• ঢাকা
  • সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন

পিঁয়াজ চাষের পদ্ধতি


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২১, ১১:৩২ PM / ১১৩০
পিঁয়াজ চাষের পদ্ধতি

কৃষিবিদ ড. প্রণয় বালা 
পিঁয়াজ : Onion
বৈজ্ঞানিক নাম : Allium cepa
পরিবার : Amaryllidaceae
বাংলাদেশে পিঁয়াজকে মসলা জাতীয় ফসল হিসাবে বিবেচনা করা হয় যদিও অধিকাংশ দেশে এটি সবজি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে পিয়াঁজের ব্যবহার অত্যন্ত বেশি এবং গড়ে মাথা প্রতি প্রায় ২৫ গ্রাম।

উপযোগী মাটি : দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি প্য়িাজ চাষের জন্য বেশি উপযোগী। এঁটেল মাটিতে পিয়াজ চাষ না করাই ভাল। পিয়াজ চাষের জন্য সুনিষ্কাশিত মাটি প্রয়োজন। উঁচু জমি ভালো। মাটির পিএইচ ৬.৫-৭.৫ পিঁয়াজ চাষের জন্য উত্তম।

কন্দ বা বীজ বপনের সময়: বাংলাদেশে রবি মৌসুম পিঁয়াজ চাষের উপযুক্ত সময়। মধ্য অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বীজ বপন করে চারা উৎপাদনের উপযুক্ত সময়। গ্রীষ্মকালেও পিঁয়াজ চাষ করা যায়। সরাসরি বীজ বুনে চারা অথবা কন্দ থেকে পিঁয়াজ উৎপাদন করা হয়।

বীজের প্রকার বপন সময়
১. বীজ আশ্বিন- কার্তিক (নভেম্বর- ডিসেম্বর)
২. কন্দ বা গেঁড় আশ্বিন- কার্তিক (নভেম্বর- ডিসেম্বর)
৩. বীজ থেকে তৈরি চারা অগ্রহায়ণ- পৌষ (ডিসেম্বর- জানুয়ারি)
গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ বপনের সময়:
বারি পিঁয়াজ- ২। এটি একটি অমৌসুমীজাত। এটা মূলত গ্রীষ্মকালীনজাত হলেও সারা বৎসরই চাষাবাদের উপযোগী।
জমি তৈরি: পিঁয়াজের চাষের জন্য মাটি বেশ ঝুরঝুরে ও মিহি হওয়া প্রয়োজন। ৫/৬ টি চাষ ও মই দিয়ে জমি সমতল করে জমি প্রস্তুত করতে হয়। যেহেতু পিঁয়াজ স্বল্প জীবনকাল। একটি গুচ্ছমূলী ফসল তাই চাষের সময় জমিতে যেন আগাছা না থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সার প্রয়োগ: মাটির উর্বরতা, পিঁয়াজের জাত বিবেচনায় এনে সারের মাত্রা নির্ধারণ করতে হয়। যে অঞ্চলে পেয়াজ চাষ করা হবে ঐ অঞ্চলের এ ই জেড জেনে সারের পরিমাণ জানা যেতে পারে।
সারের নাম
সারের পরিমাণ কেজি/হেক্টর প্রয়োগ পদ্ধতি
গোবর সার ৮- ১০ টন
ইউরিয়া ২৬০
টিএসপি ২৬৬
এমওপি ১৪০
জিপসাম ১১১
উৎস: মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই।

পিঁয়াজের জাত নির্বাচন:
আমাদের দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) উদ্ভাবিত পিঁয়াজের জাতসমূহ।
বারিপিঁয়াজ- ১: একটি শীতকালীন ফসল। বীজ বপন করার সময় মধ্য আশ্বিন থেকে কার্তিক (অক্টোবর)। গড় ফলন ৩.৯৪ টন/হেক্টর।
বারিপিঁয়াজ- ২ :একটি গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজের জাত। এই জাতটির চারা রোপণ থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময় লাগে মাত্র ২ মাস। এটি আকারে গোলাকার আকৃতির এবং লালচে বর্ণের। প্রতিটি কন্দের গড় ওজন ২২- ২৫ গ্রাম। গড় ফলন ১০-১৩ টন/হেক্টর। এই জাতটি চাষের সময় এমন জমিতে চাষ করতে হবে যেখানে জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ থাকতে হবে।
বারিপিঁয়াজ- ৩: এটি একটি অমৌসুমীজাত। এটা মূলত: গ্রীষ্মকালীন জাত হলেও সারা বছরই চাষাবাদের উপযোগী। এটি আকারে গোলাকার আকৃতির এবং লালচে বর্ণের। প্রতিটি শুল্ক কন্দের গড় ওজন ১৮- ২০ গ্রাম। পিয়াজের গড় ফলন ১০- ১২ টন/ হেক্টর।
বারিপিঁয়াজ- ৪ (রবি মৌসুমের জন্য): এর আকার ঈষৎ লম্বাটে, কন্দ মধ্যমাকৃতির, ধুসর লালচে বর্ণের। প্রতিটি শুল্ক কন্দের গড় ওজন ৬০- ৭৫ গ্রাম। পিয়াজের গড় ফলন ১৭- ২২ টন/ হেক্টর।
বারি পিঁয়াজ- ৫ (খরিপ মৌসুমের জন্য) : প্রতিটি শুল্ক কন্দের গড় ওজন ৩০- ৪০ গ্রাম। পিয়াজের গড় ফলন ১২- ১৬ টন/ হেক্টর।জীবনকাল:১০০-১১০ দিন ।
স্থানীয় জাত: ফরিদপুরী, তাহেরপুরী, সালতা, বিদেশীজাত: ট্রপিক্যালরেড, ইয়োলো গ্রানেক্স, রেডফ্রিয়োল, রেড ট্রপিয়ানা।
বীজের প্রকার ও পরিমাণ:
বাংলাদেশ তিন প্রকার বীজ ব্যবহার করা হয়। যেমন- ১) বীজ, ২) কন্দ বা গেঁড় এবং ৩) বীজ থেকে তৈরি চারা।
বীজের প্রকার পরিমাণ(কেজি/ হেক্টর)
ছিটিয়ে বীজ বপন ৬-৭
কন্দ বা গেঁড় ব্যবহারে ১২০০-১৫০০
বীজ থেকে চারা তৈরি করে রোপণ ৩-৪

রোপণ দূরত্ব ও বীজের হার:
সারির থেকে সারির দূরত্ব ৩০- ৩৫ সে.মি এবং পিঁয়াজ কন্দ থেকে পিয়াজের কন্দ দূরত্ব হয় ১৩-১৫ সে.মি। এতে হেক্টর প্রতি প্রায় ৭৫০- ১০০০ কেজি কন্দ লাগে।
পিঁয়াজের আকার: প্রতিকেজিতে ৭০- ১০০ টি পিঁয়াজ হয় । এ ধরনের পিঁয়াজ রোপণ করা ভালো। ৩মিদ্ধ ১মি: মাপের বীজতলার জন্য ২৫- ৩০ গ্রাম বীজ এবং হেক্টরপ্রতি ৩-৪ কেজি বীজ লাগে। সরাসরি বীজ বুনলে হেক্টরপ্রতি ৬- ৮ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। চারার বয়স ৪০- ৪৫ দিন হলে মূল জমিতে রোপণ করতে হয়।
বীজতলা তৈরি ও চারা উৎপাদন :
বীজতলা লম্বা ৩ মিটার, চওড়া ১ মিটার ও উচ্চতা ১০-১৫ সেমি। প্রতিটি বীজতলার ২৫-৩০ গ্রাম বীজ বুনতে হয়। প্রতিহেক্টর জমিতে চারা উৎপানের জন্য ৩মি.দ্ধ১মি. আকারের ১২০-১৩০ টি বীজতলার প্রয়োজন হবে। বেডের মাটি ঝুরঝুর ও ১৫ সে.মি. গভীরভাবে চাষ হতে হবে। বেডের পার্শ্বের নালা প্রস্থ ৩০ সে.মি., গভীর ২০ সে.মি। বীজ বোনার পরে শুষ্ক ঘাস বা খড় দ্বারা ঢেকে দিতে হবে যতক্ষণ না চারা গজায়।বীজ গজানোর পরপরই ঘাস বা খড় দ্রুত অপসারন করতে হবে। ড্যাম্পিং অফ জাতীয় ছত্রাকের আক্রমন হতে রক্ষার জন্য বীজকে অবশ্যই শোধন করে নিতে হবে। প্রতি কেজি বীজের জন্য থিরাম বা ক্যাপটান ২-৩ গ্রাম হারে প্রয়োগ করে বীজ শোধন করতে হবে। মাটিকেও একই ওষুধ ৫ গ্রাম প্রতি বর্গমিটারে প্রয়োগ করে মাঠি শোধন করে নিতে হবে। মাটি এবং বেডের নিচের অংশ থিরাম বা ক্যাপটান ০.২%( ২ গ্রাম/লিটার পানি) দ্বারা ভিজিয়ে নিতে হবে যা ১৫ দিন পর পর পূনরাবত্তি করতে হবে। তবে আক্রমনের মাত্রার উপর এ প্রয়োগ বাড়াতে হতে পারে। বীজগুলো একদিন রৌদ্রে শুকিয়ে নিতে হবে এবং শুকানোর একদিন পর বীজগুলো ৮-১০ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। ভিজানো বীজগুলো পানি থেকে তুলে কাপড় বা পাতলা চটের বস্তায় বেঁধে রেখে দিতে হবে। কাপড় বা চটের বস্তায় বাধাঁর একদিন পর ভিটাভেক্স/ব্যাভিস্টেন ২ গ্রাম / কেজি হিসেবে বীজের সাথে মিশিয়ে বীজতলায় ৫-৮ সেমি পরপর সারি করে বীজ বপন করতে হবে। বীজ ফেলে তার উপর হালকা করে বালি ছিটিয়ে দিলে ভাল হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে বীজের আকারের দ্বিগুনের ও অধিক মাটির নীচে বীজ গেলে বীজ গজাতে পারে না । প্রতি হেক্টর জমির চারা উৎপাদনের জন্য ১০০-১২০ টি বীজতলা বা এক বিঘা জমির জন্য ১৮-২০ টি বীজতলার প্রয়োজন হয়।
সারের পরিমাণ:
পেঁয়াজচাষে নিম্নরূপ হারে সার প্রয়োগ করতে হয়।
পিঁয়াজ চাষে সারের পরিমাণ
সারের নাম সারের পরিমাণ (কেজি/ হেক্টর) প্রয়োগ পদ্ধতি
গোবর ৮- ১০ টন গোবর ও টিএসপি সার জমি তৈরী করার সময় মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।
ইউরিয়া ২৫০- ২৭০ ইউরিয়া ও এমওপি সার ২ কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
টিএসপি ১৯০- ২১০ প্রথম কিস্তি চারা লাগানোর ২৫ দিন পর এবং দ্বিতীয় কিস্তি ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হয়।
এমওপি ১৫০- ১৭০
আন্তঃ পরিচর্যা:
আগাছা দমন:
চারা লাগানোর পর প্রথম ১০-১২ দিনের মধ্যে প্রথম বার আগাছাপরিস্কার করতে হয়।এভাবে মোট ৩-৪ বর আগাছা পরিস্কার করার দরকার হয়। আগাছাদমনে জন্য ছোট কোদাল ব্যবহার করা উত্তম।
পাানি ব্যবস্থাপনা:
জমিতে রস না থাকলে চারা রোপনের পরপরই হালকা সেচ দিতে হবে। এছাড়া জমিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে মাঝে মাঝে সেচ দিতে হবে।
পানি নিষ্ক‹াশন:
বৃষ্টি পাতের কারণে যদি পানি জমে যায় তবে দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।পেঁয়াজ জমানো পানি সহ্য করতে পারে না ।তাই জমি তৈরির পূর্বেই প্রয়োজনীয় নালা কেটে রাখতে হয়।
মালচিং:
পেঁয়াজের জমিতে মাটির জোঁ আসার সাথে সাথে ভালভাবে মালচিং করে চটা ভেংগে দিতে হয়।
ফুলের ডাটা ভেঙ্গে দেয়া:
পিঁয়াজগাছের ফুল না ভাঙ্গলে পিঁয়াজের কন্দ পুষ্ট ও বড় হয় না। কলি দেখামাত্র ডাটা গোড়া থেকে ভেঙ্গে দিতে হবে। তবে বীজের জন্য পিয়াজ চাষ করলে ফুলের কলি ভাঙ্গা যাবে না।
ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ: চারা রোপণের ৯০- ১০০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ সংগ্রহের উপযোগী চারা।
পিঁয়াজ পুষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পিয়াজ গাছ শুকিয়ে যায় ও পাতা ভেঙ্গে যায়। যখন ৭০- ৮০% পাতার অগ্রভাগ এভাবে ভেঙ্গে যায় তখনই পিঁয়াজ পুষ্ট হয়েছে এবং পিঁয়াজ তোলা উচিত।

পেঁয়াজের ফলন: বিদেশী জাতের কন্দ বড় বলে ফলন হেক্টর প্রতি ২০- ২৫ টন হতে পারে। দেশীজাতের ফলন হেক্টর প্রতি ১০- ১৫ টন।
কন্দ লাগিয়ে বীজ উৎপাদন করা যায়। এতে হেক্টর প্রতি ৫০০- ৮০০ কেজি বীজ উৎপাদন করা সম্ভব।
রোগবালাই :
পেঁয়াজের উৎপাদন কম হওয়ার জন্য রোগ বালাই একটি প্রধান কারণ।
পেঁয়াজের প্রধান প্রধান রোগ ও তার দমন ব্যবস্থা নিম্নে বর্ণনা করা হলো :
পার্পল ব্লচ (চঁৎঢ়ষব ইষড়ঃপয):
অলটারনারিয়া পোরি (অষঃবৎহধৎরধ ঢ়ড়ৎৎর) ও স্টেমফাইলিয়াম বট্রাইওসাম নামক ছত্রাক দ্বারা এই রোগ হয়ে থাকে। আক্রান্ত বীজ, বায়ু ও গাছের পরিত্যক্ত অংশের মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকে। এই রোগের আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে গাছের পাতা বা পুষ্পদন্ডে ছোট ছোট পানি ভেজা দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে দাগগুলো ধীরে ধীরে বড় হয়। অনুকূল আবহাওয়ায় পাতা বা পুষ্পদ-ে এক বা একাধিক দাগ পড়ে এবং তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দাগের মধ্যবর্তী অংশ প্রথমে লালচে ও পরবর্তীতে কালো বর্ণ ধারণ করে এবং দাগের কিনারায় বেগুনী রং দেখা যায়। দাগের মধ্যস্থ গাঢ় অংশ ছত্রাকের বীজ কণা দিয়ে পূর্ণ থাকে। সাধারণত আক্রান্ত পাতা ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে হলুদ হয়ে মরে যায়। পুষ্পদ- ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হলে তা ভেঙ্গে পড়ে, বীজ পেঁয়াজ পূর্ণতা প্রাপ্ত হতে পারে না এবং এতে বীজ উৎপাদন মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়।

চিত্র: পার্পল ব্লচ

দমন ঃ
ক্স সুস্থ, নীরোগ বীজ ও চারা ব্যবহার করতে হবে।
ক্স আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
ক্স রোভরাল বা ভিটাভেক্স-২০০ নামক ছত্রাকবারক কেজি প্রতি ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করে বপন করতে হবে।
ক্স রোগ দেখা দিলে প্রতিলিটার পানির সাথে ২ গ্রাম রোভরাল এবং ২ গ্রাম রিডোমিল গোল্ড মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর ৩-৪ বার গাছে ¯েপ্র করতে হবে। বীজ পেঁয়াজের ক্ষেত্রে একই ঔষধ একই পরিমাণে ১০-১৫ দিন অন্তর ৫-৬ বার ¯েপ্র করতে হবে।

কা-পচা ঃ (খবধভ ইষরমযঃ)
স্কেলেরোসিয়াম রলফছি ও ফিউজেরিয়াম নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। ছত্রাক দুটি প্রধানত মাটি বাহিত। মাটির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ও যথেষ্ট পরিমাণ আর্দ্রতা থাকলে এ রোগের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়। পানিসেচের মাধ্যমে আক্রান্ত ফসলের জমি হতে সুস্থ ফসলের মাঠ বিস্তার লাভ করে।
স্কেলেরোসিয়াম রল্ফছি দ্বারা আক্রান্ত গাছ হাত দিয়ে টান দিলে পেঁয়াজসমূহ খুব সহজেই মাটি থেকে উঠে আসে। আক্রান্ত স্থানে সরিষার দানার মতো বাদামী রং এর গোলাকার ছত্রাক জীবাণু স্কেলেরোসিয়া দেখা যায়। ফিউজেরিয়াম দ্বারা আক্রান্ত গাছের পাতা হলুদ হয় যায় এবং টান দিলে সহজেই উঠে আসে না। উভয় জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত কা-ে পচন ধরে এবং আক্রান্ত কন্দ গুদামজাত করলে সংরক্ষিত অন্যান্য সুস্থ কন্দও সংক্রমিত হয়।

চিত্র: কা- পচা

দমন :
ক্স সুস্থবীজ ও চারা রোপণ করা প্রয়োজন।
ক্স ভিটাভেক্স-২০০, নোইন অথবা ব্যাভিষ্টিন প্রতিলিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।
ক্স আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
ক্স পানি নিষ্কাশনের ভাল ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
ক্স আক্রান্ত জমিতে প্রতিবছর পেঁয়াজ চাষ না করে অন্য ফসলের সঙ্গে শস্যপর্যায় অনুসরণ করতে হবে।
পচনরোগ:
সচরাচর গুদামজাত অবস্থায় পেঁয়াজের পচন দেখা যায়। এগুলো হলো নরম পচন, কালো পচন, শুকনা পচন রোগ।

চিত্র: নরম পচন

দমন :
ক্স পেঁয়াজের সুস্থ কন্দ সংরক্ষণ করা।
ক্স সংরক্ষণাগারে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
ক্স সংরক্ষণের স্থানটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া আবশ্যক।
ক্স মাঝে মাঝে রোগাক্রান্ত কন্দ বেছে বাদ দিতে হবে।
পোকামাকড়
থ্রিপস পোকা
আক্রান্ত পাতা রূপালি রং এর অথবা পাতায় ক্ষুদ্রাকৃতির বাদামী দাগ বা ফোঁটা দেখা যাবে। পাত শুকিয়ে বিকৃত হতে পারে। মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হলে পাতা ঝরে যায় এবং কন্দের আকার ছোট ও বিকৃত হয়।

চিত্র: থ্রিপস পোকা
দমন ঃ
ক্স সাবান মিশ্রিত পানি ৪ গ্রাম/লিটার হারে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
ক্স কন্দ উৎপাদনের ক্ষেত্রে শীতের শেষে যখন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন মোটাসিসটক্স, কেরাতে, নগস অথবা এডমায়ার প্রতিলিটার পানিতে ১ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
ক্স বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত কীটনাশক বর্ণিত হারে ফুল ফোঁটার আগে ¯েপ্র করলে এ পোকার আক্রমণ কমানো যায়। কিন্তু ফুল ফোটার পর পোকার আক্রমন দেখা দিলে বিকাল ৫ টার দিকে স্প্রে করা যেতে পারে।
জাব পোকা:
জাব পোকা দলবদ্ধভাবে পেঁয়াজ পাতার রস চুষে খায়,ফলে গাছ দুর্বল ও হলুদাভ হয়ে যায়। জাব পোকার মল দ্বার দিয়ে যে তরল পদার্থ বের হয় তাকে ‘হানি ডিউ’ বলে যা পাতায় াাটকে গেলে সুটি মোল্ড নামক কালো ছত্রাক জন্মায়। ফলে গাছের সবুজ অংশে সালোক-সংশ্লেষণ ক্রিয়া বিঘিœত হয়।
দমন:
ক্স জমিতে লেডিবার্ড বিটল নামক শিকারি পোকার সংখ্যা বৃদ্ধি করে জাব পোকা দমন করা যায়।
ক্স ম্যালথিয়ন ৫৭ ইসি বা নুভাক্রন ১ লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

লেখক : কৃষিবিদ ড. প্রণয় বালা
পিঁয়াজ উৎপাদন কৌশল সহকারী অধ্যাপক, কৃষিবিজ্ঞান
হাজী লালমিয়া সিটি কলেজ,গোপালগঞ্জ।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১১:৩০পিএম/২৩.২.২০২১ইং)