা (কোম্পানি) কীভাবে মেটাবে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তাদের (চীন) আদেশ মেনে চলতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা উচিৎ নয়। আমরা চীনকে বলব, তারা যেন মার্কিন কোম্পানি ও নাগরিকদের প্রতি হুমকি ও চাপ দেওয়া বন্ধ করে।’

তিনি বলেন, চীনা কোম্পানিগুলো স্বাধীনভাবে তাদের ওয়েবসাইট পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ওপর কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের উদ্যোগ মার্কিন সরকারকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। বুধবার হোয়াইট হাউজ এ ব্যাপারে স্টাফ পর্যায়ে একটি বৈঠকও করেছে। কিন্তু সেখানে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/২:৫০পিএম/২৮/৬/২০১৮ইং)